সোমবার রাত একটায়, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম টঙ্গির মরকুন টেকপাড়া চৌরঙ্গীরপাড়ার এলাকায় সুরভি জন্নাত সুরভীর বাড়ি পরিদর্শন করেন। সুরভি, যিনি জুলাই মাসের প্রতিবাদে অংশগ্রহণের পর এক মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার হন, জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
নাহিদের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে পার্টি অতিরিক্ত সুবিধা নয়, ন্যায়বিচার চায়। তিনি উল্লেখ করেন যে সুরভি নাগরিক সুবিধা পাননি, তার বিরুদ্ধে গড়ে তোলা মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয় এবং প্রশাসন তার প্রতিবাদে অংশগ্রহণের জন্য কোনো অবস্থান নেয়নি।
এই সাক্ষাতের সময় এনসিপি গাজীপুর মহানগর ও টঙ্গির বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা একত্রে পার্টির ন্যায়বিচার ও সমান আচরণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
পটভূমিতে, গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানা থেকে চাঁদাবাজির মামলায় সুরভিকে গ্রেফতার করা হয় এবং যৌথ বাহিনীর মাধ্যমে জেলায় পাঠানো হয়। তবে গতকাল সন্ধ্যায় অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ-১-এর বিচারক অমিত কুমার দে তার চার সপ্তাহের জামিন মঞ্জুর করেন, যা পূর্বে গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক সৈয়দ ফজলুল মাহাদী দ্বারা দেওয়া দুই দিনের রিমান্ড আদেশকে বাতিল করে।
বামিনের পর সুরভি টঙ্গির বাসায় ফিরে আসেন, আর একই রাতে নাহিদের ভিজিট ঘটে। আদালতপারে ‘ছাত্র-শ্রমিক-জনতা’ ব্যানারে এনসিপি কর্মীরা বিক্ষোভ করে, যা সুরভির মুক্তির পক্ষে তাদের দৃঢ় অবস্থানকে প্রকাশ করে।
নাহিদের বক্তব্যের মূল বিষয় হল সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ওপর সমালোচনা, যারা তিনি মনে করেন প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী নাগরিকদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পার্টি কোনো অতিরিক্ত সুবিধা চায় না, বরং সমান ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে চায়।
এই ঘটনার রাজনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট। এনসিপি সরকারকে সমালোচনা করে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে এই বিষয়টি ব্যবহার করার সম্ভাবনা রয়েছে। ন্যায়বিচার ও সমান আচরণের দাবি পার্টির সমর্থকদের মধ্যে একতাবদ্ধতা বাড়াতে পারে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, সুরভির মামলায় আদালতের দ্রুত বামিন সিদ্ধান্ত অন্যান্য সমান ধরনের মামলায় প্রভাব ফেলতে পারে। এটি ভবিষ্যতে অনুরূপ অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের জন্য আইনি রায়ে পরিবর্তন আনতে পারে।
এদিকে, এনসিপি পার্টি বামিনের কার্যকরী বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে এবং সুরভি যে নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন তা পুনরুদ্ধার করতে নজর রাখবে। পার্টি নেতারা বলছেন, এই প্রক্রিয়ায় কোনো ধাপ বাদ না দিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।
সামগ্রিকভাবে, নাহিদের টঙ্গি সফর ও তার ন্যায়বিচার আহ্বান বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। এটি সরকার ও বিরোধী গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে, বিশেষ করে প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী নাগরিকদের অধিকার সংরক্ষণ নিয়ে।
পরবর্তী সময়ে এনসিপি এই বিষয়টি নিয়ে জনমত গঠন এবং আইনগত পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকারের নীতি পরিবর্তনের জন্য চাপ বাড়াবে বলে আশা করা যায়।



