কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের সীমান্তে মঙ্গলবার মর্টার শেল বিস্ফোরণ ঘটেছে, যার ফলে থাই সেনাবাহিনীর একজন সৈন্য গুলির টুকরায় আহত হয়েছে এবং কম্বোডিয়ার দুইজন সৈন্যও আহত হয়েছে। থাইল্যান্ডের দাবি অনুসারে এই ঘটনা ১০ দিন আগে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।
থাই সেনাবাহিনীর একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উবন রাচাথানি প্রদেশের সীমান্তে কম্বোডিয়ার বাহিনী মর্টার নিক্ষেপ করে থাই সৈন্যকে আঘাত করেছে। থাই কর্তৃপক্ষের মতে, আহত সৈন্যের শারীরিক অবস্থার গুরুতরতা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ঘটনাটিকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মালি সোচিয়াটা একই দিনে জানিয়েছেন, প্রেহ ভিহিয়া প্রদেশে দুইজন কম্বোডীয় সৈন্য আহত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, এবং ঘটনার কারণ হিসেবে একটি আবর্জনা স্তূপের বিস্ফোরণকে উল্লেখ করা হয়েছে।
থাইল্যান্ডের সামরিক বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, কম্বোডিয়ার বাহিনীর এই কাজটি কোনো পরিকল্পিত আক্রমণ নয়, বরং একটি ‘কারিগরি বা অপারেশনাল ভুল’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। থাই সেনাবাহিনী কম্বোডিয়ান বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের সতর্ক করেছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধের আহ্বান জানিয়েছে।
কম্বোডিয়ার পক্ষও থাইয়ের অভিযোগকে প্রত্যাখ্যান করে, বলেছে যে তাদের সৈন্যরা ‘সংগঠন ও শৃঙ্খলা’ সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনকালে দুর্ঘটনাজনিত বিস্ফোরণের শিকার হয়েছে। মালি সোচিয়াটা উল্লেখ করেছেন, থাই ভূখণ্ডে গুলি চালানোর কোনো ইচ্ছা ছিল না এবং ঘটনাটি সম্পূর্ণভাবে দুর্ঘটনা।
দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত বিরোধের ইতিহাস কয়েক দশক পুরনো, এবং গত বছর একাধিকবার সামরিক সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। ২০২৩ সালের শেষের দিকে, তিন সপ্তাহের তীব্র সংঘর্ষের পর ২৭ ডিসেম্বর একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষর করা হয়, যা উভয় পক্ষের জন্য অস্থায়ী শান্তির ভিত্তি তৈরি করে।
মে মাসে একই সীমান্তে থাই সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এক কম্বোডীয় সৈন্য নিহত হয়, যা পরবর্তী মাসগুলোতে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়। সেই ঘটনার পর থেকে সীমান্তে নিয়মিত ছোটখাটো গুলিবর্ষণ এবং পারস্পরিক অভিযোগের ধারাবাহিকতা দেখা যায়।
আঞ্চলিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের সীমান্তে ঘটমান ঘটনা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করে এবং ASEAN-এর শান্তি রক্ষার ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করে। তারা বলেন, উভয় দেশের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাসের ঘাটতি এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের অপ্রতুলতা এই ধরনের দুর্ঘটনা পুনরায় ঘটার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
একজন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন, “যুদ্ধবিরতি চুক্তি যদিও স্বাক্ষরিত হয়েছে, তবে তার কার্যকরী বাস্তবায়ন সীমান্তে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ও পর্যবেক্ষণ ছাড়া কঠিন।” তিনি যোগ করেন, “এ ধরনের ঘটনা উভয় পক্ষকে পুনরায় কূটনৈতিক সংলাপের দরজা খুলে দেয় এবং ত্রৈমাসিক ASEAN নিরাপত্তা মিটিং-এ বিষয়টি উত্থাপিত হওয়া স্বাভাবিক।”
এখন পর্যন্ত থাই ও কম্বোডিয়া উভয়ই নিজেদের অবস্থান দৃঢ়ভাবে বজায় রেখেছে, তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ বাড়ছে যাতে উভয় দেশ দ্রুত একটি যৌথ তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ণয় করে। ASEANের গোপনীয়তা রক্ষার পাশাপাশি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য এই প্রস্তাবটি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা হচ্ছে।
পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে উভয় দেশের কূটনৈতিক মন্ত্রণালয়গুলোকে সীমান্তে অতিরিক্ত পর্যবেক্ষণ ইউনিট স্থাপন, গুলিবর্ষণ রোধে নিয়মিত সমন্বয় সভা এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তির পুনর্বিবেচনা নিয়ে আলোচনা করতে হবে। এই পদক্ষেপগুলো না হলে সীমান্তে পুনরায় সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
সারসংক্ষেপে, কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্তে ঘটিত মর্টার শেল বিস্ফোরণ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ উত্থাপন করেছে, যা উভয় দেশের সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে পুনরায় পরীক্ষা করার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে শান্তি বজায় রাখতে পারস্পরিক সংলাপ, স্বচ্ছ তদন্ত এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর শক্তিশালীকরণ অপরিহার্য।



