মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তেল কোম্পানিগুলোর শেয়ার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়, কারণ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা তেলের বিশাল রিজার্ভে পুনরায় প্রবেশের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন। এই সংকেত বাজারে তেল সংস্থাগুলোর ভবিষ্যৎ আয় সম্পর্কে আশাবাদী মনোভাব সৃষ্টি করে।
ভেনেজুয়েলা বিশ্বের সর্ববৃহৎ তেল রিজার্ভের অধিকারী, তবে গত কয়েক দশকে উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। মূল কারণ হিসেবে অপ্রতুল ব্যবস্থাপনা, তেল শিল্পের জাতীয়করণ এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা উল্লেখ করা হয়। এই পরিস্থিতি দেশীয় তেল উৎপাদনকে ধারাবাহিকভাবে কমিয়ে দিয়েছে।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, নিকোলাস মাদুরোর গ্রেফতারের পর যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদে নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করবে। এই ঘোষণার ফলে ভেনেজুয়েলা তেল রপ্তানির উপর যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বাড়বে বলে ধারণা করা হয়।
ট্রাম্প প্রশাসন এই সপ্তাহের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ তেল সংস্থার নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা করেছে। বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হল ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন বাড়ানোর কৌশল নিয়ে আলোচনা করা এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগের পথ নির্ধারণ করা।
এই বৈঠকগুলো ভেনেজুয়েলার সরকার দুই দশক আগে যুক্তরাষ্ট্রের তেল সংস্থাগুলোর সম্পদ জব্দ করার পর পুনরায় মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত। সরকারী নীতি পরিবর্তন এবং নতুন চুক্তি এই পুনঃপ্রবেশকে সহজতর করতে পারে।
প্রায় বিশ বছর আগে ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের তেল সংস্থাগুলোর সম্পদ জব্দ করে নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে নেয়। সেই সময়ে বহুলাংশে বিদেশি মূলধন ও প্রযুক্তি দেশ থেকে বেরিয়ে যায়, যা তেল উৎপাদনের পতনে বড় ভূমিকা রাখে। এখন পুনরায় প্রবেশের জন্য শর্ত হিসেবে ক্ষতিপূরণ ও বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা উত্থাপিত হয়েছে।
প্রশাসন তেল সংস্থাগুলোকে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যদি তারা ভেনেজুয়েলায় দ্রুত ফিরে এসে উল্লেখযোগ্য মূলধন বিনিয়োগ করে তেল ক্ষেত্রের পুনর্গঠন করে, তবে দুই দশক আগে জব্দ করা সম্পদের ক্ষতিপূরণ পাওয়া সম্ভব হবে। এই শর্তটি বিনিয়োগকারীদের জন্য উভয় দিকেই ঝুঁকি ও সুযোগের সমন্বয় তৈরি করে।
শেয়ার বাজারে এই নীতিগত পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়ায় শেভ্রন, যা বর্তমানে ভেনেজুয়েলার তেলক্ষেত্রে একমাত্র সক্রিয় যুক্তরাষ্ট্রের বড় তেল সংস্থা, শেয়ার ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। একই সময়ে মারাথন পেট্রোলিয়াম, ফিলিপস ৬৬, পিবিএফ এনার্জি এবং ভ্যালেরো এনার্জি শেয়ার যথাক্রমে ৩.৪ থেকে ৯.৩ শতাংশের মধ্যে বৃদ্ধি পায়।
বিশ্ব তেল মূল্যের দিক থেকে, এই সংবাদে তেল এক ব্যারেল দামের বৃদ্ধি এক ডলার পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহের পরিমাণ যথেষ্ট বেশি, ফলে ভেনেজুয়েলার রপ্তানি বন্ধ হলে তাত্ক্ষণিকভাবে দামের ওপর বড় প্রভাব পড়বে না।
তবে দীর্ঘমেয়াদে ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন পুনরুদ্ধার হলে বৈশ্বিক সরবরাহের কাঠামোতে পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ তেল সংস্থাগুলো যদি বড় পরিমাণে বিনিয়োগ করে উৎপাদন বাড়ায়, তবে তেল বাজারের সামগ্রিক ভারসাম্য পুনর্গঠিত হতে পারে।
বিনিয়োগের ঝুঁকি এখনও উচ্চ। ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক অস্থিরতা, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং অবকাঠামোগত ঘাটতি তেল প্রকল্পের বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তদুপরি, যুক্তরাষ্ট্রের তেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণভাবে বজায় রাখার ইচ্ছা বাজারে অনিশ্চয়তা যোগ করে।
সারসংক্ষেপে, ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলা তেল রিজার্ভে প্রবেশের সংকেত যুক্তরাষ্ট্রের তেল সংস্থাগুলোর শেয়ারকে উত্সাহিত করেছে এবং ভবিষ্যতে তেল উৎপাদন বাড়ানোর সম্ভাবনা উন্মোচন করেছে। তবে এই সম্ভাবনা বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নিষেধাজ্ঞার শিথিলতা এবং উল্লেখযোগ্য মূলধন বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। বাজারের দৃষ্টিতে, স্বল্পমেয়াদে দাম পরিবর্তন সীমিত থাকবে, তবে দীর্ঘমেয়াদে ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদনের পুনরুত্থান বৈশ্বিক তেল সরবরাহে নতুন গতিবিধি আনতে পারে।



