নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলায় চরসিন্ধু বাজারে রাত ১১টার দিকে এক গুলিবিদ্ধে ৪০ বছর বয়সী মুদি ব্যবসায়ী মনি চক্রবর্তী মারা যান। শিবপুরের সাধারচর ইউনিয়নের মদন ঠাকুরের পুত্র চক্রবর্তীর গৃহস্থালির কাজের পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন চরসিন্ধু বাজারে মুদি দোকান পরিচালনা করতেন।
মনি চক্রবর্তীর পরিবার জানায়, তিনি সন্ধ্যা বেলায় দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে আক্রমণের শিকার হন। অজানা কয়েকজন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে তাকে গুলি করে, ফলে তিনি মাটিতে নেমে পড়ে। গুলির আঘাতের ফলে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তিনি শোয়াবাড়ি বাজারের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকগণ দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা সত্ত্বেও মনি চক্রবর্তীর শ্বাস বন্ধ হয়ে যায় এবং তিনি মৃত ঘোষণা করা হয়। মৃতদেহকে পলাশ থানার ওসি শাহীদ আল মামুনের নির্দেশে নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়ে অটোডক্স করা হবে।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তৎক্ষণাৎ তদন্ত শুরু করে। শাহীদ আল মামুন জানান, গুলিবিদ্ধের সময় কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর চিহ্ন পাওয়া যায়নি এবং সন্দেহভাজনদের সনাক্ত করতে ব্যাপক অনুসন্ধান চালু করা হয়েছে। অপরাধীদের গ্রেফতার ও দায়ের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মনি চক্রবর্তীর হত্যার আগে মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে ময়মনসিংহে দু’টি অনুরূপ দহযুদ্ধ ঘটেছে। ১৮ ডিসেম্বর রাতে ময়মনসিংহের ভালুকার জামিরদিয়া এলাকায় পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস বিডি লিমিটেডের ২৮ বছর বয়সী শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পিটিয়ে গাছের ডালের সঙ্গে বাঁধা হয়ে আগুনে পোড়ানো হয়।
এর ১৩ দিন পর, ৩১ ডিসেম্বর শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাসকে ছুরিকাঘাতে আহত করা হয় এবং তার দেহে পেট্রোল ঢেলে আগুন জ্বালানো হয়। তিন দিন হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর, তিনি জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
দিপু ও খোকন দাসের দহযুদ্ধের পর সারা দেশ জুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলে, ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ও শ্রমিক অধিকার নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়। এই দুই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠে আসে।
মনি চক্রবর্তীর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে পূর্বের দু’টি দহযুদ্ধের কোনো সরাসরি সংযোগ নিশ্চিত করা যায়নি, তবে পুলিশ উল্লেখ করেছে যে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ব্যবসায়ী ও শ্রমিকের লক্ষ্যবস্তু হয়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন।
অধিক তদন্তে সন্দেহভাজনদের সনাক্তকরণ, গুলিবিদ্ধের অস্ত্রের উৎস এবং ঘটনার প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করা হবে। নরসিংদী পুলিশ বিভাগ স্থানীয় গোষ্ঠী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে সহযোগিতা করতে আহ্বান জানিয়েছে।
মনি চক্রবর্তীর পরিবার এখন শোকাহত, তবে তারা ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় রয়েছে। পুলিশ ও আইনি সংস্থাগুলি দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের আইনের শাসনে আনার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।



