জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) নির্বাচনের ভোটকেন্দ্রগুলোতে ৬ জানুয়ারি একাধিক সাংবাদিককে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ও ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগসহ কয়েকটি কেন্দ্রেই ঘটেছে। সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহের জন্য কেন্দ্রের ভিতরে প্রবেশের অনুমতি চেয়েছিলেন, তবে পোলিং এজেন্টদের হস্তক্ষেপে তা সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা জানান, ভোটকেন্দ্রগুলোতে ছাত্রদলের সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের পোলিং এজেন্টরা সক্রিয়ভাবে ভোটের আবেদন জানাচ্ছিলেন। এ সময়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে বা প্রিজাইডিং অফিসারের সঙ্গে কথা বলতে চাওয়া হলে এজেন্টরা বাধা সৃষ্টি করেন।
একজন সাংবাদিকের মতে, পোলিং এজেন্টরা কেন্দ্রের দরজা বন্ধ করে, প্রবেশের অনুমতি না দিয়ে সরাসরি প্রবেশে বাধা দেন। এ সময় ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়, যা সাংবাদিকের কাজের স্বাভাবিক অংশকে ব্যাহত করে। ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হলেও, ঘটনাটি সাংবাদিকদের কাজের পরিবেশকে অস্থির করে তুলেছে।
সাংবাদিকরা উল্লেখ করেন, ভোটকেন্দ্রের প্রবেশের অনুমতি আইনগতভাবে নিশ্চিত, তবে পোলিং এজেন্টদের অনুপযুক্ত আচরণ এই অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলেছে। প্রিজাইডিং অফিসারের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এজেন্টরা ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে, ফলে সাংবাদিককে শারীরিকভাবে বাধা দিতে হয়। এই ধরনের হস্তক্ষেপ নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ করে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক কামারুজ্জামান কায়েস জানান, “কেন্দ্রে সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি আছে। এ তথ্য জানার পর প্রিজাইডিং অফিসারের বক্তব্য নিতে গেলে ছাত্রদলের পোলিং এজেন্টরা আমার ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং আমাকে বাধা দেন।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি পোলিং এজেন্টদের আচরণকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি এই ঘটনার ওপর তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে, এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য সকল ভোটকেন্দ্রের প্রবেশের অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি, বিশেষ করে গণমাধ্যমের জন্য।
শিক্ষা ক্ষেত্রের নির্বাচনগুলোতে ছাত্রদল ও স্বাধীন মিডিয়ার মধ্যে সম্পর্ক প্রায়ই জটিল হয়ে ওঠে। ভোটের ফলাফল ও প্রক্রিয়ার ওপর জনমত গঠনে মিডিয়ার ভূমিকা অপরিহার্য, তাই এ ধরনের বাধা নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতি করে।
সাংবাদিকদের জন্য একটি ব্যবহারিক পরামর্শ: ভোটকেন্দ্রের প্রবেশের অনুমতি চাওয়ার সময় লিখিত অনুমোদন নথি সংগ্রহ করা এবং কোনো বাধা বা হস্তক্ষেপের ঘটনা রেকর্ড করা উচিত। এভাবে ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় প্রমাণ সরবরাহ করা সহজ হবে।
আপনার মতামত কী? বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এবং এ ধরনের ঘটনা রোধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত?



