আফ্রিকান নেশনস কাপের শেষ-১৬ ম্যাচে নাইজেরিয়া ও মোজাম্বিকের মুখোমুখি হওয়া ম্যাচটি ফেজের ভেজা মাটিতে অনুষ্ঠিত হয়। বৃষ্টির ফোঁটা স্টেডিয়ামের ঘাসে ছড়িয়ে গিয়ে খেলার গতি বাড়িয়ে তুলেছিল, তবে নাইজেরিয়ার আক্রমণাত্মক শক্তি তবু স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়।
নাইজেরিয়ার আক্রমণকে নেতৃত্ব দিচ্ছিল এডেমোলা লুকম্যান, যিনি ২০তম মিনিটে তৃতীয় টুর্নামেন্ট গোলের মাধ্যমে দলকে এক গোলের সুবিধা দেন। এই গোলটি আসে আকোর আদামসের চতুর কাটব্যাকের পর লুকম্যানের নিখুঁত শটের মাধ্যমে, যা সরাসরি উপরের কোণায় গিয়ে গেমের সূচনা করে।
পাঁচ মিনিট পর লুকম্যানের আরেকটি ক্রস ভিক্টর ওসিমহেনের মাথায় পৌঁছে, যার ফলে দ্বিতীয় গোল নেমে আসে এবং স্কোর ২-০ হয়ে যায়। এই দুইটি গোলই লুকম্যানের সরাসরি অংশগ্রহণের ফল, যা নাইজেরিয়ার আক্রমণকে আরও তীব্র করে তুলেছিল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মাত্র দুই মিনিটে একই সংযোগ আবার কাজ করে, আরেকটি গোলের সুযোগ তৈরি হয়। যদিও গোলদাতা নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি, তবে এটি লুকম্যানের সহায়তায় ঘটেছে বলে জানা যায়। এরপর আবার আদামস লুকম্যানের আরেকটি পাসে চারটি গোলের মধ্যে চতুর্থটি করেন, ফলে স্কোর ৪-০ হয়ে যায়।
মোজাম্বিকের জন্য এই পরাজয় শেষের চেয়ে বেশি কিছুই নয়; তারা প্রথমার্ধে একবারই গোল করতে পারলেও, লুকম্যানের ত্রিকোণায় গঠিত আক্রমণ তাদের প্রতিরক্ষা ভেঙে দেয়। শেষ পর্যন্ত মোজাম্বিকের কোনো প্রতিক্রিয়া না থাকায় তারা ৪-০ হারে পরাজিত হয় এবং নাইজেরিয়া কোয়ার্টারফাইনালে অগ্রসর হয়।
নাইজেরিয়ার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে কিছু ঐতিহাসিক পটভূমি রয়েছে। গত দুই দশকে দলটি প্রায়ই নিজের ইতিহাসের ওজন ও প্রত্যাশার সঙ্গে সংগ্রাম করে চলেছে, যদিও ২০১৩ সালে চ্যাম্পিয়নশিপ জয় এবং ২০২৪ সালে ফাইনালে পৌঁছানোর মতো সাফল্যও অর্জন করেছে। তবে এই সাফল্যগুলো প্রায়ই কঠোর পরিশ্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিল, এবং দলটি সহজে জয়লাভের পথে নয়।
এই ম্যাচের আগে দলটি বোনাস বিতর্কের কারণে দু’দিন প্রশিক্ষণ থেকে বিরত ছিল, যা ডি আর কঙ্গোর বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ার প্লে-অফের আগে ঘটেছিল। এছাড়া কোচ এরিক শেল্লে সম্প্রতি জানিয়েছিলেন যে তিনি তিন মাসের বেশি বেতন পাননি, যা দলের অভ্যন্তরীণ সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। মিডিয়া অ্যাক্সেস এবং পটভূমি গুজবের কথাও প্রায়ই শোনা যায়, তবে মাঠে তাদের পারফরম্যান্স এই সমস্যাগুলোকে সাময়িকভাবে পেছনে ফেলে দেয়।
দলটি গ্রুপ পর্যায়ে তিনটি ম্যাচে আটটি গোল করে সবগুলোই জয়লাভ করেছে, তবে রক্ষণাত্মক দিক থেকে তারা বেশ উন্মুক্ত ছিল। বিশেষ করে টিউনিসিয়ার বিরুদ্ধে ৩-০ লিডে গিয়ে শেষ ১৬ মিনিটে দু’টি গোল conced করে তারা পরিষ্কার শীট রাখতে পারেনি। এই রকম রক্ষণাত্মক দুর্বলতা সত্ত্বেও লুকম্যানের নেতৃত্বে আক্রমণাত্মক দিকটি উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে, যা আজকের ৪-০ জয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
নাইজেরিয়ার এই জয় তাদেরকে কোয়ার্টারফাইনালের পথে নিয়ে যাবে, যেখানে তারা পরবর্তী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে। দলটি এখন পর্যন্ত দেখিয়েছে যে, যদি লুকম্যানের মতো খেলোয়াড়ের সৃজনশীলতা এবং ওসিমহেনের শেষ মুহূর্তের ফিনিশিং একসাথে কাজ করে, তবে তারা যেকোনো প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ করতে সক্ষম। ভবিষ্যতে রক্ষণাত্মক সমস্যাগুলো সমাধান করা এবং মিডিয়া সম্পর্ক উন্নত করা দলকে আরও শক্তিশালী করবে।
সারসংক্ষেপে, লুকম্যানের ত্রিকোণা এবং আদামসের সহায়তা নাইজেরিয়াকে মোজাম্বিকের ওপর বিশাল পার্থক্য তৈরি করতে সাহায্য করেছে। এই জয় শুধু টুর্নামেন্টে অগ্রগতিই নয়, বরং দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে, যা পরবর্তী রাউন্ডে তাদের পারফরম্যান্সকে আরও উজ্জ্বল করতে পারে।



