18 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাবাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম হ্রাস, ৫২,০০০ টন আমদানি সম্পন্ন

বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম হ্রাস, ৫২,০০০ টন আমদানি সম্পন্ন

দ্যাবি সরকার ডিসেম্বর মাসে পেঁয়াজের সরবরাহ স্থিতিশীল করতে এবং বাড়তে থাকা চাহিদা মেটাতে অনুমোদন দেয়ার পর থেকে, মোট ৫২,০০০ টনের বেশি পেঁয়াজ দেশীয় বাজারে প্রবেশ করেছে। এই পদক্ষেপের ফলে রিটেইল দামে উল্লেখযোগ্য হ্রাস দেখা গেছে, যা উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি (গত মাসে ৮.৪৯ শতাংশ) থেকে ভোক্তাদের কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে।

ডিপার্টমেন্ট অফ এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন (ডিএই) অনুযায়ী, ৭ ডিসেম্বর থেকে আজ পর্যন্ত সরকার মোট ৭৩,০৫০ টন পেঁয়াজের আমদানি অনুমোদন করেছে। অনুমোদিত পরিমাণের বেশিরভাগই ভারত থেকে এসেছে, যা দেশের প্রধান পেঁয়াজ সরবরাহকারী হিসেবে তার ভূমিকা পুনরায় নিশ্চিত করে। ডিএই-এর প্ল্যান্ট কোয়ারান্টাইন শাখার অতিরিক্ত উপ-নির্দেশক বলছেন, সব আমদানি করা পেঁয়াজের জন্য ফাইটোস্যানিটারি সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক, যা গুণগত মান ও রোগমুক্তি নিশ্চিত করে।

ডিসেম্বরের শেষের দিকে রিটেইল বাজারে পেঁয়াজের দাম এক সপ্তাহের মধ্যে টাকার ১৫০ টাকার উপরে পৌঁছেছিল, যা ভোক্তাদের জন্য বড় ধাক্কা ছিল। এই অস্বাভাবিক উত্থান মোকাবেলায় কৃষি মন্ত্রণালয় ঘোষণা করে যে, শুধুমাত্র আগস্টের প্রথম দিন থেকে আমদানি পারমিটের জন্য আবেদন করা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোই পেঁয়াজ আমদানি করতে পারবে। এই নীতি দ্রুত বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ আনতে সহায়তা করেছে।

আজকের বাজারে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন কিচেন মার্কেটে আমদানি করা পেঁয়াজের বিক্রয়মূল্য কিলোগ্রামে টাকার ৬৫ থেকে ৭২ পর্যন্ত পরিবর্তিত হচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, এই দামের পরিসীমা মূলত সরবরাহের পরিমাণ এবং পরিবহন ব্যয়ের ওপর নির্ভরশীল। আমদানিকারকদের জন্য মোট ল্যান্ডেড কস্ট, যার মধ্যে শিপিং ও অন্যান্য সহায়ক খরচ অন্তর্ভুক্ত, টাকার ৫০ থেকে ৫২ পর্যন্ত।

ঢাকার করবান বাজারের এক বিক্রেতা শাহীদুল আলমের মতে, গতকালই নতুন আমদানি করা পেঁয়াজের দাম কিলোগ্রামে ৬৫ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে ছিল, যেখানে আগের সপ্তাহে বাজারে আসা প্রাথমিক পণ্যগুলোর দাম ৬০ থেকে ৬৫ টাকার মধ্যে। প্রাথমিক পণ্যগুলো প্রায় এক মাস আগে বাজারে প্রবেশ করেছিল, এবং প্রথমে এক কিলোগ্রাম পেঁয়াজের দাম টাকার ১৩০ থেকে ১৫০ পর্যন্ত ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই দাম ধীরে ধীরে কমে এসেছে।

পেঁয়াজের দামের এই পতন ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলেছে, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের গোষ্ঠীর জন্য। মুদ্রাস্ফীতি উচ্চ থাকা সত্ত্বেও, পেঁয়াজের মূল্যের হ্রাস খাদ্যদ্রব্যের সামগ্রিক ব্যয়কে কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে, যা বাজারে সামগ্রিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক।

তবে, দীর্ঘমেয়াদে ভারতের উপর নির্ভরতা একটি ঝুঁকি হিসেবে রয়ে গেছে। যদি ভারতীয় বাজারে সরবরাহের ঘাটতি বা মূল্যবৃদ্ধি ঘটে, তবে বাংলাদেশের পেঁয়াজের দাম পুনরায় উত্থান পেতে পারে। এছাড়া, মৌসুমী পরিবর্তন, আবাদে রোগবালাই এবং লজিস্টিক্সের ব্যাঘাতও ভবিষ্যতে দামের অস্থিরতা বাড়াতে পারে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, সরকার যদি স্থানীয় উৎপাদন বাড়াতে এবং সঞ্চয় গুদাম ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে পারে, তবে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমে যাবে এবং বাজারে মূল্য স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। বর্তমানে, আমদানি করা পেঁয়াজের ল্যান্ডেড কস্ট রিটেইল দামের নিচে থাকায়, বিক্রেতা ও ভোক্তাদের জন্য স্বল্পমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

সারসংক্ষেপে, ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বৃহৎ পরিসরের পেঁয়াজ আমদানি বাজারে সরবরাহ বাড়িয়ে রিটেইল দামের হ্রাস ঘটিয়েছে, যা উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির সময় ভোক্তাদের জন্য স্বস্তি প্রদান করেছে। তবে, ভবিষ্যতে সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় উৎপাদন ও সঞ্চয় ব্যবস্থার উন্নয়ন অপরিহার্য।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments