দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং সোমবার বেইজিং-এ চীনের শীর্ষ নেতা শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। চার দিনের চীন সফরের প্রথম দিনে লি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং কোরিয়ান পপ সংস্কৃতির ওপর আরোপিত অনানুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া ইত্যাদি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেন।
সোমবারের সাক্ষাৎকারে লি উল্লেখ করেন যে এই সফর দক্ষিণ কোরিয়া-চীন সম্পর্কের পূর্ণাঙ্গ পুনর্নির্মাণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তিনি দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তি, বাণিজ্য ও পরিবেশ সংক্রান্ত একাধিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করার কথা জানান।
লির বেইজিং সফর চার দিনের মধ্যে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং এবং পার্লামেন্টের চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে মঙ্গলবারের বৈঠকও অন্তর্ভুক্ত করে। এই সফর ২০১৯ সালের পর প্রথমবারের মতো কোনো দক্ষিণ কোরিয়ান শীর্ষ নেতার চীনে সফর, যা দুই দেশের সম্পর্কের পুনরুজ্জীবনের সংকেত দেয়।
পূর্বে লি জে মিউংয়ের পূর্বসূরি, অপসারিত প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়োল, চীনের প্রতি কঠোর অবস্থান গ্রহণের ফলে দু’দেশের সম্পর্ক খারাপ হয়ে গিয়েছিল। শি জিনপিং এখন চীন-জাপান কূটনৈতিক উত্তেজনার মাঝখানে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করার দিকে মনোনিবেশ করেছেন।
দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা জোটের অংশ হলেও বাণিজ্যিকভাবে চীনের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। বিশ্লেষকরা বলেন লি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার পাশাপাশি টোকিওর সঙ্গে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।
এই সফরে শি জিনপিং এবং লি জে মিউং দুজনই নভেম্বর মাসে শি দক্ষিণ কোরিয়ায় আঞ্চলিক অর্থনৈতিক শীর্ষ সম্মেলনের সময় একবার সাক্ষাৎ করেছিলেন। লি সফরের সময় শি জিনপিংয়ের কাছ থেকে একটি শাওমি স্মার্টফোন উপহার পেয়েছিলেন, যা দিয়ে দুজনেই একাধিক সেলফি তোলেন। লি এই ছবিগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে ফোনের ছবি গুণমানের প্রশংসা করেন।
বেইজিংয়ের গ্রেট হল অফ দ্য পিপল-এ লির জন্য আয়োজিত ভোজে শি জিনপিং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির জটিলতা ও অস্থিরতা উল্লেখ করেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর গ্রেপ্তারের খবরও শোনা যায়। শি লিকে ইতিহাসের সঠিক দিক থেকে দাঁড়িয়ে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে আহ্বান জানান, যা চীনা রাষ্ট্রসংবাদ সংস্থা শিনহুয়া রিপোর্ট করেছে।
লির চীন সফর শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো চীনের সঙ্গে প্রযুক্তি, পরিবেশ ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে নতুন প্রকল্প চালু করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এই উদ্যোগগুলো উভয় দেশের অর্থনৈতিক সংযোগকে আরও গভীর করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়া-চীন সম্পর্কের পুনরায় গড়ে তোলার এই প্রচেষ্টা উভয় দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিবেশের ওপর কী প্রভাব ফেলবে তা সময়ই প্রকাশ করবে। তবে বর্তমান পর্যায়ে লি জে মিউংয়ের কূটনৈতিক পদক্ষেপগুলোকে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতার ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।



