দ্বিতীয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য জামায়াতে ইসলামী (জি.আই.) ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনার ফল এখনও নির্ধারিত হয়নি। দুই দলের শীর্ষ নেতার হস্তক্ষেপে পুনরায় আলোচনা শুরু হলেও, ৩০০ আসনের সমঝোতা এখনও চূড়ান্ত রূপ পায়নি।
আসন বণ্টন সংক্রান্ত অসন্তোষের কারণ হল, ইসলামী আন্দোলন প্রথম আলোচনায় শতাধিক আসনের দাবি করে, অন্য দলগুলিও তুলনামূলকভাবে উচ্চ চাহিদা প্রকাশ করে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এন.সি.পি.) সমঝোতায় যুক্ত হওয়ার ফলে, জি.আই. ও ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি দলের মধ্যে আসন সংখ্যা নিয়ে অস্থিরতা দেখা দেয়।
আলোচনার প্রাথমিক পর্যায়ে, কিছু আসনের জন্য সকল জোটের সম্মিলিত জরিপের পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তবে তা এখনো সম্পন্ন হয়নি। ফলে, সমঝোতা না হওয়া আসনগুলোতে এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে এবং চূড়ান্ত সমঝোতার জন্য অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে।
দ্বিতীয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থীর নামের তালিকা (মনোনয়নপত্র) জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৯ ডিসেম্বর নির্ধারিত। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত থাকবে, যা জোটভুক্ত দলগুলোর ওপর সমঝোতা দ্রুত শেষ করার চাপ সৃষ্টি করেছে।
২৮ ডিসেম্বর আট দলের সমন্বয়ে একটি সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামের আমির শফিকুর রহমান জানালেন, এন.সি.পি. এবং অবসর কর্নেল অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এল.ডি.পি.) সমঝোতায় যুক্ত হয়েছে। এতে সমঝোতায় থাকা দলের সংখ্যা আট থেকে দশে বৃদ্ধি পায়।
এরপর, পরে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এ.বি. পার্টি) যুক্ত হলে, জোটের সংখ্যা একাদশে পৌঁছায়। নতুন সদস্যদের যোগদানের ফলে আসন বণ্টনের পুনর্গণনা শুরু হয় এবং সমঝোতার নতুন হিসাব‑নিকাশ চালু হয়।
সমঝোতার বর্তমান অবস্থা অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামী ২৭৬টি আসনে, ইসলামী আন্দোলন ২৬৮টি আসনে প্রার্থী তালিকা জমা দিয়েছে। এদিকে, এন.সি.পি. ৪৪টি, এ.বি. পার্টি ৫৩টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৯৪টি, খেলাফত মজলিস ৬৮টি, এল.ডি.পি. ২৪টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ১১টি, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ৬টি, জাগপা ৩টি এবং বিডিপি ২টি আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক রোববার প্রথম আলোকে জানান, আসন বণ্টন সংক্রান্ত পূর্বের সংকট সম্পূর্ণরূপে সমাধান হয়নি। সমঝোতা না হওয়া কিছু আসনে সকল দলের সম্মিলিত জরিপের পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তবে তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
মামুনুল হক আরও উল্লেখ করেন, সমঝোতার বিষয়টি চূড়ান্ত হতে এখনও কিছুটা সময় লাগবে। তবে সকল জোটের সদস্যদের কাছ থেকে দ্রুত সমঝোতা চাওয়া হচ্ছে, যাতে নির্বাচনের পূর্বে প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত করা যায়।
এই পরিস্থিতিতে, জোটের মধ্যে থাকা দলগুলোকে আসন বণ্টন পুনরায় আলোচনা করে, পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সমঝোতা পৌঁছাতে হবে। সমঝোতা না হলে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সময়সূচি ও কৌশলগত পরিকল্পনা প্রভাবিত হতে পারে।
অবশেষে, নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে আসন বণ্টনের চূড়ান্ত রূপ পাওয়া না গেলে, কিছু দল পৃথকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে, যা জোটের ঐক্যকে দুর্বল করতে পারে এবং ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।



