ঢাকা শহরের শাহবাগে আজ সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে ‘ন্যায়ের মার্চ’ নামে একটি প্রতিবাদী শিবির শুরু হয়। অংশগ্রহণকারীরা শারিফ ওসমান হাদির হত্যার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ন্যায়বিচার চায়। আন্দোলনটি ইনকিলাব মঞ্চের নেতৃত্বে পরিচালিত হয় এবং দশটি পিক-আপ ভ্যান ও ট্রাকের সঙ্গে শুরু হয়।
মার্চের পথ নির্ধারিত হয়েছে বিজ্ঞান ল্যাব, সিটি কলেজ, মোহাম্মদপুর, মিরপুর‑১০, উত্তরা, বসুন্ধরা, বাদ্দা, রামপুরা ও জাত্রাবাড়ি পার হয়ে সন্ধ্যায় হাদি চত্বরেই সমাপ্ত হবে। এই রুটটি শহরের বিভিন্ন অংশকে স্পর্শ করে, যা ঘটনার ব্যাপক জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে লক্ষ্যবস্তু।
ইনকিলাব মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল জাবের শিবিরের সূচনায় উল্লেখ করেন, হাদির হত্যার দায়িত্বশীলদের দ্রুত বিচার না হলে ন্যায়বিচার অর্জন করা সম্ভব নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ফয়সাল করিম মাসুদ একা হাদির হত্যার মূল দায়িত্বে নয়; তিনি কেবল একটি ছোট অংশের দায়িত্বে।
আবদুল্লাহ আল জাবের আরও বলেন, যদি পুলিশ কোনো চার্জ শিটে বড় দায়িত্বশীলদের নাম না তুলে ধরে, তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। তিনি সরকারকে আহ্বান জানান, জুলাই উত্থানে এবং হাদির হত্যায় জড়িত সকলকে, যার মধ্যে শীখ হাসিনা সহ অন্যান্য ব্যক্তিরাও অন্তর্ভুক্ত, ন্যায়বিচারের আওতায় আনতে।
মার্চের সময় অংশগ্রহণকারীরা “দিল্লি নয় ঢাকা, ঢাকা, ঢাকা” এবং “হাদির রক্ত বৃথা যাবে না” ইত্যাদি স্লোগান গাইতে থাকে। এই স্লোগানগুলো হাদির পরিবার ও সমর্থকদের ন্যায়ের প্রতি দৃঢ় সংকল্পকে প্রকাশ করে।
ইনকিলাব মঞ্চের চারটি মূল দাবি প্রকাশ করা হয়েছে। প্রথমত, হাদির হত্যাকারীদের, যার মধ্যে পরিকল্পনা, সহায়তা, পালিয়ে যাওয়া ও আশ্রয় প্রদানকারী অন্তর্ভুক্ত, পরবর্তী ২৪ দিনের মধ্যে ট্রায়াল সম্পন্ন করা।
দ্বিতীয়ত, বর্তমানে বাংলাদেশে বসবাসরত সব ভারতীয় নাগরিকের কাজের অনুমতি বাতিল করা। তৃতীয় দাবি হল, যদি ভারতীয় সরকার হাদির হত্যার সন্দেহভাজনদের প্রত্যর্পণ না করে, তবে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়ের করা।
চতুর্থ দাবি অনুযায়ী, হাদির হত্যার সাথে যুক্ত সকলকে, বিশেষ করে যারা জুলাই উত্থানে অংশগ্রহণ করেছিল, তাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। এই দাবিগুলো দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।
প্রতিবাদী শিবিরের অংশগ্রহণকারীরা উল্লেখ করেন, হাদির হত্যার তদন্তে এখনো স্পষ্ট দায়িত্বশীলদের নাম প্রকাশিত হয়নি, ফলে জনগণের মধ্যে অবিশ্বাস বাড়ছে। তারা দাবি করেন, সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।
অধিকাংশ অংশগ্রহণকারী ইনকিলাব মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত, তবে অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠীর কিছু সদস্যও উপস্থিত ছিলেন। যদিও শিবিরটি কোনো পার্টি সমর্থন হিসেবে নয়, তবু এটি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রতিফলন।
মার্চের শেষে হাদি চত্বরের কেন্দ্রে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা হাদির পরিবারকে সমর্থন জানিয়ে হাততালি দিয়ে সম্মান জানায়। সমাবেশে হাদির পরিবারের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন না, তবে তাদের পক্ষ থেকে লিখিত বার্তা শেয়ার করা হয়।
এই প্রতিবাদী শিবিরের ফলে সরকারী দপ্তরগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে, এবং স্থানীয় পুলিশ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েন করেছে। কোনো বিশাল অশান্তি বা হিংসাত্মক ঘটনা রিপোর্ট করা হয়নি।
বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন, হাদির হত্যার মামলায় দ্রুত ন্যায়বিচার না হলে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে পারে এবং ভবিষ্যতে আরও প্রতিবাদী আন্দোলন দেখা দিতে পারে। তবে সরকার এখনও স্পষ্ট কোনো পদক্ষেপ ঘোষণা করেনি।
ইনকিলাব মঞ্চের দাবি ও শিবিরের প্রভাবের ওপর সরকারী প্রতিক্রিয়া আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রকাশিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময়ে হাদির পরিবার ও সমর্থকরা ন্যায়বিচারের জন্য দৃঢ়ভাবে অপেক্ষা করছেন।



