নয়টি জাপানি প্রতিষ্ঠান একটি যৌথ উদ্যোগ গঠন করে ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যাটারি উৎপাদনের জন্য কম খরচে ও উচ্চ দক্ষতার সিস্টেম তৈরি করবে, যার লক্ষ্য এপ্রিল ২০২৬ সালের মধ্যে উৎপাদন শুরু করা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশীয় বাজারে চীনা ও দক্ষিণ কোরিয়ান প্রতিযোগীদের তুলনায় প্রতিযোগিতা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।
উদ্যোগের প্রধান সদস্যদের মধ্যে হিটাচি লিমিটেড, রিকোহ কো., এবং জেটেক কর্পোরেশন (টয়োটা মোটর গ্রুপের অংশ) অন্তর্ভুক্ত, আর ছয়টি অন্যান্য জাপানি কোম্পানি এই প্রকল্পে অংশগ্রহণ করবে। সকল অংশীদারই ব্যাটারি উৎপাদনের মূল প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম সরবরাহে ভূমিকা রাখবে।
বর্তমানে ইভি ব্যাটারি উৎপাদন প্রক্রিয়া বহু ধাপের বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে এবং ৫০টিরও বেশি সরবরাহকারী সংস্থার সমন্বয় প্রয়োজন। ডিজাইন থেকে প্রকৃত উৎপাদন শুরু পর্যন্ত সাধারণত চার থেকে ছয় বছর সময় লাগে। এই দীর্ঘ সময়সীমা বাজারে দেরি এবং খরচ বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
যৌথ উদ্যোগের লক্ষ্য হল এই সময়সীমা দুই থেকে তিন বছরে সংকুচিত করা। দ্রুত উৎপাদন চক্রের মাধ্যমে জাপান চীনা ও দক্ষিণ কোরিয়ান কোম্পানিগুলোর তুলনায় মূল্য ও গুণগত দিক থেকে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা অর্জন করতে চায়। এভাবে দেশের ব্যাটারি বাজারে শেয়ার বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হবে।
প্রকল্পটি একটি মৌলিক উৎপাদন লাইন মডেল তৈরি করবে, যেখানে কারখানা, উৎপাদন যন্ত্রপাতি এবং পরিবহন সরঞ্জাম একত্রে সংযুক্ত থাকবে। এছাড়া এয়ার-কন্ডিশনিং ও অন্যান্য সহায়ক উপাদানের খরচ কমানোর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই সমন্বিত মডেলটি উৎপাদন দক্ষতা ও খরচ নিয়ন্ত্রণে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করবে।
নতুন মডেল থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ব্যাটারি অ্যাসোসিয়েশন ফর সাপ্লাই চেইনের সঙ্গে ভাগ করা হবে, যা প্রায় ২৫০টি দেশীয় ব্যাটারি সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই জ্ঞান ভাগাভাগি শিল্পের সামগ্রিক উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে সহায়তা করবে।
প্রকল্পের মোট অনুমানিক ব্যয় প্রায় ১৮ বিলিয়ন ইয়েন, এবং ২০২৮ সালের দিকে মডেল তৈরির কাজ শুরু হবে বলে পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকারী সহায়তা ও অনুদানের মাধ্যমে এই ব্যয়ের কিছু অংশ পূরণ করা হবে, যা উদ্যোগের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।
বিশ্বব্যাপী ইলেকট্রিক গাড়ির চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রিচার্জেবল ব্যাটারির স্থিতিশীল সরবরাহ অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। ২০১৫ সালে জাপানি নির্মাতারা গ্লোবাল অটোমোটিভ ব্যাটারি বাজারের ৫১.৭ শতাংশ শেয়ার ধরে রেখেছিল, যা দেশের প্রযুক্তিগত ক্ষমতা ও বাজারে প্রভাবের সূচক।
যদি সময়সীমা সংকোচন ও খরচ হ্রাসের লক্ষ্য সফল হয়, তবে জাপান পুনরায় বৈশ্বিক ব্যাটারি বাজারে শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করতে পারে এবং ভবিষ্যতে নতুন প্রযুক্তি ও উৎপাদন মডেলের মাধ্যমে অতিরিক্ত বাজার ভাগ অর্জনের সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে প্রযুক্তি উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক মূল্য প্রতিযোগিতার ঝুঁকি সর্বদা বিদ্যমান, তাই ধারাবাহিক গবেষণা ও নীতি সমর্থন প্রয়োজন।



