জকসু নির্বাচনের প্রথম ভোট গ্রহণের দুই ঘণ্টার মধ্যে দুইটি ভিপি প্রার্থী একই সময়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছেন। একদিকে ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান প্যানেল’ এবং অন্যদিকে ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেল’ উভয়ই নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সকাল ১০টায় ভোট কেন্দ্রের দরজা খুলে যাওয়ার পরই ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান প্যানেল’ের ভিপি প্রার্থী এ কে এম রাকিব ক্যাম্পাসে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে টোকেন নম্বরের অননুমোদিত প্রবেশের ঘটনা লক্ষ্য করেন। তিনি জানান, ভোট কেন্দ্রে ব্যবহৃত ব্যালটের মধ্যে নির্দিষ্ট প্যানেলের টোকেন নম্বর ঢুকে যাচ্ছে, যদিও নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল যে কোনো প্যানেল বা প্রার্থীর টোকেন ক্যাম্পাসের ভিতরে প্রবেশ করবে না।
রাকিবের মতে, প্রথমে নির্বাচন কমিশন টোকেন প্রবেশের বিষয়টি অস্বীকার করে, তবে প্যানেলগুলোর প্রমাণ দেখার পর টোকেন গ্রহণের অনুমতি দেয়। বাস্তবে দেখা যায়, ভোট কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা কেবল ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের টোকেন গ্রহণ করছেন, অন্য প্যানেলের টোকেন দেখলে বাধা দিচ্ছেন। তিনি এই পার্থক্যপূর্ণ আচরণকে ‘দ্বিচারিতামূলক’ বলে সমালোচনা করেন।
প্রায় এক ঘণ্টা পরে, ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম ক্যাম্পাসের বাইরে ছাত্রদলের কর্মীদের দ্বারা নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা এবং ভোটের চিরকুট কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ করেন। তিনি জানান, তাদের প্যানেলের ভোটের চিরকুট পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতাকে ক্ষুন্ন করছে।
ইসলাম আরও উল্লেখ করেন, ভোট গণনার সময় সম্ভাব্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঝুঁকি রয়েছে এবং ক্যাম্পাসের আশেপাশে বিভিন্ন ক্যাডারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাছে গিয়ে তারা কোনো স্পষ্ট উত্তর পায়নি, বরং জানিয়েছে যে তারা এসব বিষয় জানে না। রিয়াজুলের মতে, লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে এই সমস্যাগুলো সমাধান করা কঠিন, তাত্ক্ষণিক পদক্ষেপের প্রয়োজন।
উভয় প্রার্থীই একসাথে জোর দিয়ে বলেছেন যে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করা জরুরি, এবং যে কোনো অনিয়ম দ্রুত সংশোধন করা উচিত। তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অনুরোধ করেছেন যে টোকেনের প্রবেশ ও বিতরণে সমান আচরণ নিশ্চিত করা হোক, এবং ক্যাম্পাসের বাইরে কর্মীদের দ্বারা করা হেনস্তা ও চিরকুট চুরির মতো কার্যকলাপের উপর কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি, তবে উভয় প্যানেলই তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদারকি ও তদন্তের দাবি জানিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভোটের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন বলে তারা পুনরায় জোর দিয়েছেন।
এই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগের স্রোত দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা ও ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি শমনের জন্য কাজ করা প্রত্যাশিত।
শিক্ষা সংক্রান্ত এই ধরনের নির্বাচন প্রক্রিয়ার সমস্যাগুলো ভবিষ্যতে পুনরাবৃত্তি রোধে নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শিক্ষার্থীদের জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশনা, নিরাপদ ভোটদান পরিবেশ এবং সকল প্যানেলের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা উচিত।
পাঠকগণ যদি আপনারা ক্যাম্পাসে ভোটের সময় কোনো অনিয়ম লক্ষ্য করেন, তবে তা সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানিয়ে সমস্যার সমাধানে সহায়তা করতে পারেন। আপনার মতামত ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করা ভবিষ্যৎ নির্বাচনের স্বচ্ছতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।



