যগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্র ও হল ছাত্র ইউনিয়ন নির্বাচন আজ, ৬ জানুয়ারি, শেষ পর্যন্ত স্থগিত হওয়া পরের দিন অনুষ্ঠিত হয়েছে। পূর্বে তিনবারের বেশি দেরি হওয়ায় ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা বাড়িয়ে ভোটদান প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হচ্ছে।
ইলেকশন কমিশনের মতে, ভোটদান ৩৯টি কেন্দ্রে মোট ১৭৮টি ভোটকেন্দ্র থেকে হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে যাতে প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায় এবং ভোট গোনার পর ফলাফল সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
প্রত্যাশিত ভোটার সংখ্যা ১৬,৪৪৫, যার মধ্যে কেন্দ্রীয় ইউনিয়নের ২১টি পদে ১৫৭ জন প্রার্থী এবং হল ইউনিয়নের ১৩টি পদে ৩৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এই সংখ্যাগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংখ্যা এবং পূর্বের নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য।
নির্বাচনের পুনরায় নির্ধারণের পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বরের ছাত্র প্রতিবাদের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রথমে ২৭ নভেম্বরের জন্য সময় নির্ধারণ করেছিল। তবে ভূমিকম্পের আতঙ্ক ও ক্যাম্পাস বন্ধের কারণে এটি ২২ ডিসেম্বরের দিকে সরানো হয়। আবার ৩০ ডিসেম্বরের জন্য নির্ধারিত হলে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর আবার দেরি করা হয়। শেষ পর্যন্ত ইলেকশন কমিশন আজকের দিনটি নতুন তারিখ হিসেবে নির্ধারণ করে।
এই ধারাবাহিক দেরি ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় ইউনিয়ন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় অংশগ্রহণের হার নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিচ্ছে।
অর্থনীতির ছাত্র লাবিবের মতে, প্রাথমিক উত্তেজনা এখন কমে গেছে। তিনি উল্লেখ করেন, “প্রথমে এই নির্বাচনকে নিয়ে ক্যাম্পাসে উচ্ছ্বাস ছিল, তবে তিনবারের বেশি দেরি হওয়ার পর অনেক ছাত্রই ক্যাম্পাস ছেড়ে গেছে।” তার এই মন্তব্যের পেছনে শিক্ষার্থীদের মনোভাবের পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে দাঁড়ায়।
প্রার্থীদের পক্ষ থেকে ভোটদানকে উৎসাহিত করার প্রচেষ্টা চলছে। সমজাতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সমর্থিত মাওলানা ভাসানী ব্রিগেড প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ইভান তাহসিব ছাত্রদের ভোট দিতে আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে চিত্রা দল ও ছাত্র অধিকার-ব্যাপারী গোষ্ঠীর সহ-সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী বি.এম. আতিকুর রহমান তানজিলও ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
নিরাপত্তা দিক থেকে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ ও গার্ড উপস্থিত রয়েছে। ভোটকেন্দ্রগুলোতে প্রবেশের আগে পরিচয়পত্র যাচাই করা হয় এবং ভোটদানের সময় কোনো অননুমোদিত বস্তু বহন নিষিদ্ধ। এই ব্যবস্থা ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সম্ভাব্য অশান্তি রোধে সহায়তা করবে।
ভোটদান প্রক্রিয়া সহজ ও সুষ্ঠু রাখতে ছাত্রদের কিছু ব্যবহারিক পরামর্শ দেওয়া যায়। প্রথমে নিজের ভোটকেন্দ্রের ঠিকানা ও সময়সূচি আগে থেকে জানিয়ে নিন, ভোটের দিন পরিচয়পত্র ও ছাত্র আইডি সঙ্গে রাখুন, এবং ভোটের পর ফলাফল লাইভ সম্প্রচার দেখার জন্য প্রস্তুত থাকুন। শেষ পর্যন্ত, ক্যাম্পাসের ভবিষ্যৎ গঠন ও প্রতিনিধিত্বের জন্য সক্রিয় অংশগ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আপনার মতামত কী? আপনি কি আজকের নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত? ভোটের মাধ্যমে আপনার কণ্ঠস্বরকে শক্তিশালী করুন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে অবদান রাখুন।



