19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকইসরায়েলি সেনাবাহিনী বাফার জোন লঙ্ঘন করে সিরিয়ার কুনেইত্রা প্রদেশে প্রবেশ

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বাফার জোন লঙ্ঘন করে সিরিয়ার কুনেইত্রা প্রদেশে প্রবেশ

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, বাফার জোন অতিক্রম করে সিরিয়ার দক্ষিণে অবস্থিত কুনেইত্রা প্রদেশের সাইদা আল‑গোলান গ্রামে প্রবেশ করেছে। এই অভিযানে ইসরায়েলি বাহিনীর বারোটি সামরিক গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছে এবং সিরিয়ার সার্বভৌমত্বের সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা জানায়, সিরিয়ার প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয় ও ফ্রান্সের প্যারিসে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইসরায়েলি প্রতিনিধিদের সঙ্গে নতুন দফার আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিল। আলোচনার মাঝপথে ইসরায়েলি বাহিনীর এই অনুপ্রবেশ ঘটেছে, যা আলোচনার দ্বিতীয় ও শেষ দিনটি (মঙ্গলবার) গড়ানোর পরিকল্পনা ছিল।

সানার এক সূত্রের মতে, এই ঘটনার পর আলোচনাগুলি পুনরায় শুরু হয়েছে এবং সিরিয়া তার জাতীয় অধিকার পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। সূত্রটি উল্লেখ করে, সিরিয়া আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার ভূখণ্ডগত স্বার্থ রক্ষার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

বাশার আল‑আসাদের দীর্ঘ শাসনের পর থেকে ইসরায়েল গolan মালভূমির বাইরে সিরিয়ার অতিরিক্ত এলাকা দখল করার চেষ্টা বাড়িয়ে তুলেছে। বিশেষ করে কুনেইত্রা প্রদেশে ইসরায়েলি বাহিনী নিয়মিতভাবে ছোটখাটো অনুপ্রবেশ চালিয়ে যাচ্ছে, যেখানে চেকপয়েন্ট স্থাপন, গ্রেপ্তার এবং ভূমি বুলডোজার দিয়ে ধ্বংসের ঘটনা ঘটছে।

এই ধরনের সীমান্ত লঙ্ঘন স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ ও অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যদিও সামরিক হুমকি সাময়িকভাবে কমে এসেছে, ইসরায়েলি বিমানবাহিনী এখনও সিরিয়ার ওপর আকাশীয় আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক আক্রমণে বেসামরিক নাগরিকের ক্ষতি এবং সিরিয়ার সামরিক অবকাঠামোর ধ্বংস ঘটেছে।

আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা প্রজেক্ট (ACLED) অনুযায়ী, গত এক বছরে ইসরায়েল সিরিয়ার ওপর ছয়শতাধিকবার বিমান, ড্রোন এবং আর্টিলারি হামলা চালিয়েছে, যা গড়ে প্রতিদিন দুইটি আক্রমণ সমান। এই পরিসংখ্যান ইসরায়েলি সামরিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা এবং তীব্রতা স্পষ্ট করে।

১৯৭৪ সালের ডিসএনগেজমেন্ট চুক্তি, যা ১৯৭৩ সালের যুদ্ধে ইসরায়েল ও সিরিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তা ইসরায়েল ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। ঐ চুক্তির অধীনে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে একটি বাফার জোন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যার উদ্দেশ্য উভয় পক্ষের সামরিক সংঘাত কমিয়ে আনা।

চুক্তি বাতিলের পর থেকে ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে বাফার জোনের সীমা অতিক্রম করে সিরিয়ার অভ্যন্তরে অগ্রসর হয়েছে। এই প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রেজোলিউশনের বিরোধিতা করে এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলেছে।

একজন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক উল্লেখ করেন, এই ধরনের সীমান্ত লঙ্ঘন মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা জটিল করে তুলবে। তিনি আরও বলেন, সিরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সমন্বয় যদি কার্যকর না হয়, তবে অঞ্চলে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

ইসরায়েলি বাহিনীর এই সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে সিরিয়ার সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে উপস্থাপন করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নকে দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। সিরিয়ার কূটনৈতিক দল দাবি করে, বাফার জোনের অখণ্ডতা রক্ষা করা এবং ইসরায়েলকে তার সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য করা আন্তর্জাতিক শান্তি বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য।

ইসরায়েলি পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি, তবে পূর্বে তারা গolan মালভূমি পুনরুদ্ধারের অধিকার রক্ষার কথা উল্লেখ করেছে। এই বিবৃতি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে প্রশ্ন তুলেছে যে, ইসরায়েল কি বাফার জোনের সীমা পুনরায় সংজ্ঞায়িত করতে চায়, নাকি কেবলমাত্র কৌশলগত সুবিধা অর্জনের জন্য সীমা অতিক্রম করছে।

অঞ্চলীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন, যদি ইসরায়েলি অনুপ্রবেশের হার বৃদ্ধি পায়, তবে সিরিয়ার সামরিক প্রতিক্রিয়া এবং সম্ভাব্য পার্শ্ববর্তী দেশের (যেমন লেবানন ও জর্ডান) জড়িত হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। একই সঙ্গে, রাশিয়ার সিরিয়ার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলি নীতি এই সংঘাতের গতিপথকে প্রভাবিত করতে পারে।

সিরিয়ার কুনেইত্রা প্রদেশের ভূগোলিক অবস্থান গolan উচ্চতার নিকটবর্তী হওয়ায়, এখানে কোনো সামরিক অগ্রগতি উভয় পক্ষের কৌশলগত স্বার্থকে প্রভাবিত করে। বাফার জোনের লঙ্ঘন কেবলমাত্র সীমান্তের নিরাপত্তা নয়, বরং জলবায়ু, কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতিকেও প্রভাবিত করে, কারণ বুলডোজার ব্যবহার করে কৃষি জমি ধ্বংস হওয়ার রিপোর্ট রয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া এখনও গঠিত হচ্ছে, তবে বেশ কিছু দেশ ইতিমধ্যে সিরিয়ার সঙ্গে সমন্বয় করে ইসরায়েলকে বাফার জোনের অখণ্ডতা রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সিরিয়ার সরকার জোর দিয়ে বলেছে, আলোচনার পুনরায় শুরু হওয়া তার কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে তার ভূখণ্ডগত স্বার্থ রক্ষার সংকল্পকে নির্দেশ করে। তিনি যুক্তি দেন, ইসরায়েলি অনুপ্রবেশের পরও কূটনৈতিক পথ অনুসরণ করা অঞ্চলীয় স্থিতিশীলতা বজায় রাখার একমাত্র উপায়।

এই ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা চিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে বাফার জোনের লঙ্ঘন, কূটনৈতিক আলোচনার ব্যাঘাত এবং সামরিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা একসঙ্গে ঘটছে। ভবিষ্যতে কূটনৈতিক সমাধান এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের ভূমিকা এই সংঘাতের বিকাশে মূল চাবিকাঠি হবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments