সরকারের সাম্প্রতিক ঘোষণা অনুযায়ী সব ধরনের সঞ্চয় পত্রের সুদের হার কমানোর পরিকল্পনা পরিত্যক্ত হয়েছে এবং পূর্বের হার বজায় রাখা হয়েছে। ফলে পরিবার সঞ্চয় পত্রের ক্রেতারা পূর্বের সুদের হার থেকে একই রকম আয় পেতে পারবেন। এই পরিবর্তন বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারের আর্থিক পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
পরিবার সঞ্চয় পত্র মূলত মধ্যবিত্ত নারীদের মধ্যে জনপ্রিয় একটি সঞ্চয় স্কিম, যেখানে মাসিক মুনাফা নিয়মিতভাবে নেওয়া যায়। একক নামের অধীনে সর্বোচ্চ ৪৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করা সম্ভব, তবে পুরো পত্রের সর্বোচ্চ সীমা ও শর্তাবলী ব্যাংকের নীতি অনুযায়ী নির্ধারিত।
সুদের হার দুইটি স্তরে বিভক্ত। সাড়ে সাত লক্ষ টাকার কম বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বার্ষিক সুদের হার ১১.৯৩ শতাংশ নির্ধারিত, আর সাড়ে সাত লক্ষ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে হার ১১.৮০ শতাংশ রাখা হয়েছে। এই হারগুলো পাঁচ বছরের মেয়াদে সমানভাবে প্রয়োগ হয়।
কর সংক্রান্ত বিধানও দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। পাঁচ লক্ষ টাকার নিচে বিনিয়োগের ওপর উৎসে কর ৫ শতাংশ, আর পাঁচ লক্ষ টাকার উপরে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ কর কাটা হয়। কর কাটা পরবর্তী নিট মুনাফা বিনিয়োগকারীর হাতে পৌঁছে।
এক লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে সাড়ে সাত লক্ষ টাকার কম স্তরে মাসিক মুনাফা প্রায় ৯৯৪ টাকা ১৭ পয়সা হয়। এই পরিমাণে কর কাটা না হলে মোট আয় এই রকম, তবে বাস্তবে করের প্রভাব বিবেচনা করতে হবে।
যদি বিনিয়োগের পরিমাণ পাঁচ লক্ষ টাকার নিচে থাকে, তবে ৫ শতাংশ উৎসে কর কাটা হয়। এই ক্ষেত্রে এক লাখ টাকার জন্য নিট মুনাফা প্রায় ৮৪৪ টাকা ৪৬ পয়সা হয়, যা কর কাটা পরের প্রকৃত আয়।
বিনিয়োগের পরিমাণ পাঁচ লক্ষ টাকার উপরে কিন্তু সাড়ে সাত লক্ষ টাকার নিচে থাকলে ১০ শতাংশ কর কাটা হয়। এই শর্তে এক লাখ টাকার জন্য মাসিক নিট মুনাফা প্রায় ৮৯৪ টাকা ৭৫ পয়সা হয়।
সাড়ে সাত লক্ষ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বার্ষিক সুদের হার ১১.৮০ শতাংশ, যা এক লাখ টাকার জন্য মাসিক মুনাফা ৯৮৩ টাকা ৩৩ পয়সা তৈরি করে। তবে ১০ শতাংশ উৎসে কর কাটা হলে নিট আয় প্রায় ৮৮৫ টাকা হয়।
পঞ্চবছরের মেয়াদ শেষে মূলধন সম্পূর্ণ ফেরত পাওয়া যায়, এবং মাসিক মুনাফা ধারাবাহিকভাবে নেওয়া যায়। মেয়াদ পূর্ণের আগে নগদায়ন করলে সরকার মাসিক মুনাফা কমিয়ে বাকি টাকা ফেরত দেয়, যা বিনিয়োগকারীর জন্য অতিরিক্ত খরচ হতে পারে।
এই স্কিমের স্থিতিশীল সুদের হার এবং মাসিক আয় নিশ্চিত করার ক্ষমতা মধ্যবিত্ত পরিবারের সঞ্চয় পদ্ধতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে নারীরা এই পত্রকে দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক নিরাপত্তা হিসেবে গ্রহণ করছেন। সরকারী নীতির পুনর্বিবেচনা সুদের হার বজায় রাখার ফলে বিনিয়োগের আকর্ষণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভবিষ্যতে সুদের হার পুনরায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকলেও, বর্তমান হার ও করের কাঠামোকে বিবেচনা করে বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল রিটার্ন আশা করতে পারেন। তবে মুদ্রাস্ফীতি, বাজারের তরলতা এবং নীতি পরিবর্তনের ঝুঁকি সবসময় উপস্থিত থাকে, তাই বিনিয়োগের আগে সম্পূর্ণ আর্থিক পরিকল্পনা করা জরুরি।



