পদত্যাগের পর থেকে বিএনপি-জামায়াতের সমালোচনা না করতে, চুপচাপ থাকতে এবং অতিরিক্ত বিপ্লবী না হতে সতর্ক করা হয়েছে বলে তাজনূভা জাবীন অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, “পদত্যাগের পর থেকে আমাকে সবাই সাবধান করছে বিএনপি-জামায়াত কারো সমালোচনা না করতে, চুপচাপ থাকতে, বেশি বিপ্লবী না হতে। কিন্তু আল্লাহ ছাড়া আমারে কেউ থামাতে পারবে বলে মনে হয় না।”
বিএনপি নেত্রী রুমিন ফারহানার বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের ওপর জাবীনের প্রশ্ন রয়ে গেছে। তিনি উল্লেখ করেন, “আমি জানি না রুমিন আপার দলীয়ভাবে কী সমালোচনা বা আলোচনা, ঠিক খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দিনই কেন তাকে বহিষ্কার করতে হবে? আমি জানি না সেটা তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোকটা হওয়ার পরও এটা হতে পারত।” তিনি এ ধরনের পদক্ষেপকে নেতিবাচক বার্তা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “এ ধরনের উদাহরণ খুব একটা ভালো বার্তা আমাদের দেয় না। পর্দায়র আড়ালে উনার যতই সমালোচনা থাকুক কেন, পর্দার সামনে উনি কিন্তু বিএনপিকেই রিপ্রেজেন্ট করেছেন।”
গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনীতিতে প্রবেশ করা নারীদের অবস্থান নিয়ে জাবীন মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “আমি পদত্যাগ করার পর সবচেয়ে যে কথাটা বেশি শুনছি সেটা হলো – আমি একটা ব্যানার ব্যবহার করে পরিচিতি পেয়েছি। এরপর আমি সেলফিসের মতো সড়ে এসেছি। আমরা কিন্তু এই ৯ মাস এই ব্যানারটাকে নিয়েই মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়েছি, আমি কিন্তু তাজনূভা হয়ে যাইনি। আমি এনসিপির তাজনূভা হয়ে গিয়েছি। আমি এনসিপির কথা বলেছি তাজনূভার কথা বলিনি।” এভাবে তিনি দলীয় পরিচয়কে ব্যক্তিগত পরিচয়ের ওপর অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা তুলে ধরেছেন।
নারী প্রার্থীর অংশগ্রহণের হার নিয়ে তিনি সতর্কতা প্রকাশ করেন। “আমরা যখন এইটা এস্টাব্লিশড করতে পারব না এবং ঠিক সেটা গণ-অভ্যুত্থানের পরের বছরে, যেটাতে এতগুলো নারী অংশ নিয়েছে, জীবন দিয়েছে।” তিনি ১৮ জুলাই রোকেয়া হল ভেঙে নামার ঘটনাকে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “সবাই বলবে এরা নামার পরেই গণ-অভ্যুত্থানটা সফল হবে, এটা সবাই ধরে নিয়েছিল। সেখান থেকে নারীদের মাইনাস করতে করতে এখন একিবারেই নাই।”
বড় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর জাবীনের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট। তিনি বলেন, “বড় রাজনৈতিক দলগুলো সরাসরি মনোনয়ন দেবে সেটা নানা দর কষাকষির মধ্য দিয়ে, বাজারের দর কষাকষির মতো ঠেকল যে ৫ শতাংশ দেবে। এখন সব রাজনৈতিক দল মিলেও কিন্তু ৫ শতাংশ নারী দেয় নাই, ৪ দশমিক ২৭ শতাংশ নারী প্রার্থী দিয়েছে।” তিনি স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা নারীদের, যেমন জারা ও রুমিন আপা, দলীয় পরিচয়ের চেয়ে ব্যক্তিগত পরিচয়কে অগ্রাধিকার না দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন।
শেষে তিনি নারী অধিকারের কথা বলার সময় বাস্তবিক প্রতিনিধিত্বের ঘাটতি তুলে ধরেন। “তাহলে আপনি যখন তাদের কোনোভাবে ফ্যাসিলিটেড করতে পারবেন না, আবার মুখে নারী অধিকারের কথা বলবেন, সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং ৬ কোটি ভোটার হচ্ছে,” তিনি বলেন, যা বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে নারীর অবস্থান ও প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নকে উন্মোচিত করে।
তাজনূভা জাবীন এই মন্তব্যগুলোকে রাজনৈতিক পরিসরে নারীর ভূমিকা, দলীয় নীতি এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সূচনা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তার বক্তব্য ভবিষ্যতে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে পার্টিগুলোর নীতি পরিবর্তন ও প্রার্থীর তালিকায় সমতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরবে।



