হ্যানয়‑এ জাতীয় পরিসংখ্যান অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে ভিয়েতনামের মোট বাণিজ্য $৯৩০ বিলিয়নের ওপর পৌঁছেছে, যা পূর্ববছরের তুলনায় ১৮.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দেশের বাণিজ্য ঘাটতি $২০ বিলিয়ন রেকর্ড করেছে। এই ফলাফল দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারী উভয়ের কার্যক্রমের পারস্পরিক প্রভাবকে তুলে ধরে, যা বাজারের গতি ও নীতিগত দিকনির্দেশনা উভয়েরই গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
মোট বাণিজ্যিক লেনদেনের মধ্যে দেশীয় সেক্টর $২৯.৪ বিলিয়ন ঘাটতি দেখিয়েছে, যেখানে বিদেশি বিনিয়োগকারী সেক্টর, বিশেষ করে কাঁচামাল ও তেল শিল্প, প্রায় $৪৯.৫ বিলিয়ন অতিরিক্ত অর্জন করেছে। এই পার্থক্য দেশীয় উৎপাদন ক্ষমতা ও বিদেশি মূলধনের প্রবাহের ভারসাম্যকে নির্দেশ করে, যা নিকট ভবিষ্যতে নীতি সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে তুলতে পারে।
ডিসেম্বরে রপ্তানি $৪৪ বিলিয়ন পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নভেম্বরের তুলনায় ১২.৬ শতাংশের ঊর্ধ্বগতি। এ সময়ে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো $৯.৭ বিলিয়ন রপ্তানি করেছে, যা ১৭.৯ শতাংশ বাড়তি, আর বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো $৩৪.৩ বিলিয়ন রপ্তানি করে ১১.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পার্থক্য রপ্তানি কাঠামোর পরিবর্তন এবং বিদেশি মূলধনের বাজারে আধিপত্যকে স্পষ্ট করে।
চতুর্থ ত্রৈমাসিকে মোট রপ্তানি $১২৬.৩ বিলিয়ন হয়েছে, যা বছর-ও-বর্ষে ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যদিও ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে ১.৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। পুরো অর্থবছরে রপ্তানি ১৭ শতাংশ বাড়ে $৪৭৫ বিলিয়নে পৌঁছেছে, যা দেশের বাণিজ্যিক শক্তি ও আন্তর্জাতিক চাহিদার সমন্বয়কে প্রতিফলিত করে।
দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর রপ্তানি $১০৮ বিলিয়নে নেমে এসেছে, যা ৬.১ শতাংশ হ্রাস এবং মোট রপ্তানির ২২.৭ শতাংশ ভাগে সীমাবদ্ধ। অন্যদিকে, বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো $৩৬৭.১ বিলিয়ন রপ্তানি করে ২৬.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে মোট রপ্তানির ৭৭.৩ শতাংশ দখল করেছে। এই প্রবণতা বিদেশি মূলধনের বাড়তি অংশগ্রহণ এবং দেশীয় উৎপাদনের তুলনামূলকভাবে ধীরগতি নির্দেশ করে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৩৬টি পণ্য গোষ্ঠী এককভাবে $১ বিলিয়নের বেশি রপ্তানি করেছে, যা মোট রপ্তানির ৯৪ শতাংশ গঠন করে। এদের মধ্যে আটটি গোষ্ঠী $১০ বিলিয়নের উপরে রপ্তানি করেছে, যা মোট রপ্তানির ৭০.২ শতাংশের সমান। এই গোষ্ঠীগুলোতে উচ্চ মূল্য সংযোজনের পণ্য ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক পণ্য অন্তর্ভুক্ত, যা দেশের রপ্তানি কৌশলের মূল ভিত্তি।
প্রক্রিয়াজাত শিল্প পণ্য রপ্তানিতে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে, মোট $৪২১.৫ বিলিয়ন রপ্তানি করে ৮৮.৭ শতাংশ শেয়ার অর্জন করেছে। এই উচ্চ অনুপাত ভিয়েতনামের শিল্পায়ন ও মূল্য সংযোজনের স্তরকে তুলে ধরে, যা রপ্তানি আয় বৃদ্ধি ও বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ।
কৃষি ও বনসম্পদ থেকে রপ্তানি $৩৯.৫ বিলিয়ন, সামুদ্রিক পণ্য থেকে $১১.৩ বিলিয়ন এবং জ্বালানি ও খনিজ থেকে $২.৮ বিলিয়ন হয়েছে। যদিও এই সেক্টরগুলো মোট রপ্তানির তুলনায় ছোট অংশ, তবু তারা বৈচিত্র্য ও বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক। বিশেষ করে সামুদ্রিক পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি আন্তর্জাতিক চাহিদা ও ভিয়েতনামের সমুদ্র সম্পদের ব্যবহারকে নির্দেশ করে।
ইম্পোর্টের ক্ষেত্রে, ডিসেম্বরে মোট $৪৪.৭ বিলিয়ন পণ্য আমদানি করা হয়েছে, যা মাসিক ভিত্তিতে ১৭.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো $১৪.৬ বিলিয়ন আমদানি করেছে, যা ২৮.৫ শতাংশ বাড়তি, আর বিদেশি বিনিয়োগকারী সেক্টর $৩০.১ বিলিয়ন আমদানি করে ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমদানি বৃদ্ধির মূল কারণ কাঁচামাল ও প্রযুক্তিগত পণ্যের চাহিদা, যা উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।
এই পরিসংখ্যানগুলো থেকে স্পষ্ট যে, বিদেশি মূলধনের প্রবেশ এবং প্রক্রিয়াজাত শিল্পের সম্প্রসারণ ভিয়েতনামের বাণিজ্যিক ভারসাম্যকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে। তবে দেশীয় উৎপাদনের তুলনামূলক ধীরগতি এবং আমদানি বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত মুদ্রা ঝুঁকি ভবিষ্যতে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়াতে পারে। নীতিনির্ধারকদের উচিত দেশীয় শিল্পকে প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে সমর্থন করা, যাতে রপ্তানি কাঠামো আরও বৈচিত্র্যময় ও টেকসই হয়।



