তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সোমবার একটি চিঠি জারি করে বাংলাদেশের সকল টেলিভিশন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) এর কোনো ম্যাচ বা সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠান সম্প্রচার না করার নির্দেশ দেয়। এই সিদ্ধান্তের পেছনে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) কর্তৃক ৩ জানুয়ারি মোস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) দলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে, যা বাংলাদেশি ক্রিকেট ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে।
বিসিসিআইয়ের এই পদক্ষেপের কোনো স্পষ্ট কারণ প্রকাশিত না হওয়ায় বাংলাদেশি ক্রিকেট সমিতি (বিসিবি) দ্রুতই আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের দাবি জানায়। বিসিবি জানায়, মোস্তাফিজুরের বাদ পড়া দেশের ক্রিকেটের মর্যাদাকে আঘাত করেছে এবং এই পরিস্থিতিতে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ না করা হলে জনমত আরও তীব্র হবে।
আইপিএল-এ মোস্তাফিজুরের অংশগ্রহণের পরিকল্পনা ছিল কেকেআরের হয়ে, তবে বিসিসিআইয়ের হঠাৎ নির্দেশে তিনি দল থেকে বাদ পড়েন। এই ঘটনার পর বিসিবি তৎক্ষণাৎ আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের জন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন জানায়।
আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের প্রস্তাব প্রথমে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলের মাধ্যমে উপস্থাপিত হয়। তিনি তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টাকে অনুরোধ করেন যে, মোস্তাফিজুরের বাদ পড়ার প্রতিক্রিয়ায় দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে আইপিএল সম্প্রচার থেকে বিরত রাখতে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এরপর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানান, আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের আইনি ভিত্তি এবং প্রয়োগের পদ্ধতি নিয়ে বর্তমানে পর্যালোচনা চলছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই বিষয়টি কোনো একক চ্যানেলের বিষয় নয়, বরং সমগ্র দেশের মিডিয়া ক্ষেত্রকে প্রভাবিত করবে; তাই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আইপিএল-এর সব ম্যাচ, হাইলাইট, বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট কোনো প্রোগ্রাম এখন থেকে বন্ধ থাকবে। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পরবর্তী কোনো নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বজায় থাকবে।
চিঠি প্রাপ্ত টেলিকম ও কেবল টেলিভিশন সংস্থাগুলোকে অবিলম্বে আইপিএল সংক্রান্ত সব কন্টেন্ট বন্ধ করতে বলা হয়েছে। সম্প্রচার সংস্থাগুলোকে জানানো হয়েছে, যদি কোনো চ্যানেল এই নির্দেশ লঙ্ঘন করে, তবে তা আইনি পদক্ষেপের আওতায় আসতে পারে।
মোস্তাফিজুরের বাদ পড়া এবং আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের ফলে বিসিবি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ভারতের দিকে দল পাঠানোর পরিকল্পনাও পুনর্বিবেচনা করেছে। বিসিবি জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দলকে ভারতীয় মাটিতে পাঠানো সম্ভব নয় এবং বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিসিবি ও সরকারী কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, মোস্তাফিজুরের বাদ পড়া দেশের ক্রিকেটের স্বার্থের বিরোধী এবং এটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ন্যায়বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের ভক্তদের মধ্যে রাগ ও হতাশা দেখা দিয়েছে, যা মিডিয়ার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।
টেলিভিশন চ্যানেলগুলো এখন আইপিএল সম্পর্কিত বিজ্ঞাপন, স্পনসরশিপ এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক চুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করতে বাধ্য। এই পদক্ষেপের ফলে বিজ্ঞাপনদাতাদের আর্থিক ক্ষতি হতে পারে, তবে সরকারী নির্দেশ মেনে চলা বাধ্যতামূলক।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের বিষয়ে পরবর্তী নির্দেশনা দেওয়া পর্যন্ত সব সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে বর্তমান নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে হবে। আইপিএল সংক্রান্ত কোনো আপডেট বা পরিবর্তন হলে তা দ্রুত জানানো হবে।
এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নীতি, খেলোয়াড়ের অধিকার এবং জাতীয় গর্বের সংযোগস্থলে নতুন আলোচনার দরজা খুলে দিয়েছে। বর্তমান সময়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, বিসিবি এবং সংশ্লিষ্ট আইনগত সংস্থা একসাথে কাজ করে সমস্যার সমাধান খুঁজছে, যাতে দেশের ক্রিকেটের স্বার্থ রক্ষা করা যায়।



