ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো গত বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার জয় করার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পুরস্কারটি ভাগ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি সোমবার ফক্স নিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ভেনেজুয়েলার নাগরিকরা এই সম্মানকে জাতীয় সম্পদ হিসেবে দেখেন এবং ট্রাম্পকে অংশীদার করলে তিনি আনন্দিত হবেন।
মাচাদো ২০২৩ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণের সময় নরওয়ের অসলোতে উপস্থিত হন। পুরস্কার জয়ের পর তিনি উল্লেখ করেন, ট্রাম্পও পূর্বে এই সম্মান পাওয়ার জন্য সক্রিয়ভাবে প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন, যা তার প্রস্তাবের পেছনে অতিরিক্ত প্রেরণা যোগায়।
পুরস্কার গ্রহণের পর থেকে মাচাদো ও ট্রাম্পের সম্পর্ক টানাপোড়েনপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হোয়াইট হাউসের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প মাচাদোর নোবেল গ্রহণকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেননি এবং তার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেননি। কিছু কর্মকর্তা মাচাদোর এই পদক্ষেপকে ‘পাপ’ হিসেবে উল্লেখ করে, ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি ব্যাখ্যা করেছেন।
মাচাদোর নোবেল ভাগের প্রস্তাবের ফলে ট্রাম্পের সরকার তার ওপর কোনো সরকারি দায়িত্ব অর্পণ করতে অনিচ্ছুক হয়েছে। বিশ্লেষকরা জানান, যদি মাচাদো পুরস্কারটি প্রত্যাখ্যান করে ট্রাম্পের নাম প্রস্তাব করতেন, তবে হয়তো তিনি এখনও ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হতেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্প মাচাদোকে কোনো রাষ্ট্রীয় পদ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
২০২৪ সালের নির্বাচনে মাচাদোর নেতৃত্বাধীন জোটের জয় নিশ্চিত হওয়ার পরও, গত শনিবার ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ক্ষমতা হ্রাসের পর ট্রাম্প মাচাদোর পরিবর্তে ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজকে অস্থায়ী দায়িত্ব অর্পণ করেন। মাচাদো মাদুরোর পতনের সঙ্গে সঙ্গে দেশ পরিচালনার প্রস্তুতি ঘোষণা করলেও ট্রাম্পের কঠোর মন্তব্যে তার পরিকল্পনা থেমে যায়।
ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, মাচাদোর ভেনেজুয়েলা শাসনের সক্ষমতা সীমিত এবং তিনি দেশের জনগণের কাছ থেকে যথেষ্ট সমর্থন পেতে পারেন না। এই মন্তব্যের ফলে মাচাদো ও তার সমর্থকরা হতাশা প্রকাশ করেন।
বিশ্লেষকরা মাচাদোর নোবেল ভাগের প্রস্তাবকে ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট করার কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন, যাতে ভবিষ্যতে ভেনেজুয়েলার সরকারে তার অবস্থান সুনিশ্চিত হয়। তবে ট্রাম্পের প্রশাসন এখনো মাচাদোর পরিবর্তে নিজের পছন্দের প্রার্থীদের সমর্থন করার দিকে ঝুঁকেছে।
ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক দৃশ্যপটে এই ঘটনার প্রভাব এখনও স্পষ্ট নয়, তবে নোবেল ভাগের প্রস্তাব ও ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান উভয়ই দেশের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে। মাচাদো যদি আন্তর্জাতিক সমর্থন পেতে পারেন, তবে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ পুনর্গঠন হতে পারে; অন্যদিকে ট্রাম্পের বিরোধী মনোভাব তার আন্তর্জাতিক নীতি ও ল্যাটিন আমেরিকান সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
ভবিষ্যতে মাচাদোর নীতি ও কৌশল কীভাবে বিকশিত হবে, তা ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ গঠন ও আন্তর্জাতিক চাপের ওপর নির্ভরশীল থাকবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের পদক্ষেপ দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলতে পারে, যা নির্বাচনের পরবর্তী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



