সেন রুইজ, ওয়ুলভসের প্রধান কিটম্যান, তার অফিসের দরজা সর্বদা খোলা রাখেন এবং কোনো ডেস্ক বা কম্পিউটার ব্যবহার করেন না। প্রশিক্ষণ মাঠের অফিসে সোনার শার্টের ঝলমলে রোডে ঝুলে থাকে, দু’টি প্রিন্টিং মেশিন কোণায় বসে, আর প্রতিটি দেয়ালে শার্ট, ব্যাজ, নাম ও নম্বরের জন্য শেলফ ও পিগিয়নহোল ভরা থাকে। রুইজের দলটিতে সহকারী ব্যারি পাইপার, পার্ট‑টাইম কর্মী ইয়ান রাউন্ড এবং স্টিভ হুপার অন্তর্ভুক্ত, যারা শুধু শার্ট সাজিয়ে না দিয়ে পুরো কিট প্রস্তুতির দায়িত্বে আছেন।
রুইজ আগস্ট মাসে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে ২০ বছরের বেশি সময় কাজ করার পর ওয়ুলভসের স্যার জ্যাক হ্যাওয়ার্ড কমপ্লেক্সে যোগ দেন। তিনি এখনও শর্টস পরিধান করেন, যা তার স্বতন্ত্র স্টাইলের অংশ। দলের প্রথম প্রিমিয়ার লিগ জয় ২৪ ঘণ্টা দূরে, আর ৪৮ ঘণ্টা আগে ওল্ড ট্রাফোর্ডে সম্মানজনক ড্রের পর দলটি প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। রুইজের লক্ষ্য হল প্রতিটি খেলোয়াড়ের জন্য দুইটি কিট সেট প্রস্তুত রাখা, যাতে ম্যাচের আগে কোনো ঘাটতি না থাকে।
প্রতিদিন ৫০টির বেশি শার্টে ব্যাজ, নাম ও নম্বর লাগানো হয়, যা মৌসুমের শুরুতে অনুমোদিত তালিকা অনুযায়ী করা হয়। শার্টের কলার থেকে নামের ড্রপ মাপতে তিনি ছোট একটি কার্ডের টুকরা ব্যবহার করেন, এবং অক্ষরগুলোকে চোখে দেখে কেন্দ্রীভূত করেন। এই পদ্ধতি তিনি নিজে প্রথমে দেখেননি, তবে অফিসে আগত থেকেই তা চালু ছিল এবং তিনি তা অব্যাহত রেখেছেন।
ওয়ুলভসের ডিফেন্ডার ইয়ারসন মোস্কেরারও রুইজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে; মোস্কেরা রুইজকে দেখে দ্রুতই আলাপের জন্য থামিয়ে নেয়। একই সময়ে, ক্লাবের আন্ডার‑২১ খেলোয়াড়দের মধ্যে একজন অ-ফুটবল বিষয় নিয়ে রুইজের পরামর্শ চায়, যা রুইজকে দলের বাইরে ব্যক্তিগত স্তরে সংযুক্ত করে। তিনি এই সম্পর্কগুলোকে পরিবারসদৃশ বলে উল্লেখ করেন, যেখানে তিনি খেলোয়াড়দের সাফল্য ও সমস্যার সময় পাশে থাকেন।
রুইজের কাজের পরিধি শুধুমাত্র শার্ট সাজানো নয়; তিনি গলাকার্ডিয়ান জোসে সা’র নাম গলাকার্ডিয়ান শার্টে যুক্ত করেন এবং প্রতিটি কিটের গুণগত মান নিশ্চিত করেন। তার দলটি প্রতিটি শার্টের ব্যাজ, নাম ও নম্বরের সঠিকতা যাচাই করে, যাতে ম্যাচের দিন কোনো ত্রুটি না থাকে। এই সূক্ষ্ম কাজের ফলে খেলোয়াড়রা মাঠে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পারফর্ম করতে পারে।
ওয়ুলভসের কিট প্রস্তুতি প্রক্রিয়া রুইজের নেতৃত্বে একটি সুসংগঠিত সিস্টেমে রূপান্তরিত হয়েছে, যেখানে প্রতিটি ধাপের দায়িত্ব স্পষ্ট এবং সময়মতো সম্পন্ন হয়। রুইজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত সংযোগের মাধ্যমে দলটি কিটের গুণগত মান ও মনোবল দুটোই বজায় রাখে। ভবিষ্যতে দলটি আরও বড় সাফল্য অর্জনের পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য এই পেছনের কাজটি অপরিহার্য বলে রুইজ আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন।



