ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আজ চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ওসমান বিন হাদি হত্যার মামলায় মোট সতেরজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। শিকারের নাম শ্রীমন্ত শরিফ ওসমান বিন হাদি, যিনি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা‑৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছিলেন। অভিযোগপত্রে গুলিবর্ষণ, হত্যাকাণ্ড এবং সহায়তা করার অভিযোগে ১৭ জনকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
দিবি অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বুধবার মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী গুলিবর্ষণ পরিকল্পনা ও সমন্বয় মূলত ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মিরপুরের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরীর (বাপ্পী) নির্দেশে করা হয়।
বাপ্পীর নির্দেশে গুলিবর্ষণকারী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন ছাত্রলীগের প্রাক্তন নেতা ফয়সাল করিম এবং তার সহযোগী আলমগীর আদাবর, যাঁরা থানা যুবলীগের কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। ডিবি জানিয়েছে, ফয়সাল ও আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি; উভয়ই ভারতীয় সীমান্তে পলায়ন করে গেছেন। এছাড়া ফয়সালের ভগ্নিপতি এবং ‘ফিলিপ’ নামে এক অপরাধীও পলাতক অবস্থায় আছেন।
এ পর্যন্ত মোট বারোজন সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শফিকুল ইসলাম উল্লেখ করেন, নতুন প্রমাণ উদ্ভূত হলে অতিরিক্ত অভিযোগপত্র দাখিলের সুযোগ থাকবে এবং অবশিষ্ট সন্দেহভাজনদের অনুসন্ধান চালিয়ে যাবে।
শরিফ ওসমান বিন হাদি রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন এবং ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক হিসেবে ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক ধারার সূচনা করতেন। তিনি প্রায়ই আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের অতীত কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনামূলক মন্তব্য করতেন, যা উভয় সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে রাগের সঞ্চার ঘটাত।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে তার ভূমিকা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচার তাকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের নজরে এনে দেয়। তিনি বহুদিন ধরে গণসংযোগের মাধ্যমে নিজের মতামত প্রচার করছিলেন এবং ঢাকা‑৮ আসনে স্বাধীনভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা করছিলেন।
ডিসেম্বর ১২ তারিখে, জুমার নামাজের পর, পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে রিকশায় যাত্রা করছিলেন ওসমান হাদি। একই সময়ে গুলিবর্ষণকারী গোষ্ঠী তার দিকে গুলি চালায় এবং শিরায় গুলি হিট করে তাকে প্রাণহানি করে। গুলিবর্ষণ শেষে অপরাধীরা মোটরসাইকেল ব্যবহার করে দ্রুত পালিয়ে যায়।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, অভিযোগপত্র দাখিলের পর মামলাটি চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শোনার জন্য নির্ধারিত হয়েছে। আদালত থেকে পরবর্তী শুনানির তারিখ জানানো হলে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে উপস্থিত হতে হবে এবং প্রমাণাদি উপস্থাপন করতে হবে। ডিবি অনুসারে, তদন্ত চলাকালীন অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহের কাজ অব্যাহত থাকবে।
শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর পটভূমি, গুলিবর্ষণ পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে এই অভিযোগপত্রের দাখিল একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে অতিরিক্ত প্রমাণ উদ্ভূত হলে মামলায় নতুন অভিযোগ যুক্ত করা হতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিচালিত হবে।



