ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির হত্যার মামলায় দ্রুত ন্যায়বিচার চেয়ে, আজ বিকাল ১১টায় ঢাকার শাহবাগ থেকে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ রওনা করেছে। অংশগ্রহণকারীরা শহরের বিভিন্ন পয়েন্ট অতিক্রম করে সন্ধ্যায় আবার শাহবাগের হাদি চত্বরে ফিরে এসে প্রতিবাদ সমাপ্ত করবে।
মার্চের রুটটি শাহবাগ থেকে শুরু হয়ে সায়েন্সল্যাব-সিটি কলেজ, মোহাম্মদপুরের তিন রাস্তার মোড়, রায়েরবাজার‑বদ্ধভূমি, মিরপুর‑১০, উত্তরা, বাড্ডা, রামপুরা এবং যাত্রাবাড়ি অতিক্রম করে শেষ গন্তব্যে পৌঁছাবে। এই পথচলা শহরের মূল সড়ক ও জনবহুল এলাকাগুলোকে স্পর্শ করে, ফলে রাস্তায় চলাচলকারী গাড়ি ও পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মূল দাবিগুলো স্পষ্ট: হাদির হত্যার সঙ্গে যুক্ত সব সন্দেহভাজন—খুনি, পরিকল্পনাকারী, সহায়তাকারী, পালাতে সাহায্যকারী এবং আশ্রয়দাতা—কে ২৪ দিনের মধ্যে আদালতে উপস্থাপন করা, এবং তাদের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত নিশ্চিত করা। এছাড়া, বাংলাদেশে বসবাসরত সব ভারতীয় কর্মীর ওয়ার্ক পারমিট বাতিলের দাবি, এবং ভারতকে আশ্রয়প্রাপ্ত সন্দেহভাজনদের ফেরত না দিলে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়েরের ইঙ্গিতও প্রকাশ করা হয়েছে।
মার্চে মোট দশটি পিক‑আপে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। তারা ‘Justice For Hadi’, ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ ইত্যাদি লেবেলযুক্ত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে রাস্তায় নেমে দাঁড়িয়েছেন। অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগানও উচ্চারণ করেন, যার মধ্যে রয়েছে হাদির ভাইয়ের রক্তকে বৃথা না যাওয়ার দাবি, ন্যায়বিচারের জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞা এবং হাদির স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে সরকারের প্রতি আহ্বান।
স্লোগানগুলো মূলত হাদির পরিবারের কষ্ট, হত্যার অপরাধের নিন্দা এবং সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। অংশগ্রহণকারীরা লাল‑সবুজের পতাকাকে ইনকিলাবের পতাকার সঙ্গে তুলনা করে, এবং ঢাকা‑দিল্লি সম্পর্কিত রাজনৈতিক রঙের তুলনা করে না, বরং ন্যায়বিচারের ওপর জোর দেন।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যার মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছ থেকে তথ্য পাবার আশায় আজ বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে একটি ব্রিফিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম উপস্থিত থাকবেন এবং হাদির মামলায় চার্জশিট জারি হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানাবেন বলে অনুমান করা হচ্ছে।
ডিএমপি কর্তৃক প্রকাশিত বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হাদির হত্যার তদন্তে নতুন প্রমাণ সংগ্রহের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাওয়া হবে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, মামলায় জড়িত সকল সন্দেহভাজনকে দ্রুত গ্রেফতার করে আদালতে উপস্থাপন করার জন্য বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।
হাদির হত্যার ঘটনা গত বছরই ঘটেছিল, যেখানে শিকারের পরিবার ন্যায়বিচার চেয়ে দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষা করে আসছে। এই মামলায় সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বিরুদ্ধে পূর্বে গ্রেফতার করা হলেও, শেষ পর্যন্ত কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, ফলে জনমত ক্রমশ উত্তেজিত হয়ে উঠেছে।
সরকারি পক্ষ থেকে এখনো হাদির মামলায় কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি, তবে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে তথ্য প্রকাশের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এদিকে, মানবাধিকার সংস্থা ও আইনজীবী গোষ্ঠীও ন্যায়বিচারের দ্রুততা ও স্বচ্ছতা দাবি করে প্রতিবাদে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, হাদির মামলায় ন্যায়বিচার না হলে সরকারকে জনমত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং বিরোধী দলগুলো এই বিষয়কে রাজনৈতিক লিভারেজ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। তাই, সরকার যদি দ্রুত ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ নেয়, তবে রাজনৈতিক উত্তেজনা কমে যেতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় থাকবে।
পরবর্তী ধাপ হিসেবে, ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে ব্রিফিংয়ের পর হাদির মামলায় চার্জশিট জারি হলে তা আদালতে দাখিলের প্রক্রিয়া শুরু হবে। ইনকিলাব মঞ্চের নেতৃত্বের মতে, যদি ২৪ দিনের সময়সীমার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত না হয়, তবে তারা অতিরিক্ত প্রতিবাদ ও আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা রাখবে। এদিকে, পুলিশ ও বিচারিক বিভাগকে মামলার দ্রুত সমাধানের জন্য সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হচ্ছে।



