মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে ক্যারাকাসের এক কম্পাউন্ড থেকে মার্কিন সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেফতার করার মাত্র ৪৮ ঘণ্টা পর, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিউ ইয়র্কের ফেডারেল আদালতে উপস্থিত হয়ে কোকেন চক্রান্তের অভিযোগে নিন্দা স্বীকার না করার আবেদন করেন। এই মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের আইনের অধীনে সাধারণ অপরাধমূলক প্রক্রিয়ার মতোই অগ্রসর হবে, যদিও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এটি একটি অস্বাভাবিক সামরিক হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রসিকিউশন দল তাদের অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছে যে মাদুরো, তার স্ত্রী, পুত্র এবং সহকর্মীরা কোকেন পাচার সংক্রান্ত একটি ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন এবং তারা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত কার্টেলগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছিলেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, তারা সরকারি পদ ব্যবহার করে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে টন টনের কোকেন আনা-নেওয়া করছিলেন এবং এভাবে দেশের স্বাভাবিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্নীতিগ্রস্ত করছিলেন।
মাদুরো পূর্বে এই ধরনের অভিযোগকে ভেনেজুয়েলার সমৃদ্ধ তেলসম্পদে প্রবেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের “ইম্পেরিয়াল” পরিকল্পনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আদালতে তার আইনজীবী যুক্তি দেন যে, একজন সার্বভৌম দেশের শীর্ষ নেতা হিসেবে তিনি আইনি দায় থেকে রক্ষা পেতে পারেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের জোরপূর্বক গ্রেফতারকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা উচিত।
আদালত কক্ষ ত্যাগের সময় মাদুরো স্প্যানিশে নিজেকে “অপহৃত প্রেসিডেন্ট” এবং “যুদ্ধবন্দী” বলে উল্লেখ করেন। তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের অবস্থা শান্তিপূর্ণ বলে তার আইনজীবীর একটি বিবৃতি জানায়, যেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রমাণের পর্যালোচনা ও চ্যালেঞ্জের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং তিনি নিজেও নিন্দা স্বীকার না করার দাবি করেন।
প্রসিকিউশনের ২৫ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই ষড়যন্ত্রের সূচনা ১৯৯৯ সালে, যখন মাদুরো প্রথমবারের মতো সরকারি পদে অধিষ্ঠিত হন। সেই সময় থেকে তিনি, ফ্লোরেস, তার পুত্র নিকোলাস এর্নেস্টো মাদুরো গুরা এবং আরও তিনজন সহকর্মী কোকেন পাচারের ধারাবাহিক ক্যাম্পেইনে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভেনেজুয়েলার বর্তমান ও প্রাক্তন অভ্যন্তরীণ মন্ত্রীরা, যাঁরা দেশের পুলিশ বাহিনীর তত্ত্বাবধান করতেন—দিয়সদাদো ক্যাবেলো রন্ডন এবং রামন রড্রিগেজ চাসিন—তাঁরাও এই মামলায় অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া ট্রেন দে আরাগুয়া গ্যাংয়ের নেতা হিসেবে চিহ্নিত হেক্টর রুস্টেনফোর্ড গ্যুরেরো ফ্লোরেসের নামেও অভিযোগ আনা হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই মামলায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধরতে পুরস্কার প্রদান করছে, যদিও নির্দিষ্ট পরিমাণ প্রকাশ করা হয়নি। এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলা বিষয়ক নীতি ও কৌশলকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
মাদুরোর নিন্দা স্বীকার না করার আবেদন এবং তার আইনজীবীর সার্বভৌমতা যুক্তি আন্তর্জাতিক আইনি আলোচনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পরবর্তী পর্যায়ে কী হবে তা এখনো অনিশ্চিত, তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ মামলাটিকে দ্রুত অগ্রসর করার ইঙ্গিত দিয়েছে, যা ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এই মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রমাণের প্রকৃতি, মাদুরোর প্রতিরক্ষা কৌশল এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ফলাফল ভবিষ্যতে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে গঠন করবে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এখনো এই মামলার পরিণতি ও সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমঝোতার দিকে নজর রাখছেন।



