27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিজামায়েত‑ইসলামির সহকারী সচিব আজাদের সম্পদ ১৭ বছরে পাঁচগুণ বৃদ্ধি

জামায়েত‑ইসলামির সহকারী সচিব আজাদের সম্পদ ১৭ বছরে পাঁচগুণ বৃদ্ধি

জামায়েত‑ইসলামির সহকারী সচিব ও কক্সবাজার‑২ নির্বাচনী প্রার্থী এ.এইচ.এম. হামিদুর রহমান আজাদ ২০০৮ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত তার সম্পদের মূল্যায়নে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখেছেন। ১৭ বছরের মধ্যে তার নিট সম্পদ প্রায় পাঁচগুণ বেড়ে টাকার ১.৯৩ কোটি হয়েছে। একই সময়ে তার বার্ষিক আয় প্রায় ছয়গুণ বাড়ে, ২০০৮ সালে টাকার ২.৯৮ লাখ থেকে ২০২৫ সালে টাকার ১৯.২৭ লাখে পৌঁছেছে।

আজাদ ২০০৮ সালে কক্সবাজার‑২ আসনে প্রথমবার জয়লাভ করেন এবং এরপর থেকে এই নির্বাচনী এলাকা তার রাজনৈতিক ভিত্তি হিসেবে রয়ে গেছে। তার সাম্প্রতিক সম্পদ বিবরণে রিয়েল এস্টেটের ওপর বিনিয়োগের মাত্রা বাড়ার স্পষ্ট চিত্র দেখা যায়।

অ-কৃষি জমির মালিকানায় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়; ২০০৮ সালে তিনি ৭.২৫ কাঠা জমি রাখতেন, আর ২০২৫ সালে তা কমে ১.২৫ কাঠা হয়েছে। তবে তার রিয়েল এস্টেট পোর্টফোলিওতে নতুন সম্পদ যুক্ত হয়েছে। ঢাকার রামপুরা এলাকায় ৩,৬২৫ বর্গফুটের ছয়তলা ভবনের অর্ধেক শেয়ার তার নামে, আর বাকি অর্ধেক তার স্ত্রীকে নিবন্ধিত।

এই সম্পত্তির বাজারমূল্য টাকার ৬০.৯ লাখ হিসেবে ঘোষিত হয়েছে। তাছাড়া, বসুন্ধরায় ২,০৬৬ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে, যা নাবালকের নামে রেজিস্টার করা এবং টাকার ৬৭.৪৩ লাখ মূল্যায়িত। ২০০৮ সালে তিনি খিলগাঁয়ে ১০,৯০০ বর্গফুটের নির্মাণাধীন একটি ভবন রাখতেন, যার মূল্য টাকার ২০ লাখ ছিল।

আয় উৎসের গঠনেও পরিবর্তন স্পষ্ট। ২০০৮ সালে তার একমাত্র আয় ব্যবসা থেকে টাকার ২.৯৮ লাখ ছিল। তবে ২০২৪ অর্থবছরে তিনি জমি বিক্রি থেকে টাকার ১৪.৪১ লাখ এবং ভাড়া থেকে টাকার ৪.৭৩ লাখ উপার্জন করেছেন। যদিও তার পাঁচটি কোম্পানি রয়েছে, তবে এই কোম্পানিগুলোর থেকে কোনো আয় প্রকাশ করা হয়নি।

চলতি বছর তার অচল সম্পদে টাকার ৬০.৯ লাখের পাশাপাশি, চলতি সম্পদে টাকার ৮১.৭৬ লাখের উল্লেখ রয়েছে, যা ২০০৮ সালের টাকার ৯.২৬ লাখের তুলনায় দশ গুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। তার নগদ অর্থ টাকার ৪৭.৫৬ লাখ, ব্যাংক জমা টাকার ১০.৩১ লাখ এবং নৌকা শেয়ার ৯টি তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে টাকার ৭.২৬ লাখ বিনিয়োগ রয়েছে।

আজাদের স্ত্রীও উল্লেখযোগ্য সম্পদ ধারণ করেন। তার কাছে ২৫.৬৩ ডেসিমেল জমি রয়েছে, যার অচল সম্পদের মূল্য টাকার ১.১৬ কোটি। চলতি সম্পদে টাকার ৬.১৯ লাখ এবং বার্ষিক আয় টাকার ৪.৭৩ লাখ।

সম্পদ বিবরণে দেখা যায়, আজাদ ও তার পরিবারের মোট অচল সম্পদের মূল্য প্রায় টাকার ১.৯৩ কোটি, যা তার রাজনৈতিক প্রোফাইলের সঙ্গে সম্পদের বৃদ্ধি কীভাবে যুক্ত হতে পারে তা নিয়ে বিশ্লেষণকে উস্কে দেবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, সম্পদের এই দ্রুত বৃদ্ধি তার নির্বাচনী প্রচার ও পার্টির আর্থিক কাঠামোর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে আজাদ নিজে কোনো অতিরিক্ত আয় উৎসের তথ্য প্রকাশ না করে এই বিষয়টি স্পষ্ট করেননি।

অধিকন্তু, তার স্বামীর সম্পদে উল্লেখযোগ্য নগদ ও শেয়ার বিনিয়োগের উপস্থিতি পারিবারিক সম্পদ গঠনকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই ধরনের সম্পদ বণ্টন নির্বাচনী সময়ে আর্থিক স্বচ্ছতার প্রশ্ন তুলতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে জামায়েত‑ইসলামির আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে, এবং আজাদের সম্পদ বিবরণ এই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। পার্টি নেতৃত্বের কাছ থেকে সম্পদ প্রকাশের নীতি সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।

ভবিষ্যতে কক্সবাজার‑২ আসনে তার পুনরায় নির্বাচনের সম্ভাবনা ও পার্টির আর্থিক নীতি কীভাবে গড়ে উঠবে, তা দেশের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে থাকবে। সম্পদের এই বৃদ্ধি তার রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে, তবে একই সঙ্গে জনমত ও প্রতিপক্ষের সমালোচনার মুখেও ফেলতে পারে।

সারসংক্ষেপে, আজাদের সম্পদ ও আয়ের দ্রুত বৃদ্ধি, রিয়েল এস্টেট ও জমি বিক্রির ওপর নির্ভরতা, এবং পারিবারিক সম্পদের বিস্তৃত গঠন, দেশের রাজনৈতিক ও আর্থিক পরিমণ্ডলে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments