মণিকগঞ্জের হারিরামপুর উপজেলা গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এক তাড়াতাড়ি অভিযান শেষে ডেট মোলাসেস উৎপাদনকারীকে জালিয়াতি করা প্রকাশ পায়। স্থানীয় সময়ে সকালবেলা মোয়াজেম পাড়া, গোপিনাথপুর–ঝিটকা এলাকায় উৎপাদনকারী কোকিল প্রামণিকের কারখানা ধ্বংস করা হয় এবং ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশে তাকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানটি ডেট মোলাসেসের গুণগত মান নিয়ে উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে পরিচালিত হয়। তদন্তে দেখা যায়, প্রামণিক মূল ডেট মোলাসেসের সঙ্গে সমান পরিমাণ চিনি ও গুড়, পাশাপাশি পানি মিশিয়ে পণ্যকে অতিরিক্ত মিষ্টি ও তরল করে বিক্রি করছিলেন। মোট পাঁচ কিলোগ্রাম চিনি, পাঁচ কিলোগ্রাম গুড় এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি মিশিয়ে মোলাসেসের স্বাদ ও রঙ পরিবর্তন করা হয়েছিল।
ডেট মোলাসেস উৎপাদন সংক্রান্ত এই জালিয়াতি প্রকাশে সহায়তা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল, যিনি ম্যানিকগঞ্জ জেলা অফিসের দায়িত্বে আছেন। তিনি জানান, গোপন সূত্রের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দলটি দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে স্পষ্ট প্রমাণ সংগ্রহ করে অভিযুক্তকে ধরা পড়ে।
অভিযোগের পর, প্রামণিককে ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা আইনের ধারা অনুসারে এক হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয় এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধ পুনরায় না করার জন্য কঠোর সতর্কতা জারি করা হয়। এছাড়া, অবৈধভাবে পরিবর্তিত পণ্য উৎপাদনকারী কারখানাটি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়, যাতে কোনো অবশিষ্ট উপাদান ব্যবহারকারী গ্রাহকদের ক্ষতি না হয়।
রুমেল উল্লেখ করেন, ডেট মোলাসেস ও গুড়ের জালিয়াতি রোধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে। তিনি বলেন, ভোক্তাদের স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বাজারে ন্যায়সঙ্গত প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে এই ধরণের তদারকি অপরিহার্য।
অভিযান চলাকালে স্থানীয় ভোক্তা সংস্থা, কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (সিএব) এর জেলা ইউনিটের সভাপতি এবিএম শামসুন্নবী তুলি এবং আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তুলি এই ধরনের তদারকি কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ভোক্তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং অবৈধ ব্যবসায়িক চর্চা দমন করা সমাজের সামগ্রিক মঙ্গলার্থে অপরিহার্য।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা অধিদপ্তর, ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা আইনের অধীনে, বাজারে বিক্রিত পণ্যের গুণগত মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে রয়েছে। এই আইনের ধারা অনুযায়ী, কোনো পণ্য যদি জালিয়াতি বা গুণগত মানের হ্রাসের শিকার হয়, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তা অবিলম্বে রিপোর্ট করে জরিমানা, উৎপাদন বন্ধ বা কারখানা ধ্বংসের মতো শাস্তি আরোপ করা যায়।
ডেট মোলাসেস দেশের বহু গ্রামীণ ও শহুরে এলাকায় প্রচলিত মিষ্টি পদার্থ, যা প্রায়শই গৃহস্থালিতে ও বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার হয়। জালিয়াতি করা পণ্য গ্রাহকদের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগী ও ছোট শিশুরা। তাই, ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা অধিদপ্তরের এই পদক্ষেপটি জনস্বাস্থ্যের রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা জাল।
অভিযান পরবর্তী সময়ে, স্থানীয় বাজারে ডেট মোলাসেসের গুণগত মান পুনরায় যাচাই করার জন্য অতিরিক্ত তদারকি ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, ভবিষ্যতে অনুরূপ জালিয়াতি ধরা পড়লে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।
এই ঘটনার পর, ভোক্তাদের মধ্যে সতর্কতা বাড়ছে এবং বাজারে বিক্রিত মোলাসেসের গুণগত মান সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা অধিদপ্তর ও স্থানীয় সংস্থাগুলো একসাথে কাজ করে নিশ্চিত করবে যে, সবার জন্য নিরাপদ ও স্বচ্ছ পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
অবশেষে, ডেট মোলাসেসের জালিয়াতি ধরা এবং সংশ্লিষ্ট কারখানা ধ্বংসের মাধ্যমে ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা অধিদপ্তর একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে: বাজারে ন্যায়সঙ্গত ব্যবসা চালানো এবং গ্রাহকের স্বাস্থ্যের সুরক্ষা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে নিয়মিত তদারকি ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।



