ইলেকট্রনিক ড্যান্স মিউজিক (ইডিএম) প্রেমিকদের জন্য বড় খবর। ইউরোপের অন্যতম জনপ্রিয় ফেস্টিভ্যাল টুমরোলেন্ড থাইল্যান্ডের পাটায়া শহরে ডিসেম্বর মাসে প্রথম পূর্ণাঙ্গ এশিয়া সংস্করণ উপস্থাপন করতে যাচ্ছে। আয়োজকরা ১১ থেকে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন দিন ধরে ইভেন্টটি চালু করবে এবং প্রতিদিনের উপস্থিতি ৫০,০০০ এর বেশি হওয়ার প্রত্যাশা করা হয়েছে।
টুমরোলেন্ডের প্রতিষ্ঠা ২০ বছর আগে বেলজিয়ামের দুই ভাই, মানু ও মিশিয়েল বিয়ার্সের উদ্যোগে হয়। তখন থেকে এই ফেস্টিভ্যাল বিশ্বব্যাপী ইডিএম সংস্কৃতির প্রতীক হয়ে উঠেছে, যেখানে প্রতিবারের স্টেজ ডিজাইন, আলোকসজ্জা এবং পার্টি পরিবেশ ভক্তদের মুগ্ধ করে। বেলজিয়ামের মূল সংস্করণে বিশ্বজুড়ে সঙ্গীতপ্রেমীরা একত্রিত হয়ে রাত্রিকালীন উচ্ছ্বাসে মেতে থাকে।
থাইল্যান্ডের পাটায়া সমুদ্রতটে এই ইভেন্টের আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, কারণ দেশটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সঙ্গীত, প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা-ভিত্তিক পর্যটনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার প্রভাব বাড়িয়ে তুলেছে। টুমরোলেন্ডের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, পাটায়ার সমুদ্রসৈকত ও পর্যটন অবকাঠামো এই বৃহৎ ইভেন্টের জন্য আদর্শ স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
টিকিটের প্রি-রেজিস্ট্রেশন ৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে। তিন দিনের সম্পূর্ণ পাসের মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ১২,৫০০ থাই বাত (প্রায় ৪০০ ডলার), আর একক দিনের টিকিটের দাম ৫,১০০ থাই বাত। এই মূল্যে প্রবেশ, স্টেজ ভিউ এবং ফেস্টিভ্যালের সব সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। টিকিটের বিক্রয় দ্রুত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাই আগ্রহী ভক্তদের সময়মতো রেজিস্ট্রেশন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ফেস্টিভ্যালের থিম এবং পারফরম্যান্স লাইন‑আপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে সংগঠকরা ভবিষ্যতে আরও তথ্য শেয়ার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পূর্বে টুমরোলেন্ড এশিয়ার কিছু শহরে একক ইভেন্টের আয়োজন করলেও, এইবার সম্পূর্ণ তিন দিনব্যাপী, বেলজিয়ামের মূল সংস্করণের সমমানের স্কেলে ইভেন্টটি অনুষ্ঠিত হবে।
থাইল্যান্ড এবং টুমরোলেন্ডের মধ্যে পাঁচ বছরের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার মাধ্যমে দেশটি এই ফেস্টিভ্যালের আয় ২১ বিলিয়ন থাই বাত (প্রায় ৬৭৩ মিলিয়ন ডলার) পর্যন্ত বাড়ার আশা করছে। এই চুক্তি উভয় পক্ষের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতার সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং স্থানীয় পর্যটন ও সঙ্গীত শিল্পে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
টুমরোলেন্ডের সিইও ব্রুনো ভ্যানওয়েলসেনার্স উল্লেখ করেছেন, “নতুন মহাদেশে টুমরোলেন্ডের সম্প্রসারণ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা আমরা গভীর সম্মান ও উত্তেজনা সহকারে গ্রহণ করছি। এটি দীর্ঘমেয়াদী গল্পের সূচনা মাত্র।” এই বক্তব্য ফেস্টিভ্যালের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও থাইল্যান্ডের সঙ্গীত বাজারের সম্ভাবনা উভয়ই তুলে ধরেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে থাইল্যান্ডের লাইভ মিউজিক দৃশ্য উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে। গত বছরই ইলেকট্রিক ডেইজি কার্নিভাল ও ক্রিমফিল্ডসের মতো আন্তর্জাতিক ফেস্টিভ্যাল দেশটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, আর অক্টোবর মাসে কেপপ গোষ্ঠী ব্ল্যাকপিঙ্কের বিশ্ব ট্যুরের একটি স্টেজও পাটায়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই ধরনের ইভেন্টগুলো থাইল্যান্ডকে এশিয়ার সঙ্গীত হাবের দিকে ধাবিত করেছে।
স্থানীয়ভাবে, ওয়ান্ডারফ্রুট ফেস্টিভ্যালও দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এটি সঙ্গীত, শিল্প ও টেকসই জীবনের সমন্বয়ে গঠিত একটি ইভেন্ট, যা প্রতি বছর দশ হাজারেরও বেশি দর্শককে আকৃষ্ট করে। ওয়ান্ডারফ্রুটের সাফল্য টুমরোলেন্ডের থাইল্যান্ডে প্রবেশের জন্য একটি ইতিবাচক সূচক হিসেবে কাজ করবে এবং স্থানীয় ফেস্টিভ্যাল সংস্কৃতির সঙ্গে সমন্বয় ঘটাবে।
টুমরোলেন্ডের থাইল্যান্ডে প্রথম এশিয়া সংস্করণ সঙ্গীতপ্রেমী এবং পর্যটকদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফেস্টিভ্যালের বিশাল স্কেল, আন্তর্জাতিক শিল্পীর উপস্থিতি এবং থাইল্যান্ডের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিবেশের সমন্বয় একটি অনন্য সমারোহ গড়ে তুলবে। ইডিএমের উচ্ছ্বাসে মেতে উঠতে ইচ্ছুক যেকোনো ভক্তের জন্য এই ইভেন্টটি মিস করা যায় না; তাই আগাম টিকিট বুকিং এবং ভ্রমণ পরিকল্পনা করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।



