20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিনিকোলাস মাদুরো নিউ ইয়র্কের ফেডারেল আদালতে প্রথমবার উপস্থিত, আত্মগৃহীত অপহরণ দাবি

নিকোলাস মাদুরো নিউ ইয়র্কের ফেডারেল আদালতে প্রথমবার উপস্থিত, আত্মগৃহীত অপহরণ দাবি

নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহে নিউ ইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো প্রথমবারের মতো উপস্থিত হন। তিনি আদালতে প্রবেশের মুহূর্তে নিজেরা ৩ জানুয়ারি থেকে ‘অপহরণ’ অবস্থায় আছেন বলে দাবি করেন এবং তার সঙ্গে তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসও ড্রাগ ও অস্ত্র সংক্রান্ত অভিযোগে ‘দোষী নয়’ বলে অস্বীকার করেন।

মাদুরোকে স্বাগত জানাতে আদালতের দরজার কাছাকাছি শিকলধ্বনি শোনা যায়, এরপর তিনি স্প্যানিশে শান্ত স্বরে নিজের পরিচয় নিশ্চিত করে বলেন, “আমি নিকোলাস মাদুরো, ভেনেজুয়েলার প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট, এবং আমি ৩ জানুয়ারি থেকে অপহৃত আছি।” আদালতে অনুবাদকের মাধ্যমে তার কথা শোনা যায়।

মাদুরোর সামনে বসা ৯২ বছর বয়সী বিচারক আলভিন হেলারস্টেইন দ্রুতই তাকে জানিয়ে দেন যে এই বিষয়গুলো পরবর্তীতে আলাদা সময়ে আলোচনা করা হবে। এরপর ৪০ মিনিটের আর্রাইন্ডমেন্টে মাদুরো ও তার স্ত্রী উভয়েই ড্রাগ এবং অস্ত্র সংক্রান্ত অভিযোগে ‘দোষী নয়’ বলে স্বীকারোক্তি দেন। মাদুরো বলেন, “আমি নির্দোষ, আমি একজন সৎ মানুষ,” আর ফ্লোরেস যোগ করেন, “আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ।”

দুজনকে শনিবার ভেনেজুয়েলায় তাদের কম্পাউন্ডে মার্কিন বাহিনীর হঠাৎ রাতের অপারেশনে গ্রেফতার করে নিউ ইয়র্কের জেলে স্থানান্তর করা হয়। গ্রেফতারের সময় সামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপরও আক্রমণ করা হয়। আদালতে উপস্থিত থাকাকালীন দুজনই নীল-কমলা জেল শার্ট ও খাকি প্যান্ট পরেছিলেন এবং স্প্যানিশ অনুবাদ শোনার জন্য হেডফোন ব্যবহার করছিলেন। দুজনের পাশে একটি আইনজীবী বসে ছিলেন। মাদুরো একটি হলুদ রঙের নোটপ্যাডে বিস্তারিত নোট নেন এবং বিচারকের অনুমতি নিয়ে শুনানির পরে সেটি সঙ্গে রাখার অনুরোধ করেন।

মাদুরো যখন কক্ষের মধ্যে প্রবেশ করেন, তখন একই ফেডারেল কক্ষটি সাম্প্রতিক সময়ে সীন “ডিডি” কম্বসের মামলায় ব্যবহৃত হয়েছিল। তিনি কক্ষের শেষ সারির কয়েকজনকে মাথা নেড়ে স্বাগত জানান। পুরো শুনানির সময় তিনি শীতল ও নিরবচ্ছিন্ন স্বভাব বজায় রাখেন। শেষের দিকে জনসমাগমে এক ব্যক্তি চিৎকার করে মাদুরোর অপরাধের শাস্তি সম্পর্কে মন্তব্য করেন, তবে মাদুরো তা উপেক্ষা করে “আমি প্রেসিডেন্ট এবং যুদ্ধবন্দী” বলে পুনরায় জোর দেন।

এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, মাদুরোর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচার প্রক্রিয়া চলবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে মাদুরোর গ্রেফতার আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে দেখা যেতে পারে, আর ভেনেজুয়েলা সরকার তার প্রেসিডেন্টকে ‘অপহরণ’ হিসেবে বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক সমর্থন চাইতে পারে। ভবিষ্যতে আদালতে অতিরিক্ত প্রমাণ উপস্থাপন ও সাক্ষী শোনার সম্ভাবনা রয়েছে, যা উভয় দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে।

বিচারক হেলারস্টেইন উল্লেখ করেছেন যে, মামলার পরবর্তী পর্যায়ে প্রমাণের বিশদ বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের যুক্তি শোনা হবে। মাদুরো ও ফ্লোরেসের আইনজীবীরা ইতিমধ্যে আপিলের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছেন, যদিও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক আপিল দাখিল করা হয়নি।

এই মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং ভেনেজুয়েলা-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে বিশ্লেষণ বাড়িয়ে তুলেছে। আদালতের পরবর্তী শুনানিগুলোতে উভয় পক্ষের যুক্তি ও প্রমাণের ভিত্তিতে চূড়ান্ত রায় নির্ধারিত হবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments