22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশ ও বার্মিংহাম কাউন্সিলের নেতাদের হোম অ্যাফেয়ার্স কমিটিতে জিজ্ঞাসাবাদ

ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশ ও বার্মিংহাম কাউন্সিলের নেতাদের হোম অ্যাফেয়ার্স কমিটিতে জিজ্ঞাসাবাদ

ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশ ও বার্মিংহাম সিটি কাউন্সিলের শীর্ষ কর্মকর্তাদেরকে পার্লামেন্টের হোম অ্যাফেয়ার্স সিলেক্ট কমিটি মঙ্গলবার প্রশ্ন করবে, কারণ তারা গত বছর শহরে অনুষ্ঠিত একটি ফুটবল ম্যাচে ইসরায়েলি ক্লাব মাকাবি তেল আবিবের ভক্তদের প্রবেশ নিষেধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এই নিষেধাজ্ঞা নভেম্বর মাসে অ্যাস্টন ভিলা ও মাকাবি তেল আবিবের মধ্যে অনুষ্ঠিত ম্যাচের জন্য নেওয়া হয়েছিল, এবং সিদ্ধান্তের পেছনে নিরাপত্তা উদ্বেগ উল্লেখ করা হয়েছিল।

ব্যানের সিদ্ধান্তটি অক্টোবর মাসে, ম্যাচের তিন সপ্তাহ আগে, বার্মিংহাম সিটি কাউন্সিলের সেফটি অ্যাডভাইজরি গ্রুপের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এই গ্রুপে স্থানীয় পুলিশ, ক্লাবের প্রতিনিধিত্বকারী ও কাউন্সিলের সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তারা ম্যাচকে “উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ” বলে চিহ্নিত করে ভক্তদের দূরত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানায়।

প্রধানমন্ত্রীর সহ অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারা এই নিষেধাজ্ঞাকে কঠোর সমালোচনা করেন এবং কিছু লোক এটিকে অ্যান্টি-সেমিটিজমের দিকেও দেখেন। তারা যুক্তি দেন যে ভক্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারত, তবে নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণভাবে ভক্তদের উপস্থিতি বন্ধ করে দিয়েছে।

বিবাদে নতুন মোড় আসে যখন বিএসসি নিউজ ডাচ পুলিশ ইনস্পেক্টরেটের একটি চিঠি প্রকাশ করে, যেখানে মাকাবি ভক্তদের পূর্বের আচরণ সম্পর্কে ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশের দাবিগুলোকে বিরোধিতা করা হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে ডাচ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, পূর্বে কোনো উল্লেখযোগ্য হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেনি, যা পুলিশ কর্তৃক উল্লিখিত নিরাপত্তা হুমকির ভিত্তি দুর্বল করে।

ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশ এখনও দাবি করে যে নিষেধাজ্ঞা স্থানীয় জনগণের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ছিল। তারা উল্লেখ করে যে মাকাবি তেল আবিবের ভক্তদের সঙ্গে পূর্বে কিছু ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, বিশেষ করে নভেম্বর ২০২৪-এ আমস্টারডাম শহরে অনুষ্ঠিত মাকাবি ম্যাচে বিশাল বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়, তাই একই ধরনের ঝুঁকি এড়াতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

অ্যাস্টন ভিলার প্রতিনিধিরা বলেন, সেফটি অ্যাডভাইজরি গ্রুপের সিদ্ধান্ত অনুসারে ম্যাচটি কোনো দূরবর্তী ভক্ত ছাড়া অনুষ্ঠিত হয়। তারা উল্লেখ করেন যে গ্রুপের বিশ্লেষণে পূর্বের মাকাবি ম্যাচে মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ ও গুরুতর হিংসা ঘটার সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়েছিল, যা নিরাপত্তা দৃষ্টিকোণ থেকে উদ্বেগের কারণ।

ব্যানের পরেও ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হয়, তবে কোনো বিদেশি ভক্তের উপস্থিতি না থাকায় স্টেডিয়ামের পরিবেশ স্বাভাবিকের তুলনায় শূন্য ছিল। এই পরিস্থিতি রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রূপ নেয়, যেখানে নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত প্রশ্ন উত্থাপিত হয়।

হোম অ্যাফেয়ার্স সিলেক্ট কমিটিতে প্রশ্নের সময় ক্রেগ গিল্ডফোর্ড, ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশের চিফ কনস্টেবল, এবং জন কটন, বার্মিংহাম সিটি কাউন্সিলের নেতা, উভয়কে উপস্থিত থাকতে হবে। গিল্ডফোর্ডকে পূর্বে গত মাসে একই কমিটিতে সাক্ষ্য দিতে বলা হয়েছিল, তবে এখন তাকে পুনরায় ডাকা হয়েছে।

কমিটির সদস্যরা বিশেষভাবে জিজ্ঞাসা করবেন কেন সেফটি অ্যাডভাইজরি গ্রুপের সিদ্ধান্তে মাকাবি ভক্তদের নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, এবং ডাচ পুলিশ ইনস্পেক্টরেটের চিঠিতে উল্লিখিত তথ্যের সঙ্গে কীভাবে সামঞ্জস্য করা যায়। এছাড়া, নিষেধাজ্ঞার ফলে ম্যাচের পরিবেশ ও ভক্তদের অধিকার কীভাবে প্রভাবিত হয়েছে, তা নিয়ে বিশদ প্রশ্ন তোলা হবে।

এই বিতর্কের মূল বিষয় হল, নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে ভক্তদের সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া কি অনুপযুক্ত পদক্ষেপ, নাকি তা প্রয়োজনীয় সতর্কতা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দেন যে, এই প্রশ্নের উত্তর ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টে নিরাপত্তা নীতি গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।

ব্যানের পেছনে উল্লেখিত আমস্টারডাম ঘটনার বিশদে, পুলিশ দাবি করে যে ৫০০ থেকে ৬০০ মাকাবি ভক্ত রাতের বেলায় মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ চালায়, যার মধ্যে গুরুতর শারীরিক হিংসা ও বস্তুও ছোড়া অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে ডাচ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুসারে, এমন কোনো ব্যাপক হিংসা ঘটেনি, যা উভয় দেশের পুলিশ সংস্থার মধ্যে তথ্যের পার্থক্য নির্দেশ করে।

এই পার্থক্য এবং নিষেধাজ্ঞার বৈধতা নিয়ে পার্লামেন্টের জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হলে, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে তাদের নিরাপত্তা নীতি পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে। একই সঙ্গে, রাজনৈতিক দলগুলোও এই বিষয়টি ব্যবহার করে নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে পারে, যা দেশের ক্রীড়া নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।

অবশেষে, হোম অ্যাফেয়ার্স কমিটির প্রশ্নোত্তর সেশনের ফলাফল কীভাবে আইন প্রণয়ন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রভাব ফেলবে, তা আগামী সপ্তাহে স্পষ্ট হবে। এই প্রক্রিয়া দেশের ক্রীড়া ইভেন্টে নিরাপত্তা ও ভক্তের অধিকার সংরক্ষণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments