20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিডোনাল্ড ট্রাম্পের ইউএন সমালোচনা ও আন্তর্জাতিক সংঘাতের ওপর তার দাবি

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইউএন সমালোচনা ও আন্তর্জাতিক সংঘাতের ওপর তার দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে উপস্থিত হয়ে সংস্থার কার্যকারিতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি যুক্তি দেন, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সংঘটিত সাতটি শান্তি উদ্যোগে জাতিসংঘের কোনো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল না এবং সংস্থার অবহেলা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দুর্বল করেছে। এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে, জাতিসংঘের মহাসচিব যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে দাঁড়িয়ে ঘটনাটির প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন, তবে সংস্থার দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া নিয়ে সমালোচনার তীব্রতা কমে যায়নি।

ট্রাম্পের বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, গাজা, ভেনেজুয়েলা, ইউক্রেন, ইরাক, সিরিয়া, আফগানিস্তান, এল সালভাদর, সোমালিয়া, সুদান, নাইজার, জম্মু কাশ্মীর এবং ইয়েমেনের মতো বহু সংকটপূর্ণ অঞ্চলে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপের অভাব স্পষ্ট। এই দেশ ও অঞ্চলের জনগণ দীর্ঘদিনের মানবিক দুর্ভোগের মুখে রয়েছে, তবু সংস্থার কাছ থেকে যথাযথ সহায়তা বা সাড়া পাওয়া যায়নি। ট্রাম্পের মতে, এইসব পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের কার্যক্রম সীমিত এবং বাস্তবিক সহায়তা প্রদান করা হয়নি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সম্পন্ন সাতটি শান্তি প্রচেষ্টার সফলতা তুলে ধরে, যদিও কিছু ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এই সাফল্যগুলো তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্যতা প্রমাণ করে এবং একই সঙ্গে জাতিসংঘের অকার্যকারিতা প্রকাশ করে। ট্রাম্পের মন্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, “দুঃখজনকভাবে, এই কাজগুলো আমাকে নিজে করতে হয়েছে, আর জাতিসংঘ কোনো পদক্ষেপই নিতে পারেনি।”

জাতিসংঘের মহাসচিবের মন্তব্যে তিনি সংস্থার উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এই রকম সমালোচনাকে গঠনমূলক আলোচনার সুযোগ হিসেবে দেখার আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় সংস্থার ভূমিকা অপরিহার্য এবং তা উন্নত করতে সকল সদস্য রাষ্ট্রের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তবে, ট্রাম্পের সমালোচনা এবং সংস্থার সীমিত কার্যকারিতা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা তীব্রতর হয়েছে।

ট্রাম্পের বক্তব্যের মধ্যে তিনি জাতিসংঘ সদর দপ্তরে তার একবারের সফরের সময় দেখা সমস্যাগুলোরও উল্লেখ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সংস্থার মূল ভবনে একটি ভাঙা লিফট এবং নষ্ট টেলিপ্রম্পটার ছিল, যা তার মতে সংস্থার অবহেলা ও অবহেলাপ্রবণতা নির্দেশ করে। এই পর্যবেক্ষণটি সংস্থার অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের সমস্যাকে উন্মোচিত করে।

এই সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতিসংঘের সংস্কার ও কার্যকারিতা বাড়ানোর দাবি পুনরায় তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে, মানবিক সংকটের মুখে থাকা দেশগুলোতে ত্বরিত সহায়তা প্রদান এবং সংস্থার কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করার জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা জোরদার হয়েছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নীতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার দিকনির্দেশনা নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।

জাতিসংঘের দৃষ্টিকোণ থেকে, সংস্থার মূল ম্যান্ডেট হল শান্তি রক্ষা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং মানবিক সাহায্য প্রদান। তবে, ট্রাম্পের সমালোচনা এবং সংস্থার কার্যকরী সীমাবদ্ধতা উভয়ই আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। ভবিষ্যতে, সংস্থার কাঠামো ও কার্যপ্রণালী পুনর্বিবেচনা করা, সদস্য রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলতা বাড়ানো এবং মানবিক সংকটে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন হবে।

সংক্ষেপে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতিসংঘের প্রতি সমালোচনা এবং তার স্বীকৃত শান্তি উদ্যোগের দাবি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে সংস্থার ভূমিকা নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে। এই আলোচনার ফলাফল কীভাবে সংস্থার সংস্কার, যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক নীতি এবং বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রচেষ্টাকে প্রভাবিত করবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments