স্কটল্যান্ডের প্রথম মন্ত্রী জন সুইনি ১৫ জুন, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের পরের দিনকে জাতীয় ব্যাংক ছুটি হিসেবে নির্ধারণের পরিকল্পনা জানিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তটি হাইতি দলের বিরুদ্ধে ১৪ জুন রাত ২ টায় ইউকে সময়ে শুরু হওয়া প্রথম ম্যাচের পরের সোমবারের জন্য।
স্কটল্যান্ডের পুরুষ জাতীয় দল ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিতে চলেছে। দলটি নভেম্বর মাসে হ্যাম্পডেন পার্কে ডেনমার্ককে ৪-২ গোলে পরাজিত করে কোয়ালিফিকেশন নিশ্চিত করেছিল, যা তৃতীয় দশকেরও বেশি সময়ের পরের বড় সাফল্য।
সুইনি উল্লেখ করেছেন, “উদ্বোধনী ম্যাচের পরের দিনকে ব্যাংক ছুটি করা হবে, যাতে ফলাফল যাই হোক না কেন, সবাই একসাথে এই মুহূর্তটি উদযাপন করতে পারে।” তিনি এই পদক্ষেপকে জাতীয় গর্বের প্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ব্রিটেনের রাজা দ্বারা স্বাক্ষরিত রয়্যাল প্রোক্লামেশন অনুযায়ী, স্কটল্যান্ডে ব্যাংক ছুটি নির্ধারণের ক্ষমতা প্রথম মন্ত্রীর পরামর্শে প্রিভি কাউন্সিলের মাধ্যমে কার্যকর হয়। ফলে স্কটল্যান্ডের সরকারি কর্মচারীরা এই ছুটির সুবিধা পাবেন, আর বেসরকারি সংস্থার সিদ্ধান্ত আলাদা হবে।
হাইতির বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচের পর, স্কটল্যান্ডের দলকে ১১ টায় রাতের ম্যাচে ব্রাজিলের মুখোমুখি হতে হবে। ১৯৯৮ সালের শেষ বিশ্বকাপে ব্রাজিল স্কটল্যান্ডকে ২-১ গোলে পরাজিত করেছিল, তাই এই ম্যাচটি অতীতের স্মৃতি জাগিয়ে তুলবে।
ম্যাচের সময়সূচি ইউকে সময়ে রাত ২ টা এবং ১১ টা হওয়ায়, স্কটিশ ভক্তদের জন্য ঘুমের সময়ে খেলায় অংশগ্রহণ করা কঠিন হতে পারে। টিকিটের উচ্চ মূল্য এবং ভ্রমণ ব্যয়ের কারণে অনেক ভক্ত ঘরে বসে ম্যাচ দেখবেন।
এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে, হসপিটালিটি শিল্পের প্রতিনিধিরা পাবের কাজের সময় বাড়ানো এবং ভক্তদের জন্য বিশেষ ফ্যান জোন স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন। লক্ষ্য হচ্ছে ভক্তদের নিরাপদ ও আরামদায়ক পরিবেশে ম্যাচ উপভোগের সুযোগ প্রদান করা।
স্কটল্যান্ডের প্রথম বিশ্বকাপ অংশগ্রহণের জন্য জাতীয় স্তরে উদযাপন পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ব্যাংক ছুটির মাধ্যমে সরকার ভক্তদের জন্য একটি বিশ্রাম দিন নিশ্চিত করতে চায়, যাতে তারা ম্যাচের পরের দিনেও উল্লাসে অংশ নিতে পারে।
সুইনি আরও উল্লেখ করেন, “বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের অংশগ্রহণ একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। ডেনমার্কের বিরুদ্ধে নাটকীয় জয় আমাদের সবাইকে গর্বের অনুভূতি দিয়েছে।” এই মন্তব্যটি দেশের ক্রীড়া উত্সাহকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।
স্কটল্যান্ডের ফিফা র্যাঙ্কিং এবং দল গঠনের বিবরণে কোনো নতুন তথ্য প্রকাশিত হয়নি; তবে দলটি এখনো প্রস্তুতি পর্যায়ে রয়েছে এবং কোচিং স্টাফের নির্দেশে প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রকাশিত সময়সূচি অনুসারে, স্কটল্যান্ডের পরবর্তী ম্যাচগুলোও রাতের সময়ে অনুষ্ঠিত হবে, যা ভক্তদের জন্য সময়সূচি সমন্বয়কে চ্যালেঞ্জিং করে তুলবে। তবে ব্যাংক ছুটির মাধ্যমে সরকার এই চ্যালেঞ্জকে কিছুটা কমাতে চায়।
সারসংক্ষেপে, স্কটল্যান্ডের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচের পরের দিনকে জাতীয় ব্যাংক ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, যা সরকারি কর্মচারীদের ছুটি নিশ্চিত করবে এবং ভক্তদের জন্য একটি বিশ্রাম ও উদযাপনের সুযোগ তৈরি করবে। এই পদক্ষেপটি দেশের ক্রীড়া উত্সাহকে সমর্থন করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।



