হ্যাপি (HP) সম্প্রতি EliteBoard G1a “Next Gen AI PC” নামের একটি কিবোর্ড‑কম্পিউটার প্রকাশ করেছে, যা সম্পূর্ণ ডেস্কটপ পারফরম্যান্সকে একক কিবোর্ডের মধ্যে সংযুক্ত করে। এই পণ্যটি আইটি প্রশাসকদের জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যেখানে কিবোর্ডের আকারে সম্পূর্ণ কম্পিউটার পাওয়া যায়।
কিবোর্ডের চেহারা সাধারণ ডেস্কটপ কিবোর্ডের মতো, তবে এর ভিতরে রাইজন 5 অথবা রাইজন 7 সিরিজের প্রসেসর, রেডিয়ন 800 সিরিজের এমবেডেড GPU, সর্বোচ্চ ৬৪ গিগাবাইট RAM এবং ২ টেরাবাইট পর্যন্ত NVMe SSD স্টোরেজ রয়েছে। এই স্পেসিফিকেশনগুলো AI‑সক্ষমতা সম্পন্ন Copilot+ সফটওয়্যার চালানোর জন্য যথেষ্ট শক্তি প্রদান করে।
ব্যবহারকারীকে কেবল একটি মনিটর ও মাউস সংযুক্ত করতে হবে; অন্য কোনো অতিরিক্ত হার্ডওয়্যার দরকার নেই। কিবোর্ডের পিছনে দুটি USB‑C পোর্ট রয়েছে, একটি পাওয়ার ইনপুটের জন্য এবং অন্যটি ভিডিও আউটপুটের জন্য ব্যবহার করা হয়।
কিবোর্ড‑কম্পিউটারের ধারণা প্রথমে ১৯৮০‑এর দশকে কমোডর ৬৪ এর মতো মেশিনে দেখা গিয়েছিল, এবং তখন থেকেই লেখককে আকৃষ্ট করেছে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শিল্পের দিক পরিবর্তিত হয়ে স্ট্যান্ডার্ড ডেস্কটপ ও ল্যাপটপের দিকে ঝুঁকেছে।
২০০০‑এর দশকে UMPC (Ultra Mobile PC) এবং ASUS এর Eee Keyboard মত প্রচেষ্টা কিছুটা জনপ্রিয়তা পেয়েছিল, কিন্তু স্মার্টফোন ও ট্যাবলেটের উত্থানের ফলে এই মডেলগুলো বাজারে টিকে থাকতে পারেনি। স্ক্রিনের পিছনে পুরো সিস্টেম বসানো অধিক ব্যবহারিক বলে বিবেচিত হয়।
একটি প্রোটোটাইপ পরীক্ষা করার সুযোগ পাওয়া যায়, যেখানে প্রথমে সেটআপে কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। কিবোর্ডের শুধুমাত্র দুইটি USB‑C পোর্ট থাকায় পাওয়ার ও ভিডিও সিগন্যাল আলাদা আলাদা পোর্টে দিতে হয়, যা প্রাথমিকভাবে জটিল মনে হয়।
লেখক একটি Anker USB‑C চার্জিং হাব ব্যবহার করে পাওয়ার সরবরাহ করেন এবং আরেকটি USB‑C হাবের HDMI আউটপুটের মাধ্যমে মনিটরে সংযোগ করেন। এই ব্যবস্থা কাজ করলেও, কেবলের বিশৃঙ্খলা বেশ অস্বস্তিকর ছিল।
বৈদ্যুতিক সংযোগ স্থাপনের পর উইন্ডোজ চালু হলে কিবোর্ডের ভিতরে সম্পূর্ণ কম্পিউটার কাজ করে দেখার আনন্দ অল্পই বর্ণনা করা যায়। এই অভিজ্ঞতা স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ইন্টেলের Compute Stick এর মতো ছোট ডিভাইসও একই ধারণা অনুসরণ করেছিল।
প্রযুক্তি কলামিস্টের দৃষ্টিতে EliteBoard G1a একটি নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করে, যেখানে স্থান সাশ্রয় এবং AI‑চালিত কাজের জন্য শক্তিশালী হার্ডওয়্যার একসাথে পাওয়া যায়। আইটি পরিবেশে বহু ডিভাইস পরিচালনা করা প্রয়োজনীয়তা থাকলে এই ধরনের কিবোর্ড‑কম্পিউটার ব্যবহারিক বিকল্প হতে পারে।
ভবিষ্যতে যদি সফটওয়্যার ও ক্লাউড পরিষেবার উন্নতি অব্যাহত থাকে, তবে কিবোর্ডের মধ্যে সংযুক্ত সম্পূর্ণ PC ব্যবহারকারীকে ডেস্কটপের সব ক্ষমতা বজায় রেখে আরও কম জায়গায় কাজ করার সুযোগ দেবে। এভাবে কর্মস্থল ও বাড়িতে কাজের পরিবেশে স্থানিক সীমাবদ্ধতা কমে যাবে।
সারসংক্ষেপে, HP এর EliteBoard G1a কিবোর্ড‑কম্পিউটার প্রযুক্তি জগতে পুরোনো ধারণাকে আধুনিক AI সক্ষমতা ও উচ্চ পারফরম্যান্সের সঙ্গে পুনরুজ্জীবিত করেছে, যা আইটি পেশাজীবী ও প্রযুক্তি প্রেমীদের জন্য নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করে।



