গাজীপুরের ‘জুলাই যোদ্ধা’ তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ‑১ অমিত কুমার দে ৬ টা সন্ধ্যায় জামিন মঞ্জুর করে, এবং প্রায় ৭:৩০ টায় তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।
সুরভীর গ্রেপ্তার ২৫ ডিসেম্বর ২০২৩ রাত প্রায় ১২:৩০ টায় টঙ্গি পূর্ব থানার গোপালপুর টেকপাড়া এলাকায় ঘটেছে। তার বিরুদ্ধে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় ২৬ নভেম্বর ২০২৩-এ একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যা চাঁদাবাজি মামলার সাথে যুক্ত। তিনি সেলিম মিয়ার কন্যা, যিনি ওই এলাকার বাসিন্দা।
আদালত রিমান্ড আদেশের কয়েক ঘণ্টা আগে জামিন অনুমোদন করে, ফলে রিমান্ড প্রক্রিয়া অস্থায়ীভাবে স্থগিত হয়। রিমান্ড আদেশের সময়সূচি এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে মামলাটি চলমান অবস্থায় রয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সুরভীর মামলায় ন্যায়বিচার না হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, সুরভীর সঙ্গে ন্যায়বিচার হয়নি এবং পুরো বিষয়টি বানোয়াট। তিনি মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করে, নির্বাচনের আগে কিছু মিডিয়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অংশগ্রহণকারীদের চরিত্র হরণে তৎপর হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন।
নাহিদের মতে, কিছু মিডিয়া সত্য-মিথ্যা যাচাই না করেই নেতিবাচক সংবাদ ছড়িয়ে দিচ্ছে এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ হিসেবে চিহ্নিত করতে পরিকল্পিত চক্রান্ত চালাচ্ছে। তিনি এই মন্তব্য সুরভীর টঙ্গি বাসায় তার মুক্তির পর সরাসরি প্রকাশ করেন।
নাহিদ ইসলাম ২০২৪ সালের ৩৬ দিনের আন্দোলনের সময় শীর্ষস্থানীয় ভূমিকা পালন করেন, যখন সেই আন্দোলনের ফলে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে যাওয়া বাধ্য হন। তিনি তখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করার সময় তিনি ‘ফাহিম’ ডাকনাম দিয়ে পরিচিত ছিলেন। পরে তিনি ডেমোক্রেটিক ছাত্রশক্তি (ডিএসএস) সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব পদে অধিষ্ঠিত হন, যা সাবেক সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক আখতার হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল। ডিএসএসের অনেক সদস্য পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
নাহিদ ইসলাম দলীয় অভ্যন্তরে অনুপ্রবেশকারী গোষ্ঠীর উপস্থিতি নিয়ে সতর্কতা জানান। তিনি বলেন, একটি গোষ্ঠী দলভুক্ত হয়ে দেশের অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়, তাই সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।
সুরভীর মামলার আইনি প্রক্রিয়া এখনও চলমান। আদালত রিমান্ডের পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করবে এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের জন্য অতিরিক্ত শোনানির ব্যবস্থা নিতে পারে। মামলাটি রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, কারণ এটি জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সঙ্গে যুক্ত।
এই ঘটনায় মিডিয়া, রাজনৈতিক দল এবং আইনি সংস্থার ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। নাহিদের মন্তব্যের পর মিডিয়া সংস্থাগুলো থেকে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া পাওয়া গিয়েছে, তবে আদালতের রায়ই শেষ পর্যন্ত বিষয়টি নির্ধারণ করবে।
সুরভীর মুক্তি ও জামিনের পরবর্তী পর্যায়ে তার আইনগত প্রতিরক্ষা কিভাবে গড়ে উঠবে, তা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আরও স্পষ্ট তথ্যের অপেক্ষা করা হচ্ছে।



