ঢাকা, ৬ জানুয়ারি ২০২৬ – দেশের শীর্ষ আর্থিক উপদেষ্টা আজ একটি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, বর্তমান সময়ে ভারতীয় পার্শ্বের সঙ্গে বাড়তি উত্তেজনা বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবাহকে ব্যাহত করবে না। তিনি উল্লেখ করেন, সীমান্ত সংলাপ ও বাণিজ্যিক চুক্তি ইতিমধ্যে শক্তিশালী ভিত্তিতে স্থাপিত, ফলে সাময়িক রাজনৈতিক উত্তেজনা দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হবে না।
সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত নিরাপত্তা, জলসম্পদ ভাগাভাগি এবং বাণিজ্য নীতি নিয়ে কিছু মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। এই বিষয়গুলো মিডিয়ায় আলোচিত হওয়ায় বাজারে অস্থিরতার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে, তবে সরকারী সূত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে যে কোনো ধরণের শুল্ক বৃদ্ধি বা বাণিজ্যিক বাধা আরোপের পরিকল্পনা নেই।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যিক সম্পর্ক গত পাঁচ বছরে ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এই প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। রপ্তানি-আমদানি পরিমাণে কোনো উল্লেখযোগ্য হ্রাসের পূর্বাভাস নেই, কারণ উভয় দেশের শিল্পক্ষেত্রের পারস্পরিক নির্ভরতা উচ্চ। বিশেষ করে রপ্তানি পণ্য হিসেবে রেডি-গুডস, টেক্সটাইল এবং কৃষি পণ্যের চাহিদা স্থিতিশীল।
বাজার বিশ্লেষকরা ইতিমধ্যে এই মন্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, বিনিয়োগকারী সম্প্রদায়ের মনোভাব স্থিতিশীল থাকবে। বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ (FDI) প্রবাহে কোনো বাধা না থাকায়, নতুন প্রকল্পের অনুমোদন ও সম্পাদনায় বিলম্বের সম্ভাবনা কম। বিশেষ করে রেডি-গুডস সেক্টর ও তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পে চলমান বিনিয়োগের পরিকল্পনা অপরিবর্তিত রয়ে যাবে।
মুদ্রা বাজারে টাকার মানে সামান্য ওঠানামা দেখা গেলেও, উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রা নীতি ও রিজার্ভ ম্যানেজমেন্ট যথাযথভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তাই টাকার মানে দীর্ঘমেয়াদী অবনতি বা মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি কম। বর্তমান মুদ্রাস্ফীতি হার লক্ষ্যকৃত সীমার মধ্যে রয়েছে এবং তা নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পদক্ষেপের প্রয়োজন নেই।
বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে, ভারতীয় বাজারে রপ্তানি করা পণ্যের জন্য কোনো শুল্ক বাড়ানো না হওয়ায় রপ্তানিকারকদের আয় স্থিতিশীল থাকবে। একই সঙ্গে, ভারত থেকে আমদানি করা কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতির দামেও কোনো অপ্রত্যাশিত বৃদ্ধি প্রত্যাশিত নয়। ফলে উৎপাদন খরচে বড় ধরনের পরিবর্তন না ঘটিয়ে শিল্পখাতের লাভজনকতা বজায় থাকবে।
বহিরাগত আর্থিক সহায়তা ও রেমিট্যান্সের প্রবাহেও কোনো বাধা দেখা যাবে না। বাংলাদেশে কাজ করা বিদেশি কর্মীদের থেকে প্রাপ্ত অর্থপ্রবাহ দেশের মুদ্রা রিজার্ভে ইতিবাচক অবদান রাখে, এবং এই প্রবাহের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে সরকারী দৃষ্টিভঙ্গি।
ঝুঁকি বিশ্লেষণে উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, যদিও রাজনৈতিক উত্তেজনা স্বল্পমেয়াদে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে, তবে তা আর্থিক নীতি, বাণিজ্যিক চুক্তি এবং বিনিয়োগ পরিবেশের দৃঢ় ভিত্তি দ্বারা শোষিত হবে। তাই সামগ্রিক অর্থনৈতিক সূচকগুলো স্থিতিশীল থাকবে এবং কোনো বড় ধাক্কা না পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
সারসংক্ষেপে, বর্তমান উত্তেজনা দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে বাণিজ্যিক সম্পর্কের দৃঢ়তা ও বিনিয়োগের আকর্ষণ বজায় রাখবে। সরকার ও নীতিনির্ধারকরা এই অবস্থাকে কাজে লাগিয়ে বাণিজ্যিক নীতি ও অবকাঠামো উন্নয়নে মনোযোগ বাড়াতে পারেন, যাতে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনার প্রভাব কমে।
অর্থ উপদেষ্টার এই মন্তব্য দেশের ব্যবসা সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করেছে এবং বাজারে ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখতে সহায়তা করবে। আগামী মাসগুলোতে বাণিজ্যিক ডেটা ও মুদ্রা সূচকের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা হবে, তবে বর্তমান নীতি ও কৌশল অনুযায়ী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে চলবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



