মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী ভেনেজুয়েলা রাজধানী কারাকাসে রাত ০২:০১ (স্থানীয় সময়) একটি সমন্বিত আক্রমণ চালায় এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও প্রথম মহিলা সিলিয়া ফ্লোরেসকে তাদের নিজস্ব কম্পাউন্ডে ধরা পড়ে। একই সময়ে রাজধানীর বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটিয়ে শহরের কিছু অংশ অন্ধকারে ডুবে যায়।
অপারেশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ডেল্টা ফোর্সের এ্যালিট ইউনিট মাদুরোর নিরাপত্তা কক্ষের দিকে অগ্রসর হয়। সূত্র অনুযায়ী, সিআইএ ভেনেজুয়েলীয় সরকারের এক সূত্রের সহায়তায় মাদুরোর অবস্থান সনাক্ত করে। মাদুরো স্টিল দিয়ে তৈরি সুরক্ষিত কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করেন, তবে দরজা সঠিকভাবে বন্ধ করতে পারেননি, ফলে তাকে ধরা পড়ে।
মার্কিন পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই আক্রমণে কোনো সৈন্যের প্রাণহানি হয়নি এবং সামান্য সংখ্যক আহত হয়েছে। অপারেশনটি সম্পন্ন করতে প্রায় ১৫০টি বিমান ব্যবহার করা হয়েছে, যা হেলিকপ্টার ও ফিক্সড-উইং উভয়ই অন্তর্ভুক্ত।
ধরা পড়া মাদুরো ও সিলিয়া ফ্লোরেসকে প্রথমে ইউএসএস আইও জিমা জাহাজে তুলে নেওয়া হয়, এরপর একটি সামরিক বিমান দিয়ে নিউ ইয়র্কের স্টুয়ার্ট এয়ার ন্যাশনাল গার্ড বেসে অবতরণ করা হয়। সেখানে থেকে তারা ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে স্থানান্তরিত হয়, যা একটি ফেডারেল কারাগার।
ভেনেজুয়েলায় আকাশে চালু করা বোমাবর্ষণগুলোকে অপারেশনের আড়াল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানান। এই বোমাবর্ষণগুলোতে পাঁচটি নির্দিষ্ট স্থানের লক্ষ্যবস্তু ছিল, যা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থা নিশ্চিত করেছে।
অপারেশনের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার শাসন ব্যবস্থা নিয়ে স্পষ্ট মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শাসন দল দেশের প্রশাসন সাময়িকভাবে পরিচালনা করবে যতক্ষণ না একটি “নিরাপদ, সঠিক এবং বিচক্ষণ” ক্ষমতার হস্তান্তর হয়। তাছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলোকে ভেনেজুয়েলায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এবং প্রয়োজনে দ্বিতীয় আক্রমণ চালানোর সতর্কতা প্রকাশ করেন।
ভেনেজুয়েলার উপ-প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজ এই ঘটনার পর দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিতে আস্থা প্রকাশ করে, সরকারকে “প্রয়োজনমতো রক্ষা” করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সশস্ত্র বাহিনী আক্রমণের সম্ভাব্য পুনরাবৃত্তি রোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখবে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা এই ঘটনাকে শীতল যুদ্ধের পরবর্তী বড় ভূ-রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করছেন। এক বিশ্লেষক বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ এবং তেল শিল্পে প্রবেশের পরিকল্পনা ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতাকে আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, কিছু দেশ এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে সমালোচনা করেছে।
পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের শাসন দল কীভাবে প্রশাসনিক কাঠামো গঠন করবে, তেল চুক্তি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী রূপ নেবে, তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে ঘনিষ্ঠ নজরদারির বিষয় হবে। বিশেষ করে মাদুরোর বিচার প্রক্রিয়া, তার রাজনৈতিক দল ও সমর্থকদের অবস্থান এবং দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা আগামী কয়েক সপ্তাহে মূল মাইলস্টোন হিসেবে বিবেচিত হবে।



