চট্টগ্রাম বিভাগের বাঁশখালি উপজেলায় ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় জিয়াউল হক চৌধুরী নামের একজন আওয়ামী লীগ নেতা ও নাশকতা মামলার আসামিকে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার করার পর স্থানীয় জনগণ তাকে পুনরায় নেয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি খানখানাবাদ ইউনিয়নের কদমরসুল এলাকায় ঘটেছে, যেখানে সন্ধ্যাবেলায় পুলিশ দল উপস্থিত হয়ে তাকে আটক করেছে।
জিয়াউল হক চৌধুরী খানখানাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সহসভাপতি এবং প্রয়াত মাহফুজুর রহমান চৌধুরীর পুত্র। তিনি নাশকতা সংক্রান্ত একটি মামলায় অভিযুক্ত, যা পূর্বে থেকেই পুলিশ রেকর্ডে রয়েছে। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি এখনও আদালতে চলমান।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক নাছির উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি দল কদমরসুল এলাকায় অভিযান চালায় এবং জিয়াউল হক চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারির খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা, নারী-পুরুষসহ কয়েকশো জনসংখ্যা ঘটনাস্থলে জমায়েত হয়।
সমাবেশের পর দ্রুতই কিছু লোক পুলিশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করে এবং উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জনতার একটি অংশ পুলিশ থেকে আসামিকে ছিনিয়ে নেয়। এই সময়ে উপস্থিত কিছু বাসিন্দা বলেছে, তারা গ্রেপ্তারকে অবৈধ বলে মনে করে এবং তাকে মুক্তি দিতে চেয়েছে।
বাঁশখালি থানার ওয়্যার্ড অফিসার (ওসি) খালেদ সাইফুল্লাহের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, তবে তারা ইতিমধ্যে ছিনিয়ে নেওয়া আসামিকে পুনরায় গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হয়। উপস্থিত অতিরিক্ত দল স্থানীয় এলাকায় চিড়ি অভিযান চালিয়ে নিরাপত্তা বজায় রাখার চেষ্টা করে।
পুলিশের চিড়ি অভিযান রাত দশটা পর্যন্ত চলতে থাকে, যদিও ঘটনাস্থলে শৃঙ্খলা পুনঃস্থাপনের জন্য প্রচুর সংখ্যক পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হয়। ওই সময়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশকর্মীর মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমে, তবে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ রয়ে যায়।
ওসি খালেদ সাইফুল্লাহ ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নাশকতা মামলার আসামি গ্রেপ্তারের সময় পুলিশকে বাধা দেয়া হয় এবং কিছু ব্যক্তি তাকে ছিনিয়ে নেয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যারা এই কাজটি করেছে তাদের সনাক্তকরণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান এবং পুনরায় গ্রেপ্তার করার জন্য অভিযান চালিয়ে যাবে।
নাশকতা সংক্রান্ত মামলাটি বর্তমানে স্থানীয় আদালতে চলমান, যেখানে জিয়াউল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহের পাশাপাশি তার গ্রেপ্তার ও মুক্তির বিষয়টি বিচারিক পর্যবেক্ষণের অধীনে থাকবে। আদালত থেকে কোনো রায় না আসা পর্যন্ত তার জবাবদিহিতা অব্যাহত থাকবে।
পুলিশের মতে, গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করা এবং আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়া উভয়ই আইনের লঙ্ঘন। তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তদন্তের অংশ হিসেবে অতিরিক্ত সাক্ষ্য সংগ্রহ করা হবে।
অবশেষে, স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি এই ধরনের ঘটনা পুনরায় না ঘটার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার পর্যালোচনা ও শক্তিশালীকরণে কাজ করবে বলে জানিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।



