কেট লোয়ারি, যিনি ইনসাইট পার্টনার্সে প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন, ২০২৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার সান মাটেও কাউন্টিতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় তিনি কোম্পানির ওপর প্রতিবন্ধী বৈষম্য, লিঙ্গ বৈষম্য এবং অবৈধ বরখাস্তের অভিযোগ তুলেছেন।
লোয়ারি ২০২২ সালে ইনসাইট পার্টনার্সে যোগদান করেন, তার আগে তিনি মেটা, ম্যাককিন্সি অ্যান্ড কোম্পানি এবং একটি প্রারম্ভিক স্টার্ট‑আপে কর্মরত ছিলেন। তার কর্মজীবনের এই পরিবর্তনটি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সেক্টরে উচ্চ পর্যায়ের পেশাদারদের চলাচলকে নির্দেশ করে।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিয়োগের সময় তাকে যে সুপারভাইজারকে জানানো হয়েছিল, তার বদলে অন্য একজন নারী সুপারভাইজার তাকে তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে নেন। এই পরিবর্তনটি লোয়ারির কাজের পরিবেশে অপ্রত্যাশিত চাপের সূচনা করে।
নতুন সুপারভাইজার লোয়ারিকে কাজের সময়সূচি সম্পর্কে কঠোর নির্দেশ দেন। তিনি ছুটির দিন, পিএইচডি (PTO) এবং সপ্তাহান্তসহ সব সময় অনলাইন থাকতে এবং সকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বারবার উত্তর দিতে বাধ্য করেন। এই ধরনের অনির্দিষ্ট কাজের সময়সূচি কর্মীর স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
লোয়ারি আরও জানান যে, সুপারভাইজার তাকে ক্রমাগত তিরস্কার, হেজিং এবং বিরক্তিকর আচরণের শিকার করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, একই স্তরের পুরুষ কর্মীদের তুলনায় লোয়ারির ওপর হেজিং আরও কঠোর ও দীর্ঘস্থায়ী ছিল।
মামলায় উল্লিখিত কিছু মন্তব্যের মধ্যে রয়েছে “তুমি অযোগ্য, চুপ কর এবং নোট নাও” এবং “আমার কথা না শোনলে তুমি কুকুরের মতো হবে; আমি যা বলি, তা তৎক্ষণাৎ মেনে চলো”। এই ধরনের ভাষা কর্মস্থলে শত্রুতামূলক পরিবেশ গড়ে তুলতে পারে।
অধিকন্তু, লোয়ারি অভিযোগ করেন যে, তাকে অপ্রয়োজনীয় কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ কল ও মিটিংয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত করা হয়েছে। একই সময়ে, কম অভিজ্ঞ পুরুষ সহকর্মীদেরকে এই সুযোগ প্রদান করা হয়েছে।
ফলস্বরূপ, লোয়ারিকে মূলত নোট নেওয়া এবং ডেটা ক্যাটালগিংয়ের মতো প্রশাসনিক কাজেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। এই ধরনের কাজের পুনর্বিন্যাস তার ক্যারিয়ার উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করেছে বলে তিনি দাবি করেন।
কাজের অতিরিক্ত চাপের ফলে লোয়ারির স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেছে। তার চিকিৎসক তাকে চিকিৎসা ছুটির পরামর্শ দিয়েছেন, যা নির্দেশ করে যে কাজের পরিবেশ তার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলেছে।
মামলায় লোয়ারি কোম্পানির বিরুদ্ধে সমান সুযোগের অধিকার, বৈষম্যবিরোধী সুরক্ষা এবং অবৈধ বরখাস্তের জন্য ক্ষতিপূরণ ও সংশোধনমূলক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল শিল্পের কিছু শক্তিশালী ব্যক্তিরা আইন ভঙ্গ করে এবং কর্মীদের ন্যূনতম মজুরি ও ন্যায়সঙ্গত আচরণ থেকে বঞ্চিত করেন।
ইনসাইট পার্টনার্সের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। কোম্পানির এই ধরনের অভিযোগের প্রতি প্রতিক্রিয়া না দেওয়া বাজারে তার সুনাম ও বিনিয়োগকারীর আস্থা ক্ষয় করতে পারে।
বিনিয়োগ ক্ষেত্রের বিশ্লেষকরা এই মামলাকে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্মগুলোর জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে অন্যান্য ফার্মগুলোকে কর্মস্থলের নীতি পুনর্বিবেচনা, বৈষম্যবিরোধী প্রশিক্ষণ এবং কর্মী কল্যাণে অধিক মনোযোগ দিতে হতে পারে।
অধিকন্তু, এই ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ডের তহবিল সংগ্রহের খরচ বাড়াতে পারে, কারণ বিনিয়োগকারীরা শাসন ও নৈতিক মানদণ্ডের প্রতি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ভবিষ্যতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর তত্ত্বাবধান বাড়তে পারে এবং শিল্পের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার জন্য নতুন নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, কেট লোয়ারির মামলা ইনসাইট পার্টনার্সের জন্য আইনি ও সুনামগত ঝুঁকি উভয়ই তৈরি করেছে। ভেঞ্চার ক্যাপিটাল শিল্পের জন্য এটি কর্মস্থল সংস্কার, বৈষম্যবিরোধী নীতি এবং কর্মী সুরক্ষার ক্ষেত্রে পুনর্বিবেচনার সময় নির্দেশ করে।



