ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমমানুয়েল ম্যাক্রোঁ প্যারিসে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক আয়োজন করেন, যেখানে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেন্স্কি এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যুক্ত মিত্র রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এই সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য হল রাশিয়ার সঙ্গে সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর ইউক্রেনের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য যৌথ গ্যারান্টি নির্ধারণ করা।
বৈঠকে ত্রিশেরও বেশি দেশের শীর্ষ রাষ্ট্রপ্রধান ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন, যাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনার মধ্যস্থতাকারী স্টিভ উইটকফ এবং জেডি ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারও অন্তর্ভুক্ত। এই দলকে প্রায়ই ‘ইচ্ছাকৃত মিত্রগোষ্ঠী’ বলা হয়, যা ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্যোগে সমন্বিত সমর্থন প্রদান করে।
জেলেন্স্কি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতার ৯০ শতাংশ অংশ ইতিমধ্যে সমঝোতা হয়েছে বলে জানান। তবে এই সমঝোতার বিশদ এখনও রাশিয়ার কাছে উপস্থাপন করা হয়নি, এবং মস্কোর প্রতিক্রিয়া এখনো অনুকূল নয়।
প্রস্তাবিত চুক্তির বাকি দশ শতাংশ মূলত ভূখণ্ডগত সমঝোতা নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে, যেখানে ইউক্রেনকে কিছু অঞ্চল ত্যাগের প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে মস্কো ডোনেটস্কের প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং লুহানস্কের প্রায় ৯৯ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে রাখে, যা দুটোই ডনবাস শিল্পাঞ্চলের অংশ।
রাশিয়া ফেব্রুয়ারি ২০২২ সালে সম্পূর্ণ আকারে ইউক্রেনে আক্রমণ শুরু করে, এবং সাম্প্রতিক সময়ে মাটিতে অগ্রগতি ধীর হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মস্কো ডনবাসের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ অর্জনের লক্ষ্য থেকে সরে আসতে অনিচ্ছুক, ফলে ভূখণ্ডগত সমঝোতার ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে।
রাশিয়া সাময়িক যুদ্ধবিরতি বা ‘সাময়িক শ্যাটডাউন’ ধারণার প্রতি ধারাবাহিকভাবে বিরোধিতা করে এবং শীতের কঠিন সময়ে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ সরবরাহকে লক্ষ্য করে আক্রমণ বাড়িয়ে দেয়। এই কৌশলটি ইউক্রেনের নাগরিক জীবনের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে চায়।
উত্তরে ইউক্রেন ড্রোন ব্যবহার করে রাশিয়ার পশ্চিম অংশের লিপেতস্ক অঞ্চলে অবস্থিত একটি তেল সংরক্ষণাগারে আক্রমণ চালায়। এই হামলা রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহে ক্ষতি করার পাশাপাশি ইউক্রেনের প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রদর্শনের উদ্দেশ্য বহন করে।
বৈঠকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার এবং ন্যাটো জেনারেল মার্ক রুটে উপস্থিত ছিলেন, যারা ইউক্রেনের নিরাপত্তা গ্যারান্টি ও সামরিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
অংশগ্রহণকারী নেতারা বহুজাতিক শান্তি বাহিনীর গঠন, রাশিয়ার পুনরায় আক্রমণের সম্ভাবনা মোকাবিলায় নিরাপত্তা গ্যারান্টি, এবং ইউক্রেনের সামরিক ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক সহায়তা নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরি করার প্রত্যাশা করেন।
ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে ‘ব্যাকস্টপ’ নামে পরিচিত একটি ধারনা দীর্ঘদিন থেকে আলোচনার বিষয়, যার মূল লক্ষ্য হল যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি পাওয়া। এই প্রতিশ্রুতি ইউক্রেনের দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষার ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।
পরবর্তী ধাপে, সম্মেলনের ফলাফল রাশিয়ার কাছে উপস্থাপন করা হবে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতার পথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যদি চুক্তি সফল হয়, তবে ইউক্রেনের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন দৃঢ় হবে।



