সিডনি-এ অনুষ্ঠিত পঞ্চম অ্যাশেস টেস্টের তৃতীয় দিনের তৃতীয় সেশনে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক বেন স্টোকস এবং অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যান মার্কাস লাবুশেনের মধ্যে তীব্র কথোপকথন ঘটেছে। উভয় খেলোয়াড়ের মধ্যে কথাবার্তা গরম হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে স্টোকস লাবুশেনের কাঁধে হাত রাখেন, যা পরবর্তীতে সমালোচনার মুখে পড়ে।
সেশনের ২৯তম ওভারে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের শেষ দুই বলের পর ট্রাভিস হেড স্টোকসের ওপর চারটি রান করেন। ওভার শেষের সঙ্গে সঙ্গে দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে তর্ক শুরু হয়, যদিও তর্কের সঠিক কারণ স্পষ্ট নয়। সূর্যাস্তের আলো কমে যাওয়ায় উত্তেজনা বাড়ে বলে অনুমান করা হয়।
বাতাবরণে তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্টোকস লাবুশেনের দিকে এগিয়ে যান, তার কাঁধে হাত রেখে কথা বলতে শুরু করেন। এই অস্বাভাবিক শারীরিক সংস্পর্শের পর উভয়ের মধ্যে কথার লড়াই তীব্র হয়। স্টোকসের এই অঙ্গভঙ্গি অস্ট্রেলিয়ার ভক্ত ও বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করে।
উক্ত মুহূর্তে উম্পায়ার আহসান রাজাও মাঠে প্রবেশ করেন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। কিছুক্ষণ পর স্টোকস লাবুশেনের কাঁধে হালকা চাপ দিয়ে দূরে সরে যান। উম্পায়ারের হস্তক্ষেপের পরেও তর্কের সুর কমেনি।
পরবর্তী ওভারে স্টোকস লাবুশেনকে আউট করেন, যার স্কোর ৪৮ রান। লাবুশেনের বিদায় অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানের জন্য মাঝারি রকমের অবদান রেখে যায়, তবে তার আউট হওয়া ম্যাচের গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রাক্তন অস্ট্রেলিয়ান পেসার ব্রেট লি এই ঘটনার ওপর মন্তব্য করে বলেন, খেলোয়াড়দের পরস্পরকে স্পর্শ করা উচিত নয় এবং ইংল্যান্ডের দল এই ধরনের আচরণে দেরি করেছে। তিনি যুক্তি দেন যে ইংল্যান্ডের জাগরণে দেরি হয়েছে এবং প্রথম টেস্টে এমন পরিস্থিতি দেখা উচিত ছিল।
ব্রেট লি আরও উল্লেখ করেন যে অস্ট্রেলিয়া প্রথম তিন টেস্ট জিতে অ্যাশেস সিরিজের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এখন প্রথম তিন টেস্ট জিতে সিরিজটি নিজের হাতে রাখতে পারে। তার মতে, ইংল্যান্ডের পারফরম্যান্সে সময়মতো পরিবর্তন না হলে সিরিজের ফলাফল অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ঝুঁকে যাবে।
অস্ট্রেলিয়ার নারী দলের অধিনায়ক অ্যালিসা হিলারও এই ঘটনার ওপর মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, পঞ্চম টেস্টে এখন সময় একটু দেরি হয়ে গেছে এবং স্টোকসকে ম্যাচ রেফারির কাছে বিষয়টি নিয়ে যেতে হতে পারে। তার মতে, এমন পরিস্থিতি ম্যাচের শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য রেফারির হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
প্রাক্তন অস্ট্রেলিয়ান কিপার‑ব্যাটসম্যান অ্যাডাম গিলক্রিস্টও এই উত্তেজনা সম্পর্কে কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে পঞ্চম টেস্টের ক্লান্তি এবং দীর্ঘ সময়ের কারণে মাঠে উত্তেজনা বাড়ে। গিলক্রিস্টের মতে, স্টোকসের হাতের সংস্পর্শের উদ্দেশ্য শান্তি আনা ছিল কিনা তা স্পষ্ট নয়, তবে পরিস্থিতি তীব্রভাবে গড়ে উঠেছে।
সারসংক্ষেপে, সিডনি টেস্টের এই মুহূর্তে স্টোকসের অস্বাভাবিক অঙ্গভঙ্গি এবং লাবুশেনের আউট হওয়া ম্যাচের উন্মাদনা বাড়িয়ে দিয়েছে। সিরিজের বর্তমান অবস্থা অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে, এবং পরবর্তী টেস্টগুলোতে উভয় দলই এই উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়।



