20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিমারিয়া কোরিনা মাচাদো ভেনেজুয়েলায় শীঘ্রই ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ

মারিয়া কোরিনা মাচাদো ভেনেজুয়েলায় শীঘ্রই ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ

ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা ও নোবেল শান্তি পুরস্কারধারী মারিয়া কোরিনা মাচাদো সোমবার জানিয়েছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে অক্টোবর ২০২৫-এ একবার কথা বলেছিলেন এবং এরপর থেকে কোনো সংযোগ নেই। মাচাদো এই মন্তব্য টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে করেন, যেখানে তিনি দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও নিজের পরিকল্পনা সম্পর্কে কথা বলেন।

মাচাদোকে নরওয়ের রাজধানী অস্কারে নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রদান করা হয়েছিল, যা নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি তাকে ভেনেজুয়েলার স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামের জন্য স্বীকৃতি দেয়। পুরস্কার ঘোষণার একই দিনে, অর্থাৎ ১০ অক্টোবর ২০২৫-এ তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপ করেন, তবে তার পর থেকে কোনো যোগাযোগ হয়নি।

মাচাদো গত মাসে ভেনেজুয়েলা ত্যাগ করে নরওয়েতে গিয়ে পুরস্কার গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে দেশে ফিরে আসেননি। তিনি জানিয়েছেন, শীঘ্রই সম্ভব হলে দেশে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তার এই ইচ্ছা দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব পায়।

সাক্ষাৎকারটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রধান টেলিভিশন চ্যানেলে সম্প্রচারিত হয়, যা মাচাদোর প্রথম প্রকাশ্য মন্তব্যের পরের দিন অনুষ্ঠিত হয়। এই সাক্ষাৎকারে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ভেনেজুয়েলা আক্রমণকে “মানবতা, স্বাধীনতা ও মানব মর্যাদার জন্য একটি বিশাল পদক্ষেপ” বলে প্রশংসা করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শনিবার ভেনেজুয়েলার উপর চালু হয় এবং দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই আক্রমণ আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে এবং ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করে।

সেই একই দিনে, ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ও তেল মন্ত্রী ডেলসি রোড্রিগেজকে অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়া হয়। রোড্রিগেজের শপথের পর থেকে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেতৃত্বের স্থিতিশীলতা নিয়ে নানা মতামত প্রকাশ পায়।

ট্রাম্প শনিবার মাচাদোর সঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনা নিয়ে মন্তব্য করে বলেন, তিনি দেশের অভ্যন্তরে যথেষ্ট সমর্থন ও সম্মান পায় না। এই মন্তব্য মাচাদোর রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।

মাচাদোর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ ভেনেজুয়েলার জনগণের জন্য একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের স্বৈরশাসনকে চ্যালেঞ্জ করা সম্ভব হবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরায় চালু হতে পারে।

অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলার সরকারী পক্ষের মন্তব্য এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা রোড্রিগেজের অস্থায়ী শাসনকালকে সংবেদনশীল সময় হিসেবে দেখছেন। দেশীয় অর্থনৈতিক সংকট ও তেল উৎপাদনের ওপর আন্তর্জাতিক নির্ভরতা এই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মাচাদোর প্রত্যাবর্তন পরিকল্পনা এবং তার নোবেল পুরস্কার অর্জন ভেনেজুয়েলার বিরোধী গোষ্ঠীর জন্য একটি মনোবল বৃদ্ধি করেছে। তবে তার ফিরে আসার সময়সূচি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখনো অনিশ্চিত।

ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, মাচাদোর ফিরে আসা দেশের অভ্যন্তরীণ শক্তির ভারসাম্য পরিবর্তন করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে। তবে বর্তমান অস্থিরতা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি তাকে সতর্ক থাকতে বলছে।

সারসংক্ষেপে, মারিয়া কোরিনা মাচাদো ভেনেজুয়েলায় শীঘ্রই ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন এবং দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের অনিশ্চয়তা নিয়ে আলোচনা চলমান। তার পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক গতিবিধি ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন মোড় আনতে পারে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments