আগারগাঁওয়ের ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোট সচেতনতা কর্মশালায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আলী রীয়াজ বললেন, দেশের আগামী পাঁচ দশকের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা ভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। তিনি উল্লেখ করেন, জনগণই শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেবে যে শীঘ্রই শেখ হাসিনার মতো আর কোনো ফ্যাসিস্ট উত্থাপিত হবে কিনা।
কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল নাগরিকদের গণভোটের গুরুত্ব ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন করা। রীয়াজের মতে, যদি জুলাই সনদ সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তবে তার বাস্তবায়ন ও কার্যকরীতা সম্পর্কে চূড়ান্ত রায় জনগণই দেবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর নির্ভর না করে মানুষই সিদ্ধান্ত নেবে ভবিষ্যতে ফ্যাসিস্টের উত্থান হবে কি না, এবং শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা জনগণের হাতে থাকবে।
ড. রীয়াজ আরও উল্লেখ করেন, নতুন সংবিধানিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি চাইলেই কাউকে ক্ষমা করতে পারবেন না। এই পরিবর্তন কেবল পাঁচ বছরের জন্য নয়, বরং পরবর্তী পঞ্চাশ বছর পর্যন্ত প্রযোজ্য হবে। তিনি জেলা প্রশাসকদের কাছে অনুরোধ জানান, এই গুরুত্বপূর্ণ বিধানগুলোকে সহজ ভাষায় সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে।
কর্মশালায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আব্দুস ছালাম খান সভাপতিত্ব করেন। ধর্ম উপদেষ্টা ড. এ. এফ. এম. খালিদ হোসেনও উপস্থিত ছিলেন এবং অংশগ্রহণকারীদের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে আলোচনা সমৃদ্ধ করেন। উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা রীয়াজের বক্তব্যে সম্মতি জানিয়ে, গণভোটের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
রীয়াজের মন্তব্যের পটভূমিতে চলমান সংবিধান সংশোধনী প্রক্রিয়া রয়েছে, যেখানে জুলাই সনদ সংযোজনের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। এই সংযোজনের মাধ্যমে নাগরিকদের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। রীয়াজের মতে, সংবিধানে এই ধরণের পরিবর্তন আনা হলে, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক নেতৃত্বের গঠন ও ক্ষমতার ভারসাম্য জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী উল্লেখ করেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে ফ্যাসিস্ট শব্দটি ব্যবহার করা হয় না, তবে জনগণকে সচেতন করা দরকার যে, কোনো নেতার অতিরিক্ত ক্ষমতা সবার স্বার্থের বিপরীতে কাজ করতে পারে। তাই, গণভোটের মাধ্যমে জনগণকে ক্ষমতার সীমা নির্ধারণের সুযোগ দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়া কেবল শাসনকালের স্বচ্ছতা বাড়াবে না, বরং দেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের ভিত্তি স্থাপন করবে।
কর্মশালার শেষে রীয়াজের বক্তব্যের ওপর প্রশ্নোত্তর সেশন অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা সংবিধানিক পরিবর্তনের বাস্তবিক প্রভাব, ভোটের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা, এবং ভবিষ্যতে ফ্যাসিস্টের উত্থান রোধে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা নিয়ে আলোচনা করেন। রীয়াজ স্পষ্ট করে জানান, ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা করা এবং ভোটারদের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য।
এই কর্মশালার মাধ্যমে সরকার ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়ে গণভোটের গুরুত্ব ও প্রয়োগ সম্পর্কে ধারণা শেয়ার করেন। রীয়াজের বক্তব্যের ভিত্তিতে, আগামী পাঁচ দশকে দেশের রাজনৈতিক কাঠামো কীভাবে পরিবর্তিত হবে তা নিয়ে বিশ্লেষণ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট নীতি নির্ধারকরা এই দিকনির্দেশনা অনুসারে কাজ করবেন।
সংবিধান সংশোধনী ও গণভোটের ব্যাপারে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিশ্লেষকরা ইতিমধ্যে মত প্রকাশ করেছেন। যদিও তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন হতে পারে, তবে সবাই একমত যে, জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা উচিত। রীয়াজের মন্তব্য এই আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছে, যা দেশের রাজনৈতিক সংস্কারকে আরও দৃঢ় ভিত্তি প্রদান করবে।
সারসংক্ষেপে, ড. আলী রীয়াজের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, আগামী পাঁচ দশকে দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা, ফ্যাসিস্টের সম্ভাব্য উত্থান ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমাবদ্ধতা—all will be decided by the people through a democratic voting process. এই দৃষ্টিকোণ থেকে, সরকার ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত প্রচেষ্টা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।



