অবৈধভাবে কার্যক্রম বন্ধ করা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, কলকাতার একটি হাসপাতালে দুদিনের ভর্তি শেষে সোমবার হাসপাতালে থেকে ছেড়ে গেছেন। কাদেরের বয়সজনিত স্বাস্থ্যের অবনতি এবং সাম্প্রতিক শীতের প্রভাবে তার শারীরিক অবস্থার খারাপ হওয়ায় রুটিন চেক‑আপের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হওয়া প্রয়োজন হয়। দুই দিন চিকিৎসা সেবা গ্রহণের পর তিনি বাড়ি ফিরে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছেন।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাসিমের মতে, কাদেরের স্বাস্থ্যের সমস্যাগুলি মূলত বয়সজনিত এবং শীতের প্রভাবে তীব্র হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন যে কাদেরের নিয়মিত চিকিৎসা চলমান এবং এইবারের ভর্তি মূলত কিছু রুটিন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ছিল। নাসিম গুজবের বিরোধিতা করে বলেন, কাদেরকে ভেন্টিলেটরে রাখা বা অন্য কোনো গুরুতর চিকিৎসা গ্রহণের কোনো তথ্য নেই।
দলটির আরেকজন নেতা, যিনি নাম প্রকাশ না করে কথা বলেছেন, জানান যে গত সপ্তাহ থেকে কাদেরের শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকে। চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাড়িতে অক্সিজেন সরবরাহের পরেও অবস্থা উন্নত না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত দুদিনের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।
নেতা আরও উল্লেখ করেন যে দলনেত্রী শেখ হাসিনার কাছেও কাদেরের স্বাস্থ্যের খবর পৌঁছেছে এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে কাদেরের শারীরিক অবস্থার খোঁজ রাখছেন। তবে কাদেরকে কোন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তা নিয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
কাদেরের স্বাস্থ্যগত অবস্থা নিয়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভিন্নধর্মী তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। কিছু সূত্রে তাকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়েছে বলে দাবি করা হয়, অন্যদিকে কিছু মিডিয়া তাকে বাড়িতে অক্সিজেন দিয়ে চিকিৎসা করিয়ে থাকেন বলে জানায়। তবে দলীয় নেতাদের স্পষ্ট বক্তব্যের ভিত্তিতে দেখা যায়, কাদেরের রোগটি গুরুতর নয় এবং তিনি স্বাভাবিক শর্তে বাড়ি ফিরে গেছেন।
এই ঘটনার রাজনৈতিক প্রভাবও স্পষ্ট। কাদেরের স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে তার রাজনৈতিক কার্যক্রমে সাময়িক বিরতি আসবে, যা দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও কৌশলগত পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে, শেখ হাসিনার ব্যক্তিগতভাবে কাদেরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নেওয়া দলীয় সংহতি ও নেতৃত্বের দৃঢ়তা প্রকাশ করে। ভবিষ্যতে কাদেরের স্বাস্থ্যের উন্নতি হলে তিনি আবার সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক মঞ্চে ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
কাদেরের হাসপাতালে ভর্তি ও ছাড়ার তথ্যের পাশাপাশি, দলীয় নেতারা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। তারা উল্লেখ করেছেন যে কাদেরের স্বাস্থ্যের উন্নতি হলে তিনি আবার দলীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবেন এবং তার অভাবের সময়ে অন্যান্য নেতারা দায়িত্ব ভাগ করে নেবেন। এভাবে দলীয় কাঠামো স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে।
কাদেরের স্বাস্থ্যের বর্তমান অবস্থা এবং তার পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে বিশ্লেষণ করা হলে দেখা যায়, তার বয়স ও পূর্বের রোগের ইতিহাস তাকে কিছুটা সংবেদনশীল করে তুলেছে। তবে নিয়মিত চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তিনি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারেন। দলীয় নেতৃত্বের এই সতর্কতা ও সমর্থন কাদেরের পুনরুদ্ধারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা যায়।
সারসংক্ষেপে, ওবায়দুল কাদেরের কলকাতার হাসপাতালে দুদিনের ভর্তি শেষ হয়ে তিনি সোমবার ছেড়ে গেছেন। দলের নেতারা তার স্বাস্থ্যের অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য প্রদান করেছেন এবং গুজবের বিরোধিতা করেছেন। শেখ হাসিনার ব্যক্তিগতভাবে কাদেরের খোঁজ নেওয়া দলীয় সংহতি ও নেতৃত্বের দৃঢ়তা নির্দেশ করে। ভবিষ্যতে কাদেরের স্বাস্থ্যের উন্নতি হলে তিনি আবার রাজনৈতিক মঞ্চে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন, যা দলের কৌশলগত পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলবে।



