সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত পঞ্চম ও শেষ টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বামহাতি ব্যাটসম্যান ট্র্যাভিস হেড তৃতীয় শতক তৈরি করে দলকে ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসের চাপ থেকে মুক্তি দিয়েছেন। ৩২ বছর বয়সী হেডের ১৬৩ রান অস্ট্রেলিয়ার ২৮১/৩ স্কোরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যা ইংল্যান্ডের ৩৮৪ রানের প্রতিক্রিয়া হিসেবে দাঁড়ায়।
হেডের ইনিংসের সূচনা ছিল দৃঢ়, তিনি প্রথম ওভারেই বেন স্টকসকে মিডউইকেটে আউট করেন এবং দ্রুত রানের প্রবাহ বজায় রাখেন। ১০৫ ball-এ শতক গড়িয়ে তিনি ১৭তম বাউন্ডারির মাধ্যমে তার শতক সম্পন্ন করেন, যা জোশ টংয়ের ডেলিভারির ওপর একটি পরিষ্কার কভার ড্রাইভ ছিল।
দুপুরের বিরতির আগে হেড ১৬২* রান নিয়ে ছিলেন, কিন্তু বিরতির পরপরই তিনি ১৬৩ রানে আউট হন, যা অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের গতি আরও ত্বরান্বিত করে। তার এই পারফরম্যান্সে ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণ সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয় এবং অস্ট্রেলিয়ার স্কোর দ্রুত বাড়ে।
এই শতকটি হেডের তৃতীয় শতক অশেস সিরিজে, পূর্বে পার্থে ১২৩ এবং অডিলাইডে ১৭০ রানের শতক রয়েছে। মোট ১২টি টেস্ট শতক অর্জনকারী হেডের এই শতকটি সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে প্রথম, যা তার বহুমুখী এবং আক্রমণাত্মক ব্যাটিং স্টাইলকে আরও প্রমাণ করে।
হেডের এই পারফরম্যান্সের পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন রয়েছে। পার্থের টেস্টে উসমান খাওয়াজের পিঠের আঘাতের কারণে হেডকে ওপেনার হিসেবে তৎকালীন সুযোগ দেওয়া হয়, এবং এরপর থেকে তিনি এই ভূমিকা নিজের করে নিয়েছেন। শীর্ষে তার আক্রমণাত্মক পদ্ধতি সিরিজের অন্যতম মূল বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া ইতিমধ্যে ৩-১ স্কোরে অশেস রিটেইন করেছে, এবং হেডের তৃতীয় শতক ইংল্যান্ডকে আবারও চাপের মধ্যে ফেলে দেয়। হেডের আউট হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার স্কোর প্রথম ইনিংসে সমান স্তরে পৌঁছাতে সক্ষম হয়, যা ইংল্যান্ডের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।
ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ৩৮৪ রানের স্কোরে অস্ট্রেলিয়ার ২৮১/৩ স্কোরের পার্থক্য মাত্র ১০৩ রান, যা হেডের শতক ছাড়া সম্ভব হতো না। তার দ্রুত রেট এবং আক্রমণাত্মক শটগুলো বোলারদের আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয় এবং দলের মোট স্কোরে বড় অবদান রাখে।
হেডের পারফরম্যান্সে অস্ট্রেলিয়ার কোচিং স্টাফের প্রশংসা ছড়িয়ে পড়ে, যদিও সরাসরি উদ্ধৃতি না দিয়ে, তবে দলীয় কৌশলগত দিক থেকে তার ওপেনার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়। তার আক্রমণাত্মক পদ্ধতি টেস্টের ঐতিহ্যবাহী ধীর গতি পরিবর্তন করে দ্রুত রানের সুযোগ তৈরি করে।
সিডনি টেস্টের শেষ দিনেও অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপের শক্তি স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যেখানে হেডের শতক ছাড়া অন্য ব্যাটসম্যানদেরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তবে হেডের শতকই ছিল মূল চালিকাশক্তি, যা দলকে ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসের সমান স্তরে নিয়ে আসে।
এই ম্যাচের পর অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ডের পরবর্তী টেস্ট শিডিউল এখনো নির্ধারিত নয়, তবে অশেস সিরিজের শেষ টেস্টের ফলাফল অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় আত্মবিশ্বাসের উৎস হবে। হেডের শতক তার ক্যারিয়ারের অন্যতম উজ্জ্বল মুহূর্ত হিসেবে রেকর্ডে থাকবে।
সারসংক্ষেপে, ট্র্যাভিস হেডের তৃতীয় শতক অশেস সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার জয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি তার ব্যাটিং দক্ষতা এবং আক্রমণাত্মক স্টাইলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়। তার পারফরম্যান্স অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ক্রিকেটে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় স্কোরের সম্ভাবনা নির্দেশ করে।



