মানিকগঞ্জের সাধারণ মানুষ শীতের তীব্র ঠাণ্ডা মোকাবেলায় যথাযথ ব্যবস্থা না পেয়ে কষ্টে আছে। গরম পোশাকের অভাবে বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো রাস্তায় বিক্রি হওয়া সস্তা শীতের কাপড়ের দিকে ঝুঁকেছে।
মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের ওভারব্রিজের নিচে ভ্যানের সারি দেখা যায়, যেখানে সোয়েটার, চাদর, মোজা, মাফলারসহ বিভিন্ন ধরনের শীতের পোশাক বিক্রি হয়। প্রধান ক্রেতা হলেন দিনমজুর, রিকশা চালক এবং অন্যান্য নিম্ন আয়ের কর্মী।
একজন গ্রামবাসী জানান, বাচ্চাদের জন্য সোয়েটার কিনতে পৌর বাজারে গিয়েছিলেন, কিন্তু দুইটি সোয়েটারের দাম একশো একরাশ টাকার নিচে কেউ বিক্রি করতে ইচ্ছুক নয়। ফলে তারা বিকল্প হিসেবে রাস্তায় ভ্যান থেকে সস্তা পোশাক কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
কোভিড-১৯ পূর্বে ঢাকা শহরে কাজ করতেন এমন একজন পরিবারিক প্রধানের চাকরি চলে যাওয়ার পর গ্রামে ফিরে আসতে হয়। তিনি বললেন, শহরে কাজের সুযোগ না থাকায় এখন শীতের মৌসুমে গরম কাপড়ের অভাব বাড়ছে।
একজন প্রাক্তন শিক্ষক, যিনি এখন ৭৭ বছর বয়সী, উল্লেখ করেন যে আগে ফুটপাতে বিদেশি সোয়েটার, জ্যাকেট, জাম্পার তুলনামূলকভাবে কম দামে পাওয়া যেত। সেসব পণ্য না থাকায় এখন গরম পোশাকের দাম বাড়ে, ফলে গৃহস্থালির আর্থিক চাপ বাড়ছে।
আরেকজন বয়স্ক নারী জানান, পূর্বে কম্বল সহজে পাওয়া যেত, কিন্তু এখন তা পাওয়া কঠিন। ফলে শীতের রাতে পরিবারগুলো যথাযথভাবে গরম রাখতে পারছে না।
রাস্তায় ভ্যানের মাধ্যমে শীতের পোশাক বিক্রি করা ব্যবসায়ীরা বলেন, তারা রাস্তার পাশে বিক্রি করতে পারছেন না, কারণ পুলিশ তাদের থামিয়ে দিচ্ছে। নির্দিষ্ট কোনো স্থানে বসার ব্যবস্থা না থাকায় তাদের ব্যবসা কঠিন হয়ে পড়েছে।
পুলিশের মতে, মহাসড়কে যানজট কমাতে এবং চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ফুটপাত ও রাস্তায় ভাঁজ করা দোকানগুলো সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই পদক্ষেপের ফলে শীতের পোশাকের বিক্রয়স্থল সীমিত হয়েছে।
শীতের তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় শ্বাসযন্ত্রের রোগ, হাইপোথার্মিয়া এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে বয়স্ক ও ছোট শিশুরা ঠাণ্ডার প্রভাবের প্রতি বেশি সংবেদনশীল।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, কম বাজেটেও গরম থাকা সম্ভব যদি সঠিকভাবে স্তরবদ্ধ পোশাক পরা হয়। একাধিক পাতলা কাপড়ের স্তর গরম রাখে এবং রক্ত সঞ্চালন বজায় রাখে।
অতিরিক্তভাবে, ঘরে গরম পানি দিয়ে পা ভিজিয়ে রাখা, হালকা ব্যায়াম করা এবং ঘরের তাপমাত্রা ২০-২২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখার চেষ্টা করা উচিত। এসব সহজ উপায়ে শীতের প্রভাব কমানো যায়।
স্থানীয় প্রশাসনকে আহ্বান করা হচ্ছে, যাতে রাস্তায় বিক্রি করা শীতের পোশাকের জন্য নির্দিষ্ট বিক্রয়স্থান তৈরি করা হয় এবং দরিদ্র পরিবারগুলোকে সাশ্রয়ী মূল্যে গরম কাপড় সরবরাহ করা যায়। এভাবে শীতের মৌসুমে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমিয়ে সামাজিক নিরাপত্তা বাড়ানো সম্ভব।



