যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ভেনেজুয়েলা তেলের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে এই সপ্তাহের শেষের দিকে শীর্ষ মার্কিন তেল কোম্পানির নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকের সময়সূচি নির্ধারণ করেছে। এই পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে যখন মার্কিন সেনাবাহিনী নিকোলাস মাদুরোর শাসনভঙ্গের পর দেশ থেকে তার নেতৃত্ব সরিয়ে দিয়েছে। তেল উৎপাদন বাড়িয়ে ভেনেজুয়েলা থেকে রপ্তানি বাড়ানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের তেল বাজারে নতুন সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রশাসনের মূল উদ্দেশ্য।
ভেনেজুয়েলা প্রায় দুই দশক আগে যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে দেশের জ্বালানি সম্পদ জাতীয়করণ করেছিল। ফলে একসময় সেখানে কাজ করা এক্সন মোবিল, কনোকোফিলিপস ও শেভরনের মতো বড় তেল সংস্থাগুলোকে দীর্ঘ সময়ের জন্য দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়। ট্রাম্পের দল এখন এই সংস্থাগুলোকে পুনরায় দেশে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করতে চাচ্ছে।
তবে তেল শিল্পের অভ্যন্তরীণ সূত্র অনুযায়ী, এক্সন মোবিল, কনোকোফিলিপস ও শেভরন এখনও পর্যন্ত হোয়াইট হাউসের সঙ্গে ভেনেজুয়েলা তে কাজ করার বিষয়ে কোনো আলোচনা করেনি। এই তথ্যটি ট্রাম্পের সপ্তাহান্তে প্রকাশিত বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ, যেখানে তিনি দাবি করেছিলেন যে তিনি সব প্রধান তেল সংস্থার সঙ্গে মাদুরোর শাসনভঙ্গের আগে ও পরে বৈঠক করেছেন। সূত্রগুলো জানিয়েছে যে, এখন পর্যন্ত এই তিনটি সংস্থার কোনো প্রতিনিধিও শ্বেত বাড়ির সঙ্গে ভেনেজুয়েলা তে কার্যক্রম চালু করার বিষয়ে কথা বলেনি।
আসন্ন বৈঠকগুলো ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভেনেজুয়েলা একসময় OPEC সদস্য ছিল এবং বিশ্বের সর্ববৃহৎ তেল সংরক্ষণ গুলোর একটি অধিকারী। তার তেলকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষভাবে ডিজাইন করা রিফাইনারিগুলোতে প্রক্রিয়াজাত করা যায়, যা আমেরিকান তেল শিল্পের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা প্রদান করে। তবে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে, উৎপাদন বাড়াতে বহু বছর সময় এবং শত কোটি ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে।
বৈঠকে কোন নির্বাহীরা অংশ নেবেন এবং তারা এককভাবে নাকি সমষ্টিগতভাবে অংশগ্রহণ করবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তেল সংস্থাগুলোর অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো এই বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রদান করেনি। হোয়াইট হাউসও বৈঠক সম্পর্কে মন্তব্য না করে, তেল শিল্পের প্রস্তুতি সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য করেছে। সরকারী বিবৃতি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের তেল সংস্থাগুলো ভেনেজুয়েলা বাজারে প্রবেশের জন্য প্রস্তুত এবং প্রয়োজনীয় শর্তগুলো পূরণ করতে ইচ্ছুক।
এই উদ্যোগের রাজনৈতিক প্রভাবও উল্লেখযোগ্য। মাদুরোর শাসনভঙ্গের পর ভেনেজুয়েলা রাজনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং তেল শিল্পের পুনরায় প্রবেশ দেশীয় অর্থনীতির পুনরুদ্ধার ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পুনর্গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের তেল সংস্থাগুলোর পুনরায় প্রবেশের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি বাড়লে, দেশের আর্থিক অবস্থা স্থিতিশীল হতে পারে এবং তেল রপ্তানি থেকে প্রাপ্ত আয় সরকারী ব্যয় ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যবহার করা যেতে পারে।
অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলার সরকারী নীতি ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে তেল সংস্থাগুলোর কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে। তেল উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ, রিফাইনারি সংযোগ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে কিনা, তা ভবিষ্যতে স্পষ্ট হবে। তদুপরি, ভেনেজুয়েলা তেলের গুণমান ও বাজারের চাহিদা পূরণে যুক্তরাষ্ট্রের রিফাইনারিগুলোর সক্ষমতা কতটা, তা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
সারসংক্ষেপে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই তেল সংস্থার সঙ্গে বৈঠক পরিকল্পনা ভেনেজুয়েলা তেল শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। যদিও তেল সংস্থাগুলো এখনো পর্যন্ত হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করেনি, তবে শীঘ্রই নির্ধারিত বৈঠকগুলোতে এই বিষয়টি আলোচনার মূল বিষয় হবে। ভবিষ্যতে তেল উৎপাদন বাড়াতে কতটা বিনিয়োগ এবং সময় লাগবে, তা নির্ভর করবে উভয় পক্ষের রাজনৈতিক ইচ্ছা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর।



