22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধরাওজানের পূর্ব গুজরা ইউনিয়নে জুবো দাল নেতা জেন আলম সিকদার গুলি হানা

রাওজানের পূর্ব গুজরা ইউনিয়নে জুবো দাল নেতা জেন আলম সিকদার গুলি হানা

রাওজান উপজেলা, পূর্ব গুজরা ইউনিয়নে সোমবার রাত প্রায় ৮ টার দিকে জুবো দাল দলের প্রাক্তন যৌথ সমন্বয়ক জেন আলম সিকদার গুলি হানার শিকার হন। গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি তার বাড়ির নিকটবর্তী চা স্টলের পাশে হেঁটে যাচ্ছিলেন, গুলিবর্ষণ শেষে অপরাধীরা দ্রুতস্থান ত্যাগ করে।

সিকদারকে গুলির পরই রায়েজ কেয়ার হাসপাতাল, বায়েজিদে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। গুলির প্রভাব তার ডানপাশের বুকে ছিল, যা দ্রুত রক্তপাতের কারণ হয়ে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়।

সিকদার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের জুবো দাল শাখার প্রাক্তন যৌথ সমন্বয়ক ছিলেন এবং স্থানীয় বিএনপি প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুগামী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার রাজনৈতিক সংযোগের ফলে স্থানীয় রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে তার পরিচয় স্পষ্ট ছিল।

রাওজানের বিএনপি গোষ্ঠীর মধ্যে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও গোলাম আকবর খোন্দকারের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ বিদ্যমান। খোন্দকার পূর্বে বিএনপি উত্তর জেলা শাখার সমন্বয়ক ছিলেন, আর এই গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ক্ষমতা ও প্রভাবের জন্য প্রায়ই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাওজান উপজেলার গত এক বছরে মোট ১৪টি হত্যা ঘটেছে, যার মধ্যে সাতটি রাজনৈতিক প্রেরণার সঙ্গে যুক্ত। প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রে গুলিবর্ষণই প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এই পরিসংখ্যান স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতির জটিলতা নির্দেশ করে।

গণপ্রজাতন্ত্রী রাওজান পুলিশ স্টেশন এই হত্যাকাণ্ডকে গুলিবর্ষণভিত্তিক অপরাধ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের সনাক্ত করার জন্য তদন্ত চালু করেছে। অপরাধস্থল থেকে প্রাপ্ত গুলি, গুলি-চিহ্নের বিশ্লেষণ এবং সাক্ষী বিবৃতি সংগ্রহের কাজ বর্তমানে চলছে।

অপরাধস্থলে উপস্থিত সিআইডি দল গুলির ক্যালিবার ও গুলিবর্ষণের দিকনির্দেশ নির্ণয়ে কাজ করছে। এছাড়া, স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রতিবেশীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে, তবে এখনো কোনো গ্রেপ্তার করা যায়নি।

পুলিশ রাওজান থানার প্রধান তদন্তকারী অফিসার উল্লেখ করেছেন যে, গুলিবর্ষণের সময় ব্যবহার করা অস্ত্রটি স্বয়ংক্রিয় রাইফেল হতে পারে এবং তা অবৈধভাবে সরবরাহ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই দিকটি তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী রাওজান জেলায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি এই ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা রোধে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে। ভবিষ্যতে নির্বাচনী সময়ে নিরাপত্তা বাড়াতে গুলিবর্ষণ সংক্রান্ত অপরাধের শাস্তি কঠোর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অপরাধের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় আদালতে মামলার রেজিস্ট্রেশন করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে। তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী প্রমাণ সংগ্রহের পর, আদালতে প্রমাণ উপস্থাপন করে দোষী সাব্যস্ত হলে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

এই ঘটনার পর রাওজান এলাকার রাজনৈতিক নেতারা শান্তি বজায় রাখতে এবং সহিংসতা বন্ধ করতে আহ্বান জানিয়েছেন। তারা স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত তদন্তের ফলাফল জানাতে এবং অপরাধীদের শিকারের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছেন।

সিকদারের পরিবার ও সমবয়সীরা শোক প্রকাশ করে গুলিবর্ষণের শিকারকে স্মরণ করছেন এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। স্থানীয় সমাজে এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হওয়ার জন্য সচেতনতা ও নিরাপত্তা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলা হচ্ছে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments