উবের কোম্পানি সিইএস ২০২৬-এ তার নতুন রোবোট্যাক্সির নকশা প্রকাশ করেছে, যা ২০২৬ সালের শেষের দিকে সান ফ্রান্সিসকোর রাস্তায় চালু হওয়ার পরিকল্পনা। এই স্বয়ংচালিত ট্যাক্সি লুসিড এবং ন্যুরোর সঙ্গে গঠিত অংশীদারিত্বের ফল, এবং উবেরের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সেবা প্রদান করা হবে।
উবের, লুসিড এবং ন্যুরোর মধ্যে সহযোগিতা জুলাই মাসে ঘোষণা করা হয়েছিল। ত্রিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী লুসিডের ইলেকট্রিক গাড়ি ন্যুরোর স্বয়ংচালিত ড্রাইভার প্রযুক্তি ব্যবহার করবে, আর উবের এই গাড়িগুলোকে তার রাইড‑হেলিং অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেবে।
এই অংশীদারিত্বের লক্ষ্য কমপক্ষে বিশ হাজার লুসিড ইভি উৎপাদন করা, যা ন্যুরোর স্বয়ংচালিত সিস্টেমে সজ্জিত হবে। উবেরের পরিকল্পনা অনুযায়ী এই গাড়িগুলো উবেরের অ্যাপের মাধ্যমে বুক করা যাবে, ফলে শহরের পরিবহন ব্যবস্থায় নতুন স্বয়ংচালিত বিকল্প যোগ হবে।
প্রকাশিত নকশাটি “প্রোডাকশন ইন্টেন্ট” হিসেবে চিহ্নিত, অর্থাৎ এটি চূড়ান্ত উৎপাদন মডেল নয়; বাজারে আসার আগে কিছু পরিবর্তন হতে পারে। তবে বর্তমান নকশা ভবিষ্যৎ গাড়ির মূল বৈশিষ্ট্যগুলোকে প্রতিফলিত করে, যা প্রযুক্তি উত্সাহীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
পরীক্ষা পর্যায়ে গাড়িগুলো ইতিমধ্যে সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ায় রোড টেস্ট চালু করেছে। ন্যুরো গত মাসে একশের বেশি রোবোট্যাক্সি প্রোটোটাইপ চালু করে, যেখানে স্বয়ংচালিত অপারেটররা গাড়িগুলোকে তত্ত্বাবধান করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এই টেস্টিং প্রোগ্রামটি বৃহৎ স্কেলে উৎপাদনের পূর্বে সিস্টেমের স্থায়িত্ব যাচাই করার উদ্দেশ্যে।
রোবোট্যাক্সিটি লুসিডের গ্র্যাভিটি মডেলের পরিবর্তিত সংস্করণ, যা উচ্চ পারফরম্যান্স ইলেকট্রিক গাড়ির ভিত্তিতে তৈরি। গাড়ির বডি ও চ্যাসিসে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে, যাতে স্বয়ংচালিত সেন্সর ও কম্পিউটিং ইউনিটের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নিশ্চিত হয়।
গাড়ির সামনে ও পাশে উচ্চ রেজোলিউশনের ক্যামেরা, লিডার এবং রাডার সেন্সর সংযুক্ত করা হয়েছে। এই বহু-সেন্সর সিস্টেমটি রিয়েল‑টাইমে পরিবেশের ৩ডি মানচিত্র তৈরি করে, যা গাড়িকে বাধা, পথচারী ও ট্রাফিক সিগন্যাল সঠিকভাবে শনাক্ত করতে সাহায্য করে।
গাড়ির ছাদে একটি হ্যালো-আকৃতির ডিভাইস স্থাপন করা হয়েছে, যা সেন্সরের দৃশ্যমানতা বাড়ায় এবং একই সাথে LED দিয়ে তথ্য প্রদর্শন করে। যাত্রীদের জন্য এই ডিসপ্লে রাইডের অবস্থা, অনুমানিত আগমনের সময় এবং অন্যান্য সহায়ক তথ্য দেখাতে সক্ষম।
অভ্যন্তরীণ নকশা উবেরের নিজস্ব “ইন‑ভেহিকল রাইডার এক্সপেরিয়েন্স” হিসেবে পরিচিত, যেখানে ছয়জন যাত্রী এবং তাদের লাগেজের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রাখা হয়েছে। সিটগুলো হিটেড, এবং গাড়ির ভিতরে একটি টাচস্ক্রিনের মাধ্যমে তাপমাত্রা, সঙ্গীত এবং অন্যান্য সেটিংস নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
টাচস্ক্রিনে জরুরি সেবা সক্রিয় করার অপশনও রয়েছে; যাত্রী সমস্যার সম্মুখীন হলে সরাসরি সাপোর্টের সঙ্গে সংযোগ করা বা গাড়িটিকে পাশে থামাতে অনুরোধ করা সম্ভব। এই ইন্টারফেসটি যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য বাড়াতে ডিজাইন করা হয়েছে।
গাড়ির ড্যাশবোর্ডে একটি ইন্টারেক্টিভ স্ক্রিন রাইডের পরিকল্পিত পথকে রিয়েল‑টাইমে দেখায়, এবং গাড়ি যে সিদ্ধান্ত নেয়—যেমন পথচারীর সঙ্গে পারস্পরিক ক্রিয়া, ট্রাফিক লাইটের প্রতিক্রিয়া বা লেন পরিবর্তন—সেগুলোও প্রদর্শন করে। এই স্বচ্ছতা স্বয়ংচালিত গাড়ির প্রতি ব্যবহারকারীর আস্থা বাড়াতে লক্ষ্যযুক্ত।
ডিজাইনটি এখনও চূড়ান্ত যাচাইয়ের অপেক্ষায় আছে, তবে উৎপাদন লুসিডের অ্যারিজোনা কারখানায় এই বছর শেষের দিকে শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে। সিইএস ২০২৬-এ গাড়ির প্রোটোটাইপ প্রদর্শনের পর, উবেরের রোবোট্যাক্সি ২০২৬ সালের শেষের দিকে সান ফ্রান্সিসকোতে সেবায় প্রবেশের প্রস্তুতি নেবে।
এই উদ্যোগটি শহরের পরিবহন ব্যবস্থায় স্বয়ংচালিত প্রযুক্তির সংযোজনকে ত্বরান্বিত করবে, এবং রাইড‑হেলিং সেবার নতুন মানদণ্ড স্থাপন করবে বলে বিশ্লেষকরা আশা করছেন। স্বয়ংচালিত গাড়ি যদি নিরাপদে ও কার্যকরভাবে কাজ করে, তবে ট্রাফিক জ্যাম কমে, পরিবেশগত প্রভাব হ্রাস পাবে এবং যাত্রীদের জন্য ভ্রমণ অভিজ্ঞতা উন্নত হবে।



