28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeস্বাস্থ্যস্বাস্থ্য অধিদফতর শীতকালীন রোগ প্রতিরোধে সাতটি নির্দেশনা জারি

স্বাস্থ্য অধিদফতর শীতকালীন রোগ প্রতিরোধে সাতটি নির্দেশনা জারি

স্বাস্থ্য অধিদফতর ৫ জানুয়ারি সোমবার শীতকালীন রোগের বিস্তার রোধে সব হাসপাতালের জন্য সাতটি নির্দেশনা প্রকাশ করেছে। নির্দেশনাগুলি ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান, পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক), স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শীতকালে রোগীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা আবশ্যক। প্রথমে, রোগীর জন্য যথাযথ কম্বল ও মশারি সরবরাহ করা হবে, যাতে তাপমাত্রা পরিবর্তনের ফলে সংক্রমণ বাড়ে না।

দ্বিতীয় ধাপ হিসেবে, শীতকালীন রোগের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় নেবুলাইজার সলিউশন, অ্যান্টিবায়োটিক, অক্সিজেন, ওরাল স্যালাইন, আইডি ফ্লুইড এবং অন্যান্য ওষুধের পর্যাপ্ত স্টক নিশ্চিত করা হবে। হাসপাতালের ফার্মেসি বিভাগকে এই সরবরাহের তদারকি করতে বলা হয়েছে।

তৃতীয় নির্দেশনা অনুযায়ী, শিশু ও মেডিকেল ওয়ার্ডে বাধ্যতামূলক দ্বিপ্রতিদিনের রাউন্ড চালু করা হবে। রাউন্ডের সময় রোগীর অবস্থা, ওষুধের ব্যবহার এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হবে।

চতুর্থ পদক্ষেপে রোগীর অভিভাবক ও পরিবারের সদস্যদের শীতকালীন রোগের লক্ষণ, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক শিক্ষা প্রদান করা হবে। এধরনের শিক্ষা রোগীর আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং রোগের বিস্তার কমাবে।

পঞ্চম নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিদিন হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি এমআইএস কন্ট্রোল রুমে পাঠাতে হবে। এতে রোগীর ভর্তি সংখ্যা, রোগের ধরন এবং চিকিৎসা সরবরাহের অবস্থা রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।

ষষ্ঠ নির্দেশনায় হাসপাতাল প্রধানদের উপর বিশেষ তদারকি আরোপ করা হয়েছে। তদারকি দল শীতকালীন রোগের প্রবণতা, রোগীর সেবা মান এবং নির্দেশনা অনুসরণের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করবে।

সপ্তম ও শেষ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, উপরের সব পদক্ষেপের সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে উচ্চ পর্যায়ের নজরদারি প্রয়োজন। তদারকি নিশ্চিত করবে যে রোগীর সেবা মান বজায় থাকবে এবং রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

এই নির্দেশনা সকল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক, বিশেষায়িত হাসপাতালের পরিচালক, জেলা সদর ও জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব হল নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

হাসপাতালগুলোকে ত্বরিতভাবে কম্বল, মশারি এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের স্টক বাড়াতে বলা হয়েছে। এছাড়া, রাউন্ডের সময় রোগীর তাপমাত্রা, শ্বাসপ্রশ্বাস এবং স্নায়ু-প্রতিবন্ধকতা পর্যবেক্ষণ করা হবে।

প্রতিটি হাসপাতালকে এমআইএস সিস্টেমে দৈনিক রিপোর্ট আপলোড করতে হবে, যাতে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দ্রুত বিশ্লেষণ করা যায়। রিপোর্টে রোগীর সংখ্যা, রোগের ধরণ এবং চিকিৎসা প্রোটোকল উল্লেখ থাকবে।

শীতকালীন রোগের ঝুঁকি কমাতে স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মসূচি চালু করা হবে। রোগীর পরিবারকে সঠিক গরম কাপড়, পুষ্টিকর খাবার এবং ঘরে পরিষ্কার বাতাসের গুরুত্ব সম্পর্কে জানানো হবে।

সামগ্রিকভাবে, স্বাস্থ্য অধিদফতর শীতকালে রোগীর নিরাপত্তা ও সেবা মান বজায় রাখতে এই সাতটি পদক্ষেপকে বাধ্যতামূলক হিসেবে ঘোষণা করেছে। হাসপাতালগুলোকে নির্দেশনা মেনে চলা এবং রোগীর সুরক্ষায় সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করা প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

শীতের কঠিন সময়ে রোগের ঝুঁকি কমাতে এই নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি। আপনার হাসপাতাল বা ক্লিনিকের ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপগুলো কীভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা জানিয়ে স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নত করা সম্ভব।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
AI-powered স্বাস্থ্য content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments