22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিট্রাম্পের দাবি: যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি অভিবাসীদের ৫৪.৮% সরকারী সহায়তা গ্রহণ করে

ট্রাম্পের দাবি: যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি অভিবাসীদের ৫৪.৮% সরকারী সহায়তা গ্রহণ করে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত রবিবার তার সামাজিক নেটওয়ার্ক ট্রুথ সোশ্যাল-এ প্রকাশিত একটি তালিকায় উল্লেখ করেন, বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে ৫৪.৮ শতাংশ সরকারী কল্যাণসেবা গ্রহণ করে। তিনি তালিকাটিকে “ইমিগ্র্যান্ট ওয়েলফেয়ার রিসিপিয়েন্ট রেটস বাই কান্ট্রি অব অরিজিন” শিরোনামে উপস্থাপন করেন, যেখানে মোট ১২০টি দেশের তথ্য অন্তর্ভুক্ত।

তালিকায় বাংলাদেশ ১৯তম স্থানে অবস্থান করে, যা মোট দেশসংখ্যার মধ্যে মাঝামাঝি স্তর নির্দেশ করে। এই র‌্যাঙ্কিংটি অন্যান্য দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে, ভুটান শীর্ষে (৮১.৪ শতাংশ) এবং আফগানিস্তান ষষ্ঠ স্থানে (৬৮.১ শতাংশ) রয়েছে, আর পাকিস্তান ৬০তম (৪০.২ শতাংশ) ও নেপাল ৯০তম (৩৪.৮ শতাংশ) স্থান অধিকার করে।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি জনসংখ্যা গত দুই দশকে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০০ সালে প্রায় ৪০,০০০ থেকে ২০২৩ সালে ২,৭০,০০০-এ পৌঁছে, যা ৫৬৯ শতাংশের বিশাল বৃদ্ধি। এই জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কল্যাণসেবার চাহিদা ও গ্রহণের হারও বাড়ছে বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন।

তালিকায় সর্বোচ্চ সরকারী সহায়তা গ্রহণের হারযুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ভুটান, ইয়েমেন (৭৫.২ শতাংশ), সোমালিয়া (৭১.৯ শতাংশ), মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ (৭১.৪ শতাংশ), ডোমিনিকান রিপাবলিক (৬৮.১ শতাংশ), আফগানিস্তান (৬৮.১ শতাংশ), কঙ্গো (৬৬ শতাংশ), গিনি (৬৫.৮ শতাংশ), সামোয়া (৬৩.৪ শতাংশ) এবং ক্যাপ ভের্দে (৬৩.১ শতাংশ) অন্তর্ভুক্ত।

অন্যদিকে, সর্বনিম্ন সহায়তা গ্রহণের হারযুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বার্মুডা (২৫.৫ শতাংশ), সৌদি আরব (২৫.৭ শতাংশ), ইসরায়েল/প্যালেস্টাইন (২৫.৯ শতাংশ), আর্জেন্টিনা (২৬.২ শতাংশ), দক্ষিণ আমেরিকা (২৬.৭ শতাংশ), কোরিয়া (২৭.২ শতাংশ), জাম্বিয়া (২৮ শতাংশ), পর্তুগাল (২৮.২ শতাংশ), কেনিয়া (২৮.৫ শতাংশ) এবং লিথুয়ানিয়া (২৯.২ শতাংশ) উল্লেখযোগ্য।

ট্রাম্পের এই প্রকাশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কিছু নীতি বিশ্লেষক মন্তব্য করেন, তিনি এই তথ্যকে অভিবাসন নীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কে ব্যবহার করতে পারেন। অন্যদিকে, অভিবাসী অধিকার সংস্থা গোষ্ঠী জোর দিয়ে বলেন, এই পরিসংখ্যানের পেছনে অর্থনৈতিক অবস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার প্রবেশাধিকার ইত্যাদি বহু কারণের সমন্বয় রয়েছে, যা একক সংখ্যা দিয়ে পুরো চিত্র প্রকাশ করা কঠিন।

এই তথ্যের প্রকাশের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন সংস্কার নিয়ে চলমান আলোচনায় নতুন দিক যোগ হতে পারে। বিশেষত আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে অভিবাসী কল্যাণসেবা ও সরকারি ব্যয়ের বিষয়টি রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ议题 হয়ে উঠতে পারে। বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের বৃহৎ সংখ্যা এবং তাদের কল্যাণসেবার হার উভয়ই দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষত বাণিজ্য ও মানবসম্পদ আদানপ্রদান ক্ষেত্রে।

বাংলাদেশে শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি, জ্বর, ডায়রিয়া ও ব্রঙ্কিওলাইটিসে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিদিন বহির্বিভাগ ও শিশু ওয়ার্ডে শত শত শিশু চিকিৎসা নিতে আসছে, যা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

সারসংক্ষেপে, ট্রাম্পের তালিকায় বাংলাদেশি অভিবাসীদের কল্যাণসেবা গ্রহণের হার ৫৪.৮ শতাংশ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে, যা দেশের র‌্যাঙ্কিং ও অন্যান্য দেশের তুলনায় মাঝারি স্তরে অবস্থান করে। এই তথ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি এবং বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থার বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments