20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিট্রাম্পের বিদেশ নীতি: গ্রিনল্যান্ড ও কলম্বিয়ায় নতুন সতর্কতা

ট্রাম্পের বিদেশ নীতি: গ্রিনল্যান্ড ও কলম্বিয়ায় নতুন সতর্কতা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, দ্বিতীয় মেয়াদে তার বৈদেশিক নীতি লক্ষ্যকে তীব্র করে চলেছেন। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রীর ক্যারাকাসের সুরক্ষিত কম্পাউন্ড থেকে রাতারাতি অপহরণ করার পর, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম গোলার্ধে প্রভাব বাড়ানোর জন্য ঐতিহাসিক মনরো নীতি পুনঃনামকরণ করে “ডনরো নীতি” ঘোষণা করেন। একই সময়ে, গ্রিনল্যান্ড ও কলম্বিয়ার প্রতি নতুন সতর্কতা প্রকাশ করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার দাবি করেন।

ভেনেজুয়েলা অপারেশনটি রাতের অন্ধকারে সম্পন্ন হয়, যেখানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে ক্যারাকাসের শক্তিশালী নিরাপত্তা গেটের মধ্যে থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। ট্রাম্প এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম গোলার্ধে প্রাধান্য বজায় রাখার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং মনরো নীতির মূল ধারণা—অঞ্চলে আমেরিকান আধিপত্য—কে পুনরায় জোর দেন।

গ্রিনল্যান্ডের বিষয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা দৃষ্টিকোণ থেকে পুরো দ্বীপের দাবি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, “রাশিয়া ও চীনের জাহাজগুলো দ্বীপের চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে,” ফলে গ্রিনল্যান্ডকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি দাবি করেন। গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অংশ, যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বে প্রায় ২,০০০ মাইল দূরে অবস্থিত, এবং এতে বিরল পৃথিবী ধাতু সমৃদ্ধ, যা স্মার্টফোন, বৈদ্যুতিক গাড়ি ও সামরিক সরঞ্জামের উৎপাদনে অপরিহার্য। বর্তমানে এই ধাতুর অধিকাংশ উৎপাদন চীনের দখলে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সরবরাহ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়।

দ্বীপের ভৌগোলিক অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ; উত্তর আটলান্টিকের প্রবেশদ্বার হিসেবে এটি আর্টিক বৃত্তে প্রবেশের মূল পথ। গলিত হিমবাহের ফলে ভবিষ্যতে নতুন সমুদ্রপথ উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকায়, গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত মূল্য আরও বাড়বে।

ডেনমার্কের গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স ফ্রেডরিক নিলসেন ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান করে, তাকে “একটি কল্পনা” বলে মন্তব্য করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আর কোনো চাপ নয়, কোনো ইঙ্গিত নয়, কোনো সংযুক্তিকরণের কল্পনা নয়। আমরা সংলাপের জন্য উন্মুক্ত, তবে তা আন্তর্জাতিক আইনের সঠিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হতে হবে।” এই প্রতিক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আক্রমণাত্মক নীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগকে প্রতিফলিত করে।

ভেনেজুয়েলার অপারেশনের কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রোকে সতর্ক করেন, “তোমার পিঠে নজর রাখো” বলে সরাসরি হুমকি দেন। কলম্বিয়া, ভেনেজুয়েলার পশ্চিমে অবস্থিত, তেল, সোনা, রূপা, পन्नা, প্লাটিনাম ও কয়লার সমৃদ্ধ সম্পদে ভরপুর, এবং অঞ্চলের বাণিজ্যিক হাব হিসেবে কাজ করে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অঞ্চলে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষার অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

এই ধারাবাহিক সতর্কতা ও দাবিগুলি যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পুনর্গঠনকে নির্দেশ করে। গ্রিনল্যান্ডের সম্পদ ও কৌশলগত অবস্থান, পাশাপাশি কলম্বিয়ার প্রাকৃতিক সম্পদ, ট্রাম্পের প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জিওপলিটিক্যাল লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের এই অঞ্চলগুলিতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে, তা আন্তর্জাতিক আইনের সীমা ও সহযোগী দেশের প্রতিক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।

ট্রাম্পের নীতি পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক শক্তি, প্রযুক্তি ও সামরিক আধিপত্য বজায় রাখতে চায়, তবে একই সঙ্গে ডেনমার্ক ও কলম্বিয়ার মতো দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জটিলতা বাড়িয়ে দেয়। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই উন্নয়নকে ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করছে, কারণ এটি গ্লোবাল শক্তি ভারসাম্য ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

সংক্ষেপে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ঘোষণাগুলি যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম গোলার্ধে প্রভাব বাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করে, যেখানে গ্রিনল্যান্ডের সম্পদ ও কৌশলগত অবস্থান, এবং কলম্বিয়ার প্রাকৃতিক সম্পদকে কেন্দ্র করে নতুন চ্যালেঞ্জ ও আলোচনার দরজা খুলে দিয়েছে। এই বিষয়গুলো ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক নীতি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments