মারিয়া কোরিনা মাচাদো, ভেনেজুয়েলার প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী, ৩ জানুয়ারি তার দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মিত্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য প্রকাশ করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের পর নিকোলাস মাদুরোর শাসনকে শেষের দিকে ধাক্কা দিয়েছে বলে দাবি করেন।
মাচাদো এই দিনকে “ঐতিহাসিক” বলে বর্ণনা করেন, যেখানে মার্কিন অভিযান মাদুরোর জেলকে ভেঙে স্বৈরাচারকে পরাজিত করেছে। তিনি এটিকে ভেনেজুয়েলা ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উপস্থাপন করেন।
মাচাদোর পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি চাহিদার প্রধান সরবরাহ কেন্দ্র হয়ে উঠবে। তিনি দেশীয় তেল ও গ্যাস সম্পদকে আন্তর্জাতিক বাজারে উন্মুক্ত করে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
এই কৌশলগত পরিবর্তনের জন্য মাচাদো ভেনেজুয়েলার বাজারের স্বচ্ছতা বাড়িয়ে অপরাধমূলক নেটওয়ার্কের কার্যক্রমকে দমন করতে চান, যা তিনি লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
মাচাদো একই সঙ্গে দেশের শরণার্থীদের প্রত্যাবর্তন এবং শক্তিশালী জাতি গঠনের স্বপ্ন প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তার দল সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ ভোট পেতে পারে এবং তিনি যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরে কাজ শুরু করতে প্রস্তুত।
বর্তমান interim প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের প্রতি মাচাদোর তীব্র সমালোচনা রয়েছে। তিনি রদ্রিগেজকে নিপীড়ন, দুর্নীতি ও মাদক পাচারের শিকারদের অন্যতম হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং তার শাসনকে অবৈধ বলে ঘোষণা করেন।
যদিও যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন রদ্রিগেজের সঙ্গে কাজ করার ইঙ্গিত দিয়েছে, মাচাদো তার অবস্থান পরিবর্তন করেননি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে মতবিরোধের কথা উল্লেখ করে, নিজের রাজনৈতিক অবস্থানকে দৃঢ় রেখেছেন।
গত শনিবার মার্কিন ডেল্টা ফোর্সের দল কারাকাসে নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীর ওপর অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের কারাগারে স্থানান্তরিত করেছে। মাদুরো আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও মাচাদো এটিকে গণতন্ত্রের পথে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।
মাচাদোর মতে, মাদুরোর গ্রেপ্তার ভেনেজুয়েলায় স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটাবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দেশের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে উদ্বুদ্ধ করবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শক্তিশালী জ্বালানি অংশীদারিত্বের ভিত্তি গড়ে তোলার পরিকল্পনা পুনর্ব্যক্ত করেন।
বিরোধী দৃষ্টিকোণ থেকে, রদ্রিগেজের সমর্থকরা মাচাদোর দাবি ও পরিকল্পনাকে অস্থিরতা সৃষ্টিকারী হিসেবে দেখছেন। তারা যুক্তি দেন, দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে হঠাৎ জ্বালানি মিত্রের দিকে ঝুঁকানো বাস্তবিকভাবে সম্ভব নয়।
বিশ্লেষকরা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করছেন। তারা উল্লেখ করেন, যদি মাচাদো স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারেন, তবে তার দল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে পারে এবং বিদেশি মূলধন প্রবেশের সম্ভাবনা বাড়বে। অন্যদিকে, নির্বাচনের ফলাফল অনিশ্চিত থাকলে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে অস্থিরতা বাড়তে পারে।
সংক্ষেপে, মাচাদোর ঘোষিত পরিকল্পনা ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি কৌশলের কেন্দ্রে রূপান্তর করার লক্ষ্যে কেন্দ্রীভূত। তার রাজনৈতিক পুনরায় প্রবেশ, শরণার্থীদের প্রত্যাবর্তন এবং স্বচ্ছ নির্বাচনকে ভিত্তি করে দেশকে পুনর্গঠন করার ইচ্ছা দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নতুন পর্যায়ের সূচনা করতে পারে।



